Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাপাহারে ৪০দিনের কর্মসূচীতে গ্রাম পুলিশের নাম

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৮
অনিয়ম, নওগাঁ
No Comment


বাবুল আকতার,সাপাহার(নওগাঁ)প্রতিনিধি : নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ৩নং তিলনা ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটা নিয়ে তিনটি প্রকল্পে ৪০ দিনের কর্মসূচীর কাজ শুরু হয়েছে। আর এ কর্মসূচীতে ৭জন গ্রাম পুলিশ ও বাহিরের তিনজন সহ মোট ১০জনের নাম দেয়া হয়েছে। তারা কাজ না করলেও হাজিরা দেখিয়ে টাকা তুলে আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দীনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ইউপি মেম্বাররা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের মাটিকাটা ইজিপিপি কর্মসূচী আওতায় রাস্তার বিভিন্ন স্থানে তিনটি প্রকল্পে ৪০ দিনের কর্মসূচী চলমান আছে। আর তিনটি প্রকল্পে গ্রামের ১৪১জন নারী-পুরুষের নাম আছে। আর এ হতদরিদ্রদের তালিকায় নাম দেয়া হয়েছে ইউনিয়নের ৭জন গ্রাম পুলিশসহ ১০জনের। ফলে তারা কাজ না করলেও তিনটি প্রকল্পের সভাপতি ও সুপারভাইজারকে নিয়মিত খাতায় হাজিরা দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে তাদের নামে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
সরেজমিনে জানা যায়, ইউনিয়নের পদলপাড়া গোটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কর্মসূচীর কাজ করছেন হতদরিদ্র নারী-পুরুষরা। কেউ মাটি কাটছেন, আবার কেউ কাটা মাটি মাথায় করে নিয়ে মাঠে ফেলছেন। সেখানে ৪৫ জন শ্রমিক কাজ করার থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিল ৩৯ জন। বাকী ৬জনের মধ্যে ২জন গ্রাম পুলিশ। তবে গ্রাম পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। প্রতিজন পারিশ্রমিক ২০০ টাকা। সঞ্চয়ের জন্য ২৫ টাকা রেখে পাঁচদিন পর পর পারিশ্রশিকের টাকা দেয়া হয়।
কর্মসূচীতে গ্রাম পুলিশের নাম দেয়ায় বঞ্চিত হচ্ছেন হতদরিদ্ররা। গ্রাম পুলিশের পরিবর্তে হতদরিদ্রদের নাম দেয়া হলে কিছুটা হলেও পরিবার পরিজন নিয়ে সুবিধা ভোগ করতে পারত তারা। চেয়ারম্যান সরকারি টাকা আত্মসাত করায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে সচেতন মহল।
এছাড়া শীতের কারনে সরকারীভাবে যে কম্বলগুলো বিতরন করতে বলা হয়েছে সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিতরন না করে তার বাড়ী থেকে বিতরন করেছেন। কম্বল বিতরনে মাষ্টাররোলে ভ‚য়া নাম ব্যবহার করে কম্বলগুলি আতœসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্যরা।
কর্মসূচীর কাজের সুপারভাইজার লুৎফর রহমান জানান, কর্মসূচীর কাজ শুরু হয়েছে ৯ তারিখে আজ ৩০ তারিখ পর্যন্ত চলছে হয়তো আরও একদিন চলবে। তার সাইটে প্রতিদিন ৪৫জন শ্রমিক কাজ করার কথা কিন্তু আজ কাজ করছে ৩৯জন এর মধ্যে ২জন চকিদারের নাম দেয়া আছে তারা মাঝে মধ্যে কাজে আসে। তবে গত সাত দিন যাবৎ ওই ২জন চকিদার কাজে আসেনি।
তিলনা ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য আবু শাহরিয়ার বিদ্যুৎ জানান, ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় হত দরিদ্রদের দিয়ে যে কাজ করানোর কথা সেখানে ৭জন চকিদার ও তিনজন ভ‚য়া নাম ব্যবহার করে টাকা উঠাচ্ছে। চকিদাররা এই কর্মসূচীর আওতায় কোনভাবেই পড়ে না। চকিদারদারা পরিষদে চাকরী করে এরা ইউনিয়ন পরিষদ পাহাড়া দেবে না কর্মসূচীর কাজের মাটি কাটবে। চেয়ারম্যান তার নিজের পকেট ভরানোর জন্য এদের নাম ব্যবহার করেছে।
