Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

‘হুমায়ুন আহমেদ স্মৃতি যাদুঘর’র কাজ নূহাশ পল্লীতে খুব শ্রীঘ্রই শুরু হবে- শাওন

জুলাই ১৯, ২০১৭
গাজীপুর সদর, জাতীয়
No Comment


নিজস্ব প্রতিবেদক : কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরানখানী, মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে গতকাল বুধবার গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে প্রয়াত জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক, নাট্যকার, উপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদের ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে মেহের আফরোজ শাওন তার দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিদকে নিয়ে নুহাশপল্লীতে আসেন। দুপুর পৌণে ১২টার দিকে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করেন তিনি। এ সময় মেহের আফরোজ শাওনের পিতা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, মা সাবেক এমপি তহুর আলী, নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা কর্মচারীরা ও হুমায়ুনভক্ত ও হিমু উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন- ‘হুমায়ুন আহমেদ স্মৃতি যাদুঘর’ নূহাশ পল্লীতে হবে। খুব শ্রীঘ্রই আমরা কাজ শুরু করব। আশা করছি- আগামী ১৩ নভেম্বর হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিনে ‘হুমায়ুন আহমেদ যাদুঘর’র একটা অংশ উদ্ভোধন হবে।
শাওন বলেন- হুমায়ুন আহমেদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন তার প্রিয়স্থান ‘নূহাশ পল্লী’ ভালমতো আছে। তিনি যে সবুজ, বৃক্ষ পছন্দ করতেন। সে সবুজে, বৃক্ষে, বৃক্ষের ছায়ায় মাখামাখি হয়ে আছে হুমায়ুন আহমেদের নূহাশ পল্লী। এ ছাড়া হুমায়ুন আহমেদের স্কুলটি ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠ’ খুব ভাল অবস্থানে আছে। এ বছর ওই স্কুলটির জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল খুব ভাল। এসএসসি পরীক্ষায় একশভাগ পাশ করেছে। বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ে ‘এ প্লাস’ পেয়েছে। হুমায়ুন আহমেদের এ দুটি স্বপ্ল ভাল ভাবেই পূরণ হচ্ছে।

তিনি বলেন, হুমায়ুন আহমেদের আরেকটি বড় স্বপ্ন ক্যান্সার হাসপাতাল। ক্যান্সার হাসপাতালের স্বপ্লটা আমার একার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। যারা এদেশের গুনীজন আছেন, নীতি নির্ধারকরা আছেন, তাদের কাছে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি- আপনারা সবাই মিলে যদি একটু উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন, আমি আমার পক্ষ থেকে যতটুকু করবার আমি করব। কিন্ত একা আমার আহবানে একটা ক্যানসার হাসপাতাল। যেটা হুমায়ুন আহমেদের একটা আহবানে সম্ভব ছিল। হুমায়ুন আহমেদের ডাকে বাংলাদেশের তার ভক্ত, পাঠক, দর্শকরা যেভাবে একত্রিত হতো। আমার ডাকে সেটা হবে না। আমি আছি, থাকব। ক্যান্সার হাসপাতালের উদ্দ্যোগটা গোষ্ঠিবদ্ধভাবে নিতে হবে। যারা নীতিনির্ধরকরা আছেন, গুনীজন-বুদ্ধিজীবীরা আছেন, আমি তাদের কাছে অনুরোধ করছি একটা উদ্যোগ নেবার। যেন সেই ন্বপ্নটা সবাই মিলে পূরণ করতে পারি।
এর আগে হুমায়ুন আহমেদের তিন বোন সুফিয়া হায়দার, মমতাজ শহীদ, রোকসানা আহমেদ নুহাশপল্লীতে যান এবং কবর জিয়ারত করেন। এ ছাড়া ঢাকা ও বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক ‘হিমু’ নুহাশপল্লীতে যান। পরে তারা হুমায়ুন আহমেদের কবর জিয়ারত ও পু®পস্তবক অর্পণ করেন।
সকালে হুমায়ুন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে আসেন বেশ কয়েকজন প্রকাশক ও নাট্য অভিনেতা। এদের মধ্যে রয়েছেন- অন্য প্রকাশনীর মালিক মাহাজাহরুল ইসলাম, অবসর প্রকাশনীর প্রকাশক আলমগীর রহমান ও প্রতীক প্রকাশনীর নূর-ই- মোস্তাকিন আলমগীর, নাট্য অভিনেতা সৈয়দ হাসান সোহেল, এবং মারজুন মিজান প্রমুখ।

এদিকে সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে কয়েকশত ভক্ত নুহাশপল্লীতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তাদের অনেকেই তার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং প্রিয় লেখকের কবরে ফুল দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানান।