Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

স্ত্রীর সাথে ধস্তাধস্তিতে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল স্বামীর

সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮
অপরাধ, আইন- আদালত, শ্রীপুর, হত্যা
No Comment

শ্রীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিম খন্ড (দারগারচালা) গ্রামে স্বামী ছুরিকাঘাতে স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। এসময় স্ত্রী আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে স্বামীও ছুরি আঘাতে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার হাসপাতালে নেয়ার পথে স্বামী মারা যায় ও স্ত্রীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিতিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এঘটনা ঘটে। নিহত মোর্শেদ আলম (২৩) নরসিংদী জেলার পলাশ থানার তারগাঁও গ্রামের সিরাজ সরকারের ছেলে। স্বপ্না আক্তার (২০) কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে। মোর্শেদ আলমের সাথে স্বপ্নার প্রায় সাত বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে পরিবারের অমতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মোর্শেদ তার স্ত্রীসহ তার শ্বশুড়বাড়ীতে বসবাস করে স্থানীয় টি ডিজাইন নামক কারখানায় ও স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বেড়াইদেরচালা গ্রামের এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেড নামের কারখানায় চাকরী করতো।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে স্বপ্নার ভাই মো. শাহজালাল জানান, গত সাত বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে স্বপ্না ও মোর্শেদ আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের বিষয়টি ছেলের পরিবার মেনে না নেয়ায় মেয়ের পরিবারের পাশে একটি বাড়িতে তারা বসবাস করতো। বিভিন্ন সময় নানা কারণে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। শনিবার সকালে স্বপ্না কারখানার কাজে যোগ দেয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়। বাড়ি থেকে সড়ক ধরে হেঁটে কিছু দুর যাওয়ার পরই স্বামী স্বপ্নার পথরোধ করে। এনিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তাতি হয়। এরই এক পর্যায়ে মোর্শেদের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন ও স্বপ্না আত্ম রক্ষার্থে ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করে। এতে দুজনই গুরুতর আহতবস্থায় ঘটনাস্থলে পরে থাকে। এসময় ঘটনা পথচারীরা দেখতে পেয়ে ডাকচিৎকার শুরু করলে স্বজনরা এসে দুজনকে উদ্ধার করেন।

পরে স্থানীয়রা মোর্শেদকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকত তাকে মৃত ঘোষণা করে। গুরুতর আহত স্বপ্নাকে উদ্ধার করে প্রথম মাওনার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রায়হান আহমেদ জানান, মোর্শেদকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ ইসলাম জানান, কিভাবে ঘটনা কিভাবে হলো বা এর সাথে আরো কেউ সম্পৃক্ত আছে কিনা, তার বের করতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। খুব দ্রæত সময়ের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হবে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।