তিলনা ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ হারুনুর রশিদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদে ২০০ কম্বল শীতবস্ত্র হিসেবে দরিদ্রদের দেয়ার কথা হলেও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বিতরনের জন্য ৮াট করে কম্বল দেয়া হয়েছে। বাঁকী কম্বলগুলো একটি ভ‚য়া মাষ্টাররোল বানিয়ে আতœসাৎ করেছে চেয়ারম্যান। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শীত নিবারনের কম্বল আতœসাতের সঠিক বিচার হওয়া উচিৎ বলে দাবী করেন তিনি।
তিলনা ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য তোফাজ্জল হোসেন জানান, আমি এবারেই প্রথম মেম্বার নির্বাচিত হয়েছি। ৪০ দিনের কর্মসূচীর কাজ দেখাশুনা করে সুপারভাইজার। একটি সাইটে প্রতিদিন ৪৫জন লোক কাজ করার কথা থাকলেও আমরা মাঝে মধ্যে সাইটে এসে দেখি কোন দিন ৩৫ জন কোন দিন ৪০জন কাজ করছে। এদের মধ্যে বাবুপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের অন্তর্ভূত আছে তাকে কোনদিনও কাজ করতে দেখিনি অথচ ওই নামে টাকা উঠানো হয়। মোট প্রকল্পে ৭জন চকিদারের নাম দেয়া আছে এই চকিদারদের নাম না দেয়া হলে এলাকার হত দরিদ্ররা ওই কর্মসূচীর কাজ করে খেতে পারতো।
তিলনা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ খায়রুল বাসার জানান, চেয়াম্যান আমার মাধ্যমে কম্বল বিতরনের জন্য ৮জন দরিদ্র ব্যাক্তির তালিকা নিল। আজ পর্যন্ত সেই তালিকার কম্বল আমার লোকজনদের দেয়া হয়নি। শীতের দিনতো প্রায় শেষ হতে চলেছে জানিনা গরম পড়লে হয়তো সেই কম্বলগুলো আমার লোকজনদের দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কম্বল বিতরন হবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অথচ তিনি তার বাড়ী থেকে বিতরন করেন যাহা মোটেও আইনসম্মত নয়।
তিলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান মোসলেম উদ্দীন ৭জন চকিদার নিয়োগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইতোপূর্বে ৪০ দিনের কর্মসূচীর কাজে ব্যপক অনিয়ম করা হতো। এই অনিয়ম ঠেকানোর লক্ষে কাজ তদারকির জন্য চকিদার নিয়োগ করা হয়েছে হয়তো এটা আইন সম্মত হয়নি। তবে চকিদার নিয়োগ করায় কাজের ব্যপক সফলতা পাওয়া গেছে। কম্বল বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ একেবারেই সত্য নয় বলে দাবী করেন তিনি।
সাপাহার উপজেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবু সৈয়দ খান জানান, কর্মসূচীর কাজের ব্যাপারে অবিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করতে দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তিলনা ইউনিয়ন পরিষদের কাজের কোন বিল দেয়া হবে না। এই প্রকল্পে চকিদার নিয়োগ বিধি সম্মত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাগজপত্র না দেকে কোন রকম মন্তব্য করতে পারবো না।
সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহাদ পারভেজ বসুনীয়া জানান, ৪০দিনের কর্মসূচীর কাজের অনিয়মের ব্যাপারে তিলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করতে দেয়া হয়েছে রিপোর্ট পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কম্বলের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওই সময় আমি বিদেশে ছিলাম, কম্বল উপজেলা চেয়ারম্যান বন্টন করেছে। তবে এই ব্যাপারেও লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।