Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮

সিলেটের শিশু রাজন হত্যা মামলার রায় কাল

নভেম্বর ৮, ২০১৫
আইন- আদালত, জাতীয়
No Comment

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট:Rajon-Hotta copy

চাঞ্চল্যকর শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ৪ চার মাস পেরিয়ে গেছে। আর এর মধ্যেই আসামিদের আটক করা হয়েছে। আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে ৮ জন। তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে আদালতে। ৩৮ সাক্ষীর মধ্যে ৩৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। যুক্তি-তর্ক হয়েছে টানা তিন দিন। পুরোপুরি ৪ মাস পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল রোববার।

আর এই দিনই ঘোষণা হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত সিলেটে শিশু রাজন হত্যা মামলার এই রায়। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী জানান, আাদালত আগামীকাল রাজন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করবেন। গত ২৭ অক্টোবর আদালত রায়ের এই তারিখ ধার্য্য করেন।

গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে সামিউল আলম রাজনকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

গত ১৬ আগস্ট রাজন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ২৪ আগস্ট সোমবার চার্জশিট আমলে নেন। পরে ২২ সেপ্টেম্বর ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে রাজন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন, সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া গ্রামের মৃত আবদুুল মালেকের ছেলে সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম, তার মেজো ভাই মুহিদ আলম (৩২), বড়ভাই আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪), ছোটভাই পলাতক শামীম আহমদ (২০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের অলিউর রহমান ওরফে অলিউল্লাহর ছেলে জাকির হোসেন পাভেল ওরফে রাজু (১৮), জালালাবাদ থানার পীরপুর গ্রামের মৃত মব উল্লাহর ছেলে সাদিক আহমদ ময়না ওরফে বড় ময়না ওরফে ময়না চৌকিদার (৪৫), পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নূর মিয়া (২০), শেখপাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন আহমদের ছেলে দুলাল আহমদ (৩০), সুনামগঞ্জের দোয়ারা উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরগাঁওয়ের মোস্তফা আলীর ছেলে আয়াজ আলী (৪৫), শেখপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে তাজউদ্দিন আহমদ ওরফে বাদল (২৮), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শি ইসলামপুর গ্রামের মৃত মজিদ উল্লাহর ছেলে ফিরোজ আলী (৫০), কুমারগাঁওয়ের (মোল্লাবাড়ী) মৃত সেলিম উল্লাহর ছেলে আজমত উল্লাহ (৪২) ও হায়দরপুর গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন রুহেল (২৫)।

এদিকে, রাজন হত্যাকাণ্ডের পর মুহিদ আলমের স্ত্রী লিপি বেগম ও শ্যালক ইসমাইল হোসেন আবলুছকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে মামলার অভিযোগপত্র থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, চার্জশিট আমলে নেয়ার পর, ২৫ আগস্ট পলাতক কামরুল ও শামীমের মালামাল ক্রোক করে পুলিশ। গত ৩১ আগস্ট রাজন হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি পলাতক কামরুল ইসলাম, তার ভাই শামীম আহমদ ও আরেক হোতা পাভেলকে পলাতক দেখিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজন হত্যা মামলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে হস্তান্তর করা হয়। গত ১৫ অক্টোবর রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৌদি আরবে পলাতক কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।