Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮

হাটহাজারীতে পিকেটারদের ধাওয়ায় টেম্পু উল্টে নিহত ১

নভেম্বর ১০, ২০১৩
চট্রগ্রাম, রাজনীতি
No Comment

মোঃ আলমগীর হোসেন, চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ঃ
নির্মল দাশ(৪৫)। চাকরি করেন বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের ওটি বিভাগে। হরতাল হোক আর অন্য কিছু চাকরিতে উপস্থিত চাই। প্রতিদিনের মত তাই ভোরে ঘুম থেকে উঠে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী বিমলা দাশও ভোরে উঠে ¯^ামীকে কর্মস্থলে পাঠানোর পর ঘরের বাকি কাজকর্ম করছিলেন। হঠাৎ শুনতে পেলেন দূর্ঘটনার কথা। পিকেটারদের ধাওয়ায় টেম্পু উল্টে নির্মল গুরুতর আহত হয়েছে। মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। যে মানুষ ১৫ মিনিট পূর্বে ঘর থেকে সুস্থ সবল বের হয়ে গেলেন, তিনি এখন গুরুতর আহত। মূমুর্ষ অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। নিকট আত্মীয় ¯^জনকে নিযে ছুটে গেলেন চমেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে। কিন্তু ততক্ষনে নির্মল চলে গেলেন না ফেরার দেশে। যেখান থেকে কেউই আর ফিরে আসেনা। শুরু হল কান্নার রুল। নিমর্ল দাশের আত্মীয় শ্বজনের কান্নায় হাসপাতালের মর্গের পরিবেশ ভারী হয়ে গেল।
নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবীতে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা দেশব্যাপী ৮৪ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিনে রবিবার হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।  নিহত নির্মল দাশ হাটহাজারীর দক্ষিন মার্দাশা মদুনাঘাট এলাকার জলদাশ পাড়ার প্রিয়হরি দাশের পুত্র । তার দুই মেয়ে ও এক ছেরে আছে। পিকেটারদের ধাওয়ায় টেম্পু নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার পথে সকাল পৌনে সাতটায় এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ,প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারিকসূত্রে জানা যায়, নিহত নির্মল দাশ চট্টগ্রাম নগরীর ফয়েস লেকস্থ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের (ইউএসটিসি) ওটি (অপারেশন থিয়েটার) বিভাগে চাকরি করত। প্রত্যেক দিনের মত রোববারও কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য সকাল সাড়ে ছয়টায় দিকে দক্ষিন মার্দাশা নিজ বাড়ী হতে বের হয়। হরতালের কারনে সড়কে যানবাহন না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়ায় নগরীতে যাওয়ার জন্য সিএনজি চালিত টেম্পুতে উঠেন। টেম্পুটি চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কের নিয়ামত আলী সংযোগ সড়ক এলাকায় আসলে পিকেটাররা গাড়ীটিকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এ পর্যায়ে পিকেটাররা গাড়ীটি থামিয়ে উল্টে দিতে চেষ্টা করে। পিকেটারদের হাত থেকে টেম্পুকে রক্ষার জন্য দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে টেম্পুটি উল্টে যায়। এতে গুরুতর আহত হন গাড়ীতে থাকা নির্মল দাশ। স্থানীয়রা নির্মল দাশকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। আয়ের একমাত্র উৎসকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা যেন নির্বাক। স্ত্রী বিমলা বারবার মুর্চা যাচ্ছেন। নির্মলের ছেলে মেয়েরা বাবা বাবা বলে অবিরাম কাঁদছে।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ এ.কে.এম.লিয়াকত আলী ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন নির্মলের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।