Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

সংস্কারবিহীন টঙ্গীর সমাজ কল্যাণ সড়কে ভোগান্তি

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮
জনদুর্ভোগ, টঙ্গী, শীর্ষ সংবাদ
No Comment

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকার ‘সমাজ কল্যাণ সড়ক’র সংস্কার কাজ হচ্ছে না দীর্ঘ দিন যাবৎ। কার্পেটিং ওঠে গেছে অনেক আগেই। পাশের ড্রেনের পানি উপচে হরহামেশাই সড়কে ওঠে। পানি মারিয়েই চলতে হয় বাসিন্দাদের। আর বৃষ্টি হলে সড়কে জমে হাটু পানি। তখন লোক চলাচলতো দূরের কথা রিকশা-ভ্যানও এ সড়ক দিয়ে যেতে চায় না। এ জন্য বাসিন্দাসহ এ সড়কে চলাচলকারীদের ভোগান্তির অন্ত: থাকে না।

সড়কটি ঢাকা-গাজীপুর সড়কের চেরাগআলী বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে দত্তপাড়ার রিয়া গার্মেন্ট পর্যন্ত। দৈর্ঘ্য আনুমানিক এক কিলোমিটার। সড়কের দু’পাশে আবাসিক এলাকা, রয়েছে বেশ কিছু দোকাপাটও। সড়কের পাশ দিয়ে তৈরি করা পয়নিষ্কাশন ড্রেনের অনেক স্থানে ঢাকনাও নেই।
এই শুস্ক মৌসুমেও সড়কের মাঝামাঝি অংশে বিউটি ফার্নিচার দোকানের সামনে রাস্তার উপর পানি দেখা গেছে। পাশের ড্রেন উপচে সড়কে পানি গড়াচ্ছে। হেঁটে যাওয়ার পথটুকুও পানির নীচে। স্থানীয়রা জানান, এ দৃশ্য প্রায় প্রতিদিনের। ফলে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ চলাচলকারীরা শিকার হচ্ছেন ভোগান্তির।

সড়কের পাশের জয় ফার্মেসীর মালিক হোসেন মাহমুদ টিপু জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত (প্রায় ৫ বছর) সড়কটির সংস্কার কাজ হয়নি। অনেক আগেই এ সড়কের কার্পেটিং ওঠে গেছে। ছিল খনা-খন্দে ভরা। এলাকার বাসা-বাড়ির মানুষের গোসলের পানিতেই পাশের ড্রেন উপচে ময়লা পানি রাস্তায় ওঠে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি থাকে পানিতে ডুবে। এসব কারণে এ সড়ক দিয়ে রিকশাও যেতে চায় না। তিনি জানান, কিছুদিন আগে স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়কটিতে মাটি-খোয়া ফেলে কিছুটা চলাচলের উপযোগি করেছেন।
বিউটি ফার্নিচারের মালিক মো: আলমগীর হোসেন। তিনি প্রায় বিশ বছর ধরে দত্তপাড়ায় বসবাস করেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদরের পাইকস্তা গ্রামে। তিনি বাংলাদেশ ফার্ণিচার শিল্প মালিক সমিতির গুলশান অঞ্চলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় আগে তাঁর ফার্ণিচারের দোকান ছিল। দোকান ভাড়া ও জামানত বেড়ে যাওয়ায় সে দোকান ছেড়ে প্রায় সাড়ে ৪ বছর আগে দত্তপাড়ায় দোকান নেন। তিনি জানান, দোকানের সামনের সড়কে সারা বছরই পানি থাকে। বর্ষার সময় থাকে হাটু পর্যন্ত পানি। সড়কটি খারাপ থাকার কারণে অনেক ভাড়াটিয়া এ এলাকা থেকে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে, যাচ্ছেন। তাছাড়া সড়কে রিকশা ভাড়া দিতে হয় বেশি। বর্ষার সময় ১০টাকার ভাড়া ৪০/৫০ টাকা গুনতে হয়। তাই এদিকে লোকজনও কম আসে। এতে দোকানের বিক্রিও আগের চেয়ে কমে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই বছর ধরে শুনছি সড়কের কাজ হবে। কিন্তু হচ্ছে না তো!
শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার কালীনগর গ্রামের কামরুল ইসলাম টঙ্গীতে রিকশা চালন প্রায় তিন বছর। রিয়া গার্মেন্টস মোড়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, সেখান থেকে চেরাগআলী বাসস্ট্যান্ড এখন ভাড়া নেন ১৫ টাকা। বৃষ্টির সময় কত নেন জানতে চাইলে বলেন, বৃষ্টির সময় এ সড়কটি দিয়ে যাওয়া যায় না। রিক্সার বডিতে পানি ওঠে। তখন অন্য সড়ক দিয়ে ঘুরে চেরাগআলী বাসস্ট্যান্ডে যাই।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী অঞ্চলের (জোন-১) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: লেহাজ উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে ওই সড়কের টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।