Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সিপিবি’র মেয়র প্রার্থীর ৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা

মঞ্জুর হোসেন মিলন : শুক্রবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থী কাজী রুহুল আমিন তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। জেলা শহরের পৌর মাকের্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ঘোষণা দেন তিনি।
এসময় তার সঙ্গে উপস্ষিত ছিলেন পার্টির কেন্দ্রীয় সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহ-সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, কেন্দ্রীয় সদস্য আহসান হাবীব লাভলু, অ্যাড. মন্টু ঘোষ, জেলা কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন খান, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল কবির খোকন, গাজীপুর জেলা বাসদের সভাপতি অ্যাড. আব্দুল কাইয়ুম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীর ইশতেহারের নয় দফা হলো-
১) যোগাযোগ ও যাতায়ত ব্যবস্থা- যানজট নিরসনে রেলপথ ও সড়কপথ প্রশস্থকরণ, মহাসড়কে রিকশা লেন, সিটি বাস চালু তথা গাজীপুর থেকে ঢাকা ’জট মুক্ত’ বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হবে। রাস্তা পারাপারের সকল স্থানে ফুট ওভারব্রীজ নির্মান করা হবে।
২) মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা – শ্রমিকদের খাসজমি বরাদ্দ করে স্বল্পমূল্যে বহুতল ভবন নির্মাণ, কারখানা ভিত্তিক রেশনিং প্রথা চালু, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক সরকারি হাসপাতাল স্থাপন, সকল ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা হবে।মানসম্মত বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে গণ গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হবে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি এবং বিনামূলে শিক্ষার কোটা বাস্তবায়ন করা হবে।
৩) পরিবেশ- শিল্পাঞ্চলভিত্তিক বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা হবে। রিসাইক্লিং করে ময়লাকে সম্পদে রূপান্তর করা হবে। ওয়ার্ড ভিত্তিক পার্ক গড়ে তোলা হবেক। পরিবেশ বিষয়ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ’পরিবেশ কমিটি’ গঠণ করা হবে।
৪) নিরাপত্তা – সামাজিক উন্নয়ন, হত্যা,চুরি, ডাকাত, ছিনতাই, মাদকসহ সামাজিক অপরাধমুক্ত সিটি গড়তে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাসহ সকল আধুনিক যান্ত্রের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
৫) নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা- নারীদের হয়রানী, নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতিক, ধর্ষন, এসিড নিক্ষেপসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্ছার থাকব এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
৬) ধর্ম পালন- র্ধীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখব। ওয়ার্ডভিত্তিক সরকারি কবরস্থান নির্মান করা হবে। প্রত্যেক থানায় একটি করে শ্বশান স্থাপন করা হবে।
৭) সংস্কৃতি- সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য মুক্তমঞ্চ ও মিলনায়তন নির্মাণ, সঙ্গীত, নাটকসহ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হবে। সৃজনশীল সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহিত ও পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে। বিনোদনের জন্য খেলার মাঠ ও শিশুপার্ক গড়ে তোলা হবে।
৮) সেবা- গ্যাস, বিদ্যুত, পানি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা, ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু করা, নগর তথ্য কেন্দ্র চালু, সহজ শর্তে অনলাইন সার্ভিস উন্নয়নের মাধমে নাগরিক সনদ, জন্মনিবন্ধন, ট্রেডলাইসেন্স প্রদান করা হবে।
৯) কর্মপদ্ধতি ও জবাবদিহিতা- প্রতি বছর দুইবার জনগণের মুখোমুখি জনতার মতামত ও অগ্রগতি কর্মসুচী পালন করা হবে। সিটির প্রত্যেক অফিসে ’মানুষের কথা’ নামক সিলগালা বাক্স থাকবে। যেখানে প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে তাদের অভিযোগ ও কথা লিখে রাখতে পারবেন। প্রতিবছর নিজের এবং পরিবারের আয় ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা হবে।