Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮

সিজারিয়ান অপারেশনের ১১ মাস পর রোগিনীর পেট থেকে ব্যান্ডেজের গজ কাপড় উদ্ধার

অক্টোবর ২৭, ২০১৩
স্বাস্থ্য
No Comment

টঙ্গী  প্রতিনিধি ঃ
ডাক্তার নামের এক কসাইয়ের ভুল চিকিৎসার কারণে টঙ্গীতে এক গৃহবধূ এখন মৃত্যু পথযাত্রী। অপচিকিৎসার এই ঘটনায় টঙ্গীতে জনরোষ দেখা দিলেও কতিপয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ক্লিনিক ও হাসপাতাল কেন্দ্রিক দালাল চক্র, স্থানীয় থানা পুলিশসহ একশ্রেণীর কথিত সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে তাদের মাধ্যমে ভূক্তভোগী ওই গৃহবধূ ও তাঁর ¯^ামীকে সমঝোতার ভিত্তিতে কসাই নামের আলোচ্য ডাক্তার প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে তার অপকর্ম।
জানা যায়, টঙ্গীর আরিচপুরের দিনমজুর নাসিরের স্ত্রী সানোয়ারা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে গত বছরের ১০ সেপ্টে¤^র সকালে স্থানীয় থানা গেইটস্থ আল-বারাকা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ¯^াভাবিক নিয়মে সন্তান ভূমিষ্ট না হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার মোঃ ফারুকুজ্জামান (উক্ত হাসপাতালের মালিক) রোগিনীর ¯^ামীকে জানায় যে, সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে সানোয়ারার বাচ্চা প্রসব করাতে হবে। অন্যথায় সানোয়ারার মৃত্যুঝঁকি রয়েছে। ডাক্তারের এ কথায় সহজ-সরল দিনমজুর নাসির স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে যে কোন মূল্যে বাঁচানোর জন্য ডাক্তার ফারুকুজ্জামানের কাছে আকুতি জানায়। এরপর অনভিজ্ঞ ডাক্তার মোঃ ফারুকুজ্জামান নিজেই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সানোয়ারের বাচ্চা প্রসব করে পেটে ব্যান্ডেজের গজ কাপড় রেখেই কাটা স্থান সেলাই করে রোগিনীকে বেডে স্থানান্তর করেন। দু’দিন হাসপাতালে রেখে মোটা অংক হাতিয়ে নিয়ে বিগত ১২/০৯/২০১২ইং সানোয়ারাকে রিলিজ দেয়া হয়। আর বাসায় যাওয়ার পরদিন থেকেই শুরু হয় সানোয়ার ব্যথার প্রচন্ড যন্ত্রণা। তাই রোগিনী ডাঃ ফারুকুজ্জামানের শরণাপন্ন হলে তিনি কাটা স্থানে ড্রেসিং করে দিয়ে নতুন ওষুধের নাম লিখে দিয়ে সানোয়ারাকে সুস্থ হওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেন। আর এভাবেই চলতে থাকে দীর্ঘ ১১টি মাস। এই দীর্ঘ সময়ে ডাঃ ফারুকুজ্জামান রোগিনী সানোয়ারের কাছ থেকে মোটা অংক হাতিয়ে নিলেও সমস্যা সম্পর্কে নিজেই ছিলেন সম্পূর্ণ অন্ধকারে। বরং নিরাময়ের মিথ্যা অজুহাতে করতে থাকেন নানা টালবাহানা। এদিকে মৃত্যু পথযাত্রী হয়ে ব্যথার যন্ত্রণা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হননি সানোয়ারা।
অবশেষে বিগত ১২/০৮/২০১৩ইং নিজেই উদ্যোগী হয়ে উত্তরা সেন্ট্রাল হাসপাতালে সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ আতিয়ার রহমানের শরণাপন্ন হন অসহায় সানোয়ারা। দীর্ঘ ১৯ দিন নানা পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর ডাঃ আতিয়ার রহমানের মনে ধারণা জন্মে যে অপারেশনের সময় কিছু একটা রেখেই সানোয়ারার পেট সেলাই করা হয়েছে। তাই অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই ডাঃ আতিয়ার রোগিনীর পেটের সেলাই খুলে ভেতরে ব্যান্ডেজের গজ কাপড় দেখতে পান। তৎক্ষণাত তা বের করে এনে নতুন করে সেলাই ও ব্যবস্থাপত্র দিয়ে সানোয়ারাকে রিলিজ দেওয়া হয়। বর্তমানে সুস্থ হলেও দীর্ঘ ১১ মাসের অসহ্য যন্ত্রণা ও অপচিকিৎসার কারণে সানোয়ারার শরীর শীর্ণকার হয়ে গেছে। যা তার সিজারিয়ান অপারেশনের আগের ছবির সাথে বর্তমানের ছবির তুলনা করলেই অনুধাবন করা যায়।
অভিযুক্ত ডাঃ ফারুকুজ্জামান জানান, সংশ্লিষ্ট সকলকে ম্যানেজ করে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে তিনি রোগিনী ও তাঁর ¯^ামীর সাথে সমঝোতা করেছেন। তাই ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া তার আর কিছুই করার নেই। অভিযুক্ত আল-বারাকা জেনারেল হাসপাতালের সরকারি অনুমোদন আছে কিনা এবং ঘটনাটির বিষয়ে গাজীপুর সিভিল সার্জনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ কামরুজ্জামান সুমনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি লিখিত আকারে তথ্য চেয়ে সিভিল সার্জন বরাবরে দরখাস্ত দিতে অনুরোধ করেন।
উল্লেখ্য, ডাঃ ফারুকুজ্জামান ও তার মালিকাধীন আল-বারাকা জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে এর আগেও ভুল ও অপচিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি সংবাদের সূচনায় উল্লেখিত ওইসব অপশক্তির কারণে পার পেযে যেয়ে আবারো শুরু করেন অপচিকিৎসার ব্যবসা। আর এর শিকার হচ্ছেন নিম্নবিত্তের লোকজন।