Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

সোলারের আলোয় আলোকিত হচ্ছে নওগাঁর প্রত্যন্ত অঞ্চল

অক্টোবর ৬, ২০১৭
নওগাঁ
No Comment

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: বিদ্যুতের আলোর কথা স্বপ্নের কল্পনাতেও আসেনি কখনো। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর যেখানে ঘন্টা খানেক কেরোসিনের কুপি বা হারিকেন জ্বালানো হতো। এরপর অন্ধকারে থাকতে হতো সারারাত। প্রয়োজনে একটু জ্বালানো হলেও আবার কুপি নিভিয়ে রাখা হতো। কারণ সারারাত কুপি জ্বালিয়ে রাখা বা গভীর রাত পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের সেই আলোতে পড়ার জন্য যথেষ্ট ছিলনা। এটি ছিল নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার উমার ইউনিয়নের উমরপুর হঠাৎপাড়া প্রত্যান্ত গ্রামঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র।

কিন্তু আজ সে সময় পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে সেসব এলাকার মানুষের চিন্তা চেতনা। নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌছানো সম্ভব না হলেও সোলারের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌছানো হয়েছে বিদ্যুতের আলো। সেখানে আজ সরকারি খরচে বিদ্যুৎ পেয়ে তারা আনন্দিত ও উচ্ছসিত।

বিদ্যুৎ আমাদের জীবনের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষে প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌছানো অঙ্গীকার নিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বিকল্প হিসেবে পদক্ষেপ নিয়েছেন সোলার প্যানেল স্থাপন। আর এটির মাধ্যমে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌছাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছেন প্রত্যান্ত অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষ।

প্রত্যান্ত এ উমরপুর হঠাৎপাড়া গ্রামে প্রায় ১২০ টি পরিবার মুসলিম ও আদিবাসীর/ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর বসবাস। গ্রামটি ছিল দীর্ঘদিন বিদ্যুৎবিহীন। গত দুই মাস আগ থেকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে স্ইুচ টিপলেই বিদ্যুতের আলো পাচ্ছেন তারা। তাদের আর কেরোসিন কিনে কুপি বা হারিকেন জ্বালানের প্রয়োজন হচ্ছেনা। ২৪ ঘন্টায় সোলারের আলো ব্যবহার করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতে পারছে। সেই সাথে মোবাইলে চার্জ ও ১২ ভোল্টের মর্টারে মাধ্যমে ফ্যানের বাতাসও পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুতের কল্যাণে আজ বদলে গিয়েছে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃশ্যপট এবং শিক্ষা ব্যবস্থা। বদলে গিয়েছে জীবন যাত্রা।

সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে সোলারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা দিলেও ভবিষ্যৎ এটার কি হবে। এর দেখভাল করবেন কে? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের? সোলারের প্যানেলের ব্যাটারির ওয়ারেন্টির পর নষ্ট হয়ে গেলে হয়তো তা পড়ে থাকবে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্খা থাকবে।

নবম শ্রেনীর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা জানায়, আগে হারিকেনের আলোতে রাত জেগে পড়াশুনা করতে কষ্ট হতো। এছাড়া গরমের সময় হতো আরো সমস্যা। হারিকেনের তাপ ও মিটমিটে লাল আলোয় চোখের উপর চাপ পড়তো। মাথাও ব্যাথা করতো। এখন সোলার আলোতে রাত জেগে পড়তে পারছি। ভালও লাগছে।

আদিবাসী জাচিনতা হে¤্রম বলেন, সন্ধ্যায় বাতির আলোয় রান্না ও খাবারের কাজে ব্যবহৃত হতো। প্রতিমাসে প্রায় কেরোসিনে ২০০-২৫০ টাকার মতো তেল কিনতে খরচ হতো। তারপর সারারাত অন্ধকারে থাকতে হতো। খরচ বাঁচাতে ছেলেমেয়েদের দিনের আলোতেই পড়তে হতো। এখন সম্পূর্ন বাড়িতেই আলোতে আলোময় হয়ে থাকছে।

দরজি লাইলি বানু বলেন, সেলাইয়ের কাজ বেশির ভাগ দিনেই করতো হতো। কিন্তু সরকার থেকে সোলার পাওয়াতে এখন রাতেও সেলাইয়ের কাজ করতে পারছি। সেই আলোতে বাচ্চাদেরও পড়াতে পারছি এবং নিজেও কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করতে পারছি।

ধামইরহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ই¯্রাফিল হোসেন বলেন, এ উপজেলায় এ বছর ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সোলার স্থাপনে বরাদ্দ ছিল। এখানে বিদ্যুৎবিহীন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৬৯৭ টি দরিদ্র পরিবারে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। ফলে দরিদ্রের হার কমতে শুরু করেছে। সেই সাথে শিক্ষা প্রসারও ঘটছে।

নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা এ.কে.এম. মান্নান বলেন, বাংলাদেশের কোথায়ও অন্ধকার থাকবে না। সবস্থানে বিদ্যুতের আলো পৌছানো হবে। গ্রামের প্রত্যান্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌছানো হবে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তবে সোলারের সুফল এবং কুফল আছে। সুফল টা হচ্ছে ওয়ারেন্টি আছে।

তিনি আরো বলেন, বাজারের তুলনায় ‘ইডকল’ কর্তৃক অনুমোদিত সোলার প্যানেলের খরচ কিছুটা বেশি ধরা হয়েছে। সরকার আগামীতে এ প্রকল্পের বিষয়টিকে মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ করেছেন এ কর্মকর্তা। এতে দাম কিছুটা হলেও কমের মধ্যে আসবে।

২০১৬-১৭ অর্থ বছরে জেলায় টি,আর ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ কোটি ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যায়ে সোলার প্যানেল ও রাস্তায় ল্যাম্প পোস্টের কাজ করা হয়।