Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সরকার মানুষের ন্যায্য অধিকার গুলো হরণ করে ক্ষমতায় টিকে আছে —- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার নির্যাতন নিপিড়নের মধ্য দিয়েই বিরোধীদলকে দমন করে, জনগণের অধিকারকে হরণ করে মানুষের যে ন্যয্য অধিকার আছে সে অধিকারগুলোকে হরণ করে ক্ষমতায় টিকে থাকছে। এক দলীয় একটি শাসন ব্যবস্থা এখানে প্রবর্তণ করতে তারা কাজ করছে। মিলন শহীদ হয়েছেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য বিগত কয়েক বছরে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁদের সঙ্গে মিলনের নামযুক্ত হলো। মিলন আমাদের সকলের জন্যই একটি অনুপ্রেরণার নাম। আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকার করবার যে মহান ব্রত সে ব্রত মিলন আমাদের সামনে দেখিয়ে গেছে।’
তিনি ঢাকায় পুলিশ হেফাজতে নিহত ঢাকার তেঁজগাও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি মোঃ জাকির হোসেন মিলনের গাজীপুরস্থ বাড়িতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বুধবার বিকালে স্বাক্ষাত করতে এসে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন। এর আগে তিনি মিলনের মা, স্ত্রী, দুই সন্তানের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের সান্তনা দেন। তাদের পাশে কিছুক্ষণ বসে ছিলেন। পরে তিনি মিলনের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং কবরের পাশে ফাতেহাপাঠ ও দোয়ায় শরিক হন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মিলনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান করেছে। জনগণকে তারা ভয়পায়। গণতান্ত্রিক যে অধিকার গুলো আছে মানুষের নূন্যতম মানবিক যে অধিকার আছে সেগুলোকে তারা কোনে গুরুত্ব দেয়না। যার ফরে সম্পূর্ণ বেআইনী ভাবে তাকে গ্রেফতার করার পরে পুলিশের হেফাজতে নির্যাতন করে নির্মম ভাবে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সরকার দীর্ঘ দিন ধরে এ ধরণের বেআইনী নির্যাতনমূলক নিপিড়নমূলক মানবাধিকার বিরোধী কাজ করছে।’
এসময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, বিএনপি নেতা সাঈদ সোহরাব, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নুরুল হুদা ভূইয়া নূরু, ছাত্রদল ঢাকা উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন, গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি কাউন্সিলর হান্নান মিয়া হান্নু, ঢাকা উত্তরের সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, বাড্ডা থানা ছাত্রদলের সভাতি মিঠু সাধারণ সম্পাদক শাওন, গাজীপুর জেলা ছাত্রদল নেতা মো: বেলায়েত হোসেন মোড়ল ও কাউন্সিলর মো: সুলতান উদ্দিন আহম্মদ প্রমুখ।
সরকারের নির্যাতনের নতুন কৌশল বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় আন্তর্জাতিক মহলসহ সারাবিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি। সবচে বড় আমরা বাংলাদেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করছে। এই ভয়াবহ একটি দুঃশাসন আমাদের বুকের ওপর চেপে বসেছে বিগত ১০ বছর ধরে। এই দুঃশাসনকে যদি অপসারণ করতে না পারি তাহলে আমাদের যে অর্জিত গণতন্ত্র সে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এদেশের মানুষ তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। ’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে মিলনের পরিবার অসহায় অবস্থায়, তার স্ত্রী, দুই বাচ্চা, মা। তার বাবা নেই। কি এক করুণ নিদারুন এই অবস্থার মধ্যে পরিবারটি পড়ে গেল। এরকম শতশত হাজারো পরিবার আজকে সারা বাংলাদেশে। সারা বাংলাদেশে যারা এ গণতন্ত্রকে দেখতে চায় তাদেরই আজকে এ পরণতির সম্মক্ষিণ হতে হচ্ছে। তাই আমরা বার বার বলেছি এ সরকার যতদিন থাকবে তত দিন জনগণের কষ্ট হবে। একটা দুঃশাসনের মধ্যে আরো বেশী করে আমরা এই দুঃশাসনের মধ্যে থাকবো। এখন জনগণের ঐক্য প্রয়োজন। সকলের ঐক্য প্রয়োজন, সাহসে ভর করে সকলকে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ’
তিনি এ অঞ্চলের মানুষকে মিলনের পরিবারকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মিলনের বাড়িতে এসেছেন। মিলনের পরিবারের জন্য যথা সাধ্য করা হবে। ভবিষ্যতেও যেন তার পরিবার ও সন্তানদের পাশে দাঁড়াতে পারি সে ব্যবস্থা আমরা করবো।
উল্লেখ্য, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা উত্তরের সহসভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে গত ৬ মার্চ সেগুন বাগিচা এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। শাহবাগ থানার মামলায় তাঁকে তিন দিনের রিমান্ড নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে ১১ মার্চ রোববার তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। সেখানে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতারে নেয়া হয়। পরে ১২ মার্চ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন মারা যায়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিছে মিলন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। আর বিএনপি দাবি করছে মিলকে রিমান্ডে পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের ফলে সে মারা গেছে।