Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ায় হামলাকারী জঙ্গিরা অতি আধুনিক সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠেছিল —- গাজীপুরে পুলিশের আইজিপি

SAMSUNG CAMERA PICTURES

SAMSUNG CAMERA PICTURES

নিজস্ব প্রতিনিধি:
পুলিশের আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেছেন, তামিমেরা মাদ্রাসায় পড়েনি। তারা অতি আধুনিক সংস্কৃতিতে চলাফেরা করেছে। শনিবার নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সদস্যরা তামিমদের ঘেরাও করে ফেলেছিল। তাদেরকে সাড়ে তিন ঘন্টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল আত্নসমর্পণের জন্য। তাদের কাছে অস্ত্র ছিল। তারা সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য। আত্নসমর্পণ না করায় আমাদের পুলিশ বাহিনীও মৃত্যু ঝুঁকিতে ছিল। পরে তাদের সঙ্গে পুলিশের মোকাবিলা করা হয়েছে। অবশেষে জঙ্গিরা মৃত্যুবরণ করেছে।
তিনি শনিবার বিকালে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে জেলা পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত জঙ্গিবাদ, নাশকতা, মাদকবিরোধী ওলামা- মাশায়েখ ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম কিন্তু কতিপয় স্বার্থান্বোষী ইসলামের নামে বদনাম করছে। তারা ইসলাম জানেনা, এক আধটু সুরা মুখস্ত করে মানুষকে জেহাদের পথে ডাকছে, মানুষ হত্যা করছে। যারা মাদ্রাসায় পড়ে তারা জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত নয়। যারা মাদ্রাসায় পড়ে বিশেষ কোনো দলের সাথে সম্পৃক্ত তারা মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে এসে জঙ্গিতে যুক্ত হয়েছিল। যেহেতু জঙ্গিবাদের সাথে ইসলামকে মিলানো হয়েছে, তাই ইসলামকে বদনাম থেকে বাঁচাতে শিক্ষক, আলেম ওলামা-মাশায়েখসহ সকল শ্রেণীর মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত আল্লাহতায়ালা তাদের শাস্তি দিবেন। তারপরও আমাদের সকলকে আমাদের পরিবার পরিজন সন্তান সন্ততিসহ সকল স্তরের মানুষকে নিরাপত্তার জন্য বুঝাতে হবে।
আইজিপি বলেন, জঙ্গিরা গ্রেফতারের পর তারা ইসলাম বাঁচাতে মানুষ হত্যার কথা বলেছে। তারা বলেছে মৃত্যুর পর তারা বেহেশতে যাবে। নারী জঙ্গিরাও একই কথা বলেছে। তারা সকলে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা পেয়েছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বিপিএম, পিপিএম (বার) এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েল ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী মোজাম্মেল হক, গাজীপুর আদালতের পিপি হারিছ উদ্দিন আহমেদ, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, আওয়ামীলীগ নেতা জামিল হাসান দূর্জয়, ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, গাজীপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনুল ইসলাম, মাওলানা ফজলুর রহমান, মুফতি মাসুদ করিম, মাওলানা লেহাজ উদ্দিন ভ‚ইয়া, কাপাসিয়া বঙ্গতাজ কলেজের অধ্যক্ষ পীরে কামেল মাওলানা মীযানুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ ইউনিাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা ইসমাইল হোসেন, মাওলানা আব্দুল মান্নান বাজিতপুরী, অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন খান প্রমুখ।
এর আগে দুপুর থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ওলামা-মাশায়েখ, কমিউনিটি পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সুধীজন জেলা শহরের রাজবাড়ি মাঠে এসে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে সমাবেশের ব্যাপ্তি মাঠের প্যান্ডেল ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তা ঘাটে ছড়িয়ে পড়ে। সমাবেশটি মহা সমাবেশে রূপনেয়।
পরে কমিউিনিটি পুলিশিং কার্যক্রমসহ সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর, জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউর হাসান রেজা ও কমিউনিটি পুলিশের গাজীপুর হাইওয়ে শাখার সভাপতি সুলতান আহমেদ আহমেদ সরকারকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।