Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধ শিল্পে মেধাসত্ত্বে ছাড় পেল বাংলাদেশ

নভেম্বর ৮, ২০১৫
জাতীয়
No Comment

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট:d8af0e6ab0cb82828b79885080776dad

২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধ শিল্পে মেধাসত্ত্বে ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে দেশের ওষুধের দাম বৃদ্ধি ও রফতানি বাজার হারানোর যে ঝুঁকি ছিল তা কেটে গেল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খবরটি নিঃসন্দেহে দেশের জন্য সুখবর। কারণ, এখন যে প্যারাসিটামল মাত্র ৮০ পয়সায় কেনা যাচ্ছে, এই মেধাসত্ত্ব সুবিধা উঠে গেলে তা কিনতে হবে আড়াই থেকে তিন টাকায়। তবে ২০৩৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোকে সব ধরনের ওষুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার প্রতি জোর দেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ৬ নভেম্বর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সম্পর্কিত মেধাসত্ত্ব অধিকার (ট্রিপস) কাউন্সিল বাংলাদেশসহ স্বল্পন্নোত সদস্য দেশগুলোকে (এলডিসি) মেধাসত্ত্বে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফার্মসিউটিক্যাল পণ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ডব্লিওটিও ঘোষিত বর্ধিত এ সুবিধা পেল এসব দেশ।

কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ফলে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো এ সময়কালে ফার্মসিউটিক্যাল পেটেন্ট এবং ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণ করার বিষয়ে স্বাধীনতা ভোগ করবে। তবে পরবর্তীতে এ সুযোগ আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এর আগে ২০০১ সালে ট্রিপস সমঝোতা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক ডব্লিওটিওভুক্ত দেশসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের দোহা ঘোষণায় দেওয়া এ সম্পর্কিত নিদের্শনাটি চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।

কাউন্সিল জাতিসংঘের নতুন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে অনুসরণ করে নতুন ঘোষণা দিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রায় সবার জন্য ওষুধের নিশ্চয়তার জন্য উন্নয়নশীল দেশসমূহের ট্রিপস সমঝোতায় নমনীয়তা পাওয়ার অধিকারের কথা বলা হয়।

কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ডব্লিওটিওর মহাপরিচালক রবার্তো আজিভেদো বলেন, ট্রিপস কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্ত সংস্থার দরিদ্রতম সদস্যের অভাবের প্রতি ডব্লিওটিও সদস্যদের অঙ্গীকারবোধের একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন। আগামী মাসে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সংকটকে কেন্দ্রে রেখে নাইরোবিতে ডব্লিউটিও’র মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। কাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা এখন ডব্লিওটিওর দ্বায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

ট্রিপস কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্ত সাধারণ কাউন্সিলের সিদ্ধান্তেও অনুসৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণ কাউন্সিলে এছাড়াও এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য বিরাজমান বাজারসুবিধা বর্ধিত করবার কথা রয়েছে। এছাড়াও এ দেশগুলো থেকে আসা পেটেন্ট আবেদন বিবেচনা করার ক্ষেত্রেও সুবিধা প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে। এ দুটি সুবিধাও ২০৩৩ সাল পর্যন্ত দেওয়া হবে। ওষুধের পেটেন্ট বাধা অপসারণের কার্যকারিতাকে সুবিধা দুটি আরো সম্প্রসারিত করবে।

ডব্লিওটিওতে এলডিসিভুক্ত দেশের জোট সমন্বয়ক নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুল জেনারেল শামীম আহসান কাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোরই ওষুধের প্রয়োজন সর্বাধিক। যদিও তাতে তাদের প্রবেশযোগ্যতা নেই। এ সিদ্ধান্ত এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ওষুধ উৎপাদন ও ব্যবহারে প্রয়োজনীয় আইনি নিশ্চয়তাকে নিশ্চিত করেছে। ২০৩৩ সাল পর্যন্ত শিথিলকরণের এ সিদ্ধান্ত এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন উন্নয়ন পন্থা হিসেবে এসডিজি ঘোষণার এক মাস পরই এ সিদ্ধান্তে আসলো।

এ বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. ইয়াহিয়া বলেন, ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ওষুধ উত্পাদনের ক্ষেত্রে মেধাসত্ত্ব ছাড় পাওয়ার বিষয়টি একটি বিরাট অর্জন। এতে দেশের মানুষ কম মূল্যে যে কোনো ওষুধ পাবে।

২০০১ সালের ডাব্লুটিও মেধাস্বত্ত্ব অধিকারের বাণিজ্য বিষয়ক (ট্রিপস)ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশসহ এলডিসিভুক্ত দেশগুলো বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে সক্ষমতা তৈরি করবে। তবে বাংলাদেশ এখনও ওষুধ শিল্পে কাঁচামাল তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। তবে মেধাসত্ত্ব’র মেয়াদ বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত নিজেদের সক্ষমতা তৈরির সুযোগ পেল বাংলাদেশ।

১৯৯৫ সালে ডব্লিউটিও প্রতিষ্ঠার পরের বছর ট্রিপস চুক্তি সম্পাদন হয়। এ চুক্তির মাধ্যমে ট্রেডমার্ক, কপিরাইট, পেটেন্ট ডিজাইনসহ মেধাসত্ত্বের অধিকার সংরক্ষণ করা হয়। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রথম দফায় স্বল্পোন্নত দেশের জন্য ১০ বছর সময় দেওয়া হয়েছিল। ফার্মাসিউটিক্যালসের বাইরে অন্য ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত অব্যাহতি ছিল, যা পরবর্তীতে আরও ৮ বছর বাড়ানো হয়েছে।