Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ২৪ মার্চ ২০১৯

শ্রীপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রাকিন অপহরণ ও হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮
অপরাধ, অপহরণ, আইন- আদালত, শ্রীপুর, হত্যা
No Comment

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময় বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, খুনী, বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, ছিনতাইকারী, অপহরণ ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র‌্যাব জনগনের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

গত ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখ গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাউগান গ্রামের সৈয়দ শামীম ইকবালের ছেলে শিশু সাদমান ইকবাল রাকিন (১০) অপহৃত হয়। রাকিন চলতি বছর ফাউগান প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছিল। অপহরণের আগে সে স্থানীয় মক্তবে পড়ার পর অন্যান্য দিনের মত বাড়ির পাশে খেলছিল বলে জানা যায়। হঠাৎ ভিকটিম রাকিনকে না দেখে বাড়ির আশেপাশে তার বাবা-মা অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোন হদিস পায় না। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ভিকটিমের পিতার সাথে তাদের ছয় মাস পূর্বে হারানো একটি মোবাইল নম্বর হতে যোগাযোগ করে এবং ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ভিকটিম রাকিন এর পিতা একই নম্বরে বারংবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে নম্বর বন্ধ পায়। এর পরদিন ভিকটিম এর পিতা সৈয়দ শামীম ইকবাল শ্রীপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। যার নম্বর-২০ তারিখ-০৭/১২/২০১৮ ইং, ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (২০০৩) এর ৭/৮।

পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখ দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি বাঁশঝাড়ের মধ্যে থেকে ভিকটিম রাকিন এর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব-১ অতি দ্রুততার সাথে ছায়া তদন্ত করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখ র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর ও জয়দেবপুর হতে বর্ণিত হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী ১) পারভেজ শিকদার (১৮), পিতা- আলীম শিকদার ও তার সহযোগী ২) মোঃ ফয়সাল আহমেদ (১৯), পিতা- আব্দুল লতিফ মোল­া, উভয় সাং- ফাউগান, থানা- শ্রীপুর, জেলা- গাজীপুর’দ্বয়কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা বর্ণিত হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃত পারভেজ শিকদার ২০১৭ সালে ফাউগান উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পাশ করে এবং শিমুলতলী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচার ডিপ্লোামায় ভর্তি হয়। তার পিতা আলীম শিকদার মানসিক ভারসাম্যহীন এবং মাতা গৃহিনী। সে দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়। ইতিপূর্বে সে বিভিন্ন সময়ে ছোট খাট অপরাধমূলক কাজ করেছে বলে স্বীকার করে। বিগত ০২ বছর যাবত ভিকটিম রাকিনকে সে প্রাইভেট পড়াত। বড