Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

শ্রীপুরে বিদ্যালয় প্রবেশের রাস্তা সংরক্ষনের দাবীতে মানব প্রাচীর

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে বিদ্যালয় প্রবেশের রাস্তা রক্ষার দাবীতে মানবপ্রাচীর করেছে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সিংগারদিঘী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে মানবপ্রাচীর করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলরুবা শারমীন বলেন, সিংগারদিঘী বাজার থেকে কপাটিয়াপাড়া, আক্তাপাড়া ও চকপাড়া এলাকায় যাতায়াতের রাস্তাটি বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে চলমান। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা রাস্তাটুকু দিয়ে আসার পর পায়ে কাদামাখা হয়ে বিদ্যালয় আঙ্গিনায় উঠে। বিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের এ অংশটুকুর জন্য বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে নিরুৎসাহিত হয়।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মারিয়া রহমান মৌ জানায়, রাস্তাটি সংরক্ষনের জন্য তারা মানবপ্রাচীর করেছে। চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ঝুন্তিকা মন্ডল ইলা জানায়, বর্ষা মৌসুমে রাস্তা চলতে পা পিছলে জামা কাপড়ও বই খাতা ভিজে যায়, এখন আবার রাস্তাটি সরু হয়ে আসছে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, রেকর্ডমূলে প্রবেশদ্বারের রাস্তাটির মালিক বিদ্যালয়। অথচ স্থানীয় সোহরাব উদ্দিন রাস্তার মাটি কেটে রাস্তাটি চলাচল অনুপযোগী করে তুলছে। কপাটিয়াপাড়া, চকপাড়া, আক্তাপাড়া এলাকার লোকজন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। সিঙ্গারদিঘী-জোনাকীর মোড় পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য সিঙ্গারদিঘী বাজারের প্রবেশদ্বারটি বন্ধ হয়ে গেলে ওই তিনটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের পথও বন্ধ হয়ে যাবে। রাস্তাটি একপাশ থেকে কেটে ছোট করে ফেলছে। এতে সিঙ্গারদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘‘রহমত আলী ভবন” ক্রমশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

সিংগারদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরুজ্জামান জানান, রাস্তাটি বন্ধ থাকলে লোকজন বিদ্যালয় মাঠের মধ্য দিয়ে যাতায়াতের ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়। একই বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ফজলুল হক ফরাজী বলেন, বিষয়টির একটি স্থায়ী সমাধান জরুরী হয়ে পড়েছে।

শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খোকন বলেন, বিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের রাস্তা সংরক্ষণের জন্য একাধিকবার তার কাছে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সামাজিক কারণে তিনি কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেননি। সোমবার রাস্তার এক পাশর্^ কেটে ফেলা ও মানবপ্রাচীরের কথা তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদকে প্রশাসনিক সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সোহরাব উদ্দিন বলেন, তিনি তার জমি পরিচর্যা করছেন। তার বাড়ি যাতায়াতের জন্য তিনি নিজ উদ্যোগে ইট বিছিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। এখানে বিদ্যালয়ের কোনো জায়গা নেই। রাস্তা ছিল মাঠের মাঝখান দিয়ে। পরে বিদ্যালয়ের বাইরে রাস্তার জায়গা না রেখে ভবন করা হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাচীরের পশ্চিম দিকে বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গা রয়েছে। পরিচালনা পরিষদ সেখানে কিছু করতে না পেরে কোমলমতি শিশুদের দিয়ে আমার বাড়ির রাস্তার ওপর মানবপ্রাচীর করিয়েছে। আমি কোনো জমিদার না, রাস্তার জন্য কোনো জায়গা দান করার ক্ষমতা আমার নাই।