Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

১৫ আগস্ট বন্ধ হচ্ছে সিটিসেল

অগাষ্ট ১, ২০১৬
তথ্য ও প্রযুক্তি
No Comment

Citycell- BTRCতথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক:
লাইফ সাপোর্টেও কাজ হলো না। আগামী ১৫ আগস্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সিটিসেলকে বন্ধ ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে। মোটা অংকের রাজস্ব বকেয়া এবং পরিশোধে গড়িমসি করায় সিটিসেলের লাইসেন্স ও তরঙ্গ বাতিল এবং অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ করে অপারেটরটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার।

রোববার সিটিসেলের গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানিয়ে বিটিআরসি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিকল্প সেবা গ্রহণের জন্য গ্রাহকদের আহ্বান জানিয়েছে।

দেশের সবচেয়ে পুরনো মোবাইল অপারেটর সিটিসেলের বর্তমানে সারাদেশে সব মিলে ৮৭৬টি টাওয়ারের (বিটিএস) মধ্যে প্রায় ৭০০টি বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ১৭৬টি টাওয়ারও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বিগত দুই মাস লাইফ সাপোর্টে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল সিটিসেলকে।

গত বছরের নভেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির কাছে সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে টুজি লাইসেন্সের আওতায় তরঙ্গ বরাদ্দ ও নবায়ন ফি বাবদ পাওনার পরিমাণ ২২৯ কোটি টাকা। এছাড়া রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ পাওনা দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, তরঙ্গ বরাদ্দ চার্জ বাবদ ১৯ কোটি ৭৫ লাখ, সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের ৭ কোটি ৪৫ লাখ ও লাইসেন্স ফি বাবদ ৫ কোটি টাকা।

আর্থিক সংকটের কারণে এ অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জানিয়েছে সিটিসেল। এজন্য একাধিকবার অর্থ পরিশোধের সময় বৃদ্ধির আবেদনও করে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্রাহক সংখ্যার বিচারে সিটিসেল এখন মৃতপ্রায়। অপারেটরটির গ্রাহক সংখ্যা এখন শূন্যের কোটায়, টাওয়ারের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করতে পারায় সারাদেশে ৮৭৬টির মধ্যে ৭০০ বিটিএস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে অধিকাংশ গ্রাহক সেবাকেন্দ্র বন্ধ, কর্মীদের তিন মাসের বেতন বকেয়া, নতুন ট্রেড ইউনিয়নের চাপ, বিটিআরসির কাছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বকেয়া, বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ১ হাজার কোটি টাকার ওপর ঋণসহ নানা সংকটের কারণে অপারেটরটির লেজে গোবর অবস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে সিটিসেলের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি। এদিকে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে সিটিসেলের টাওয়ার বন্ধ হলেও এর চেয়ে বড় দেনা রয়েছে বিটিআরসির কাছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে বিটিআরসি থেকে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল। যাত্রার সময় এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম সেলফোন কোম্পানি। প্রথম থেকে সিটিসেল বাংলাদেশের একমাত্র সিডিএমএ মোবাইল অপারেটর হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানিটির বর্তমানে ৪৫ শতাংশ মালিকানা সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি সিংটেলের আর ৫৫ শতাংশ মালিকানা দেশীয় প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্রুপ ও ফারইস্ট টেলিকমের।

বর্তমানে সিটিসেলের মার্কেট শেয়ার ১ শতাংশও নেই। ২০০৭ সালে সিটিসেলের মার্কেট শেয়ার ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ২০০৮ সালে ছিল ৩.৮৯ শতাংশ। ২০০৯ সালে কিছুটা বাড়লেও ২০১০ সালে কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৩১ শতাংশে। ২০১১ সালে হয় ২ দশমিক ২৬ শতাংশে আর ২০১২ সালে এসে দাঁড়ায় ২.০১ শতাংশে। ২০১৩ সালে সে মার্কেট শেয়ার ১ শতাংশের নিচে নেমে আসে। ২০১৪ সালের শেষ দিকে আরো অর্ধেকে নেমে আসে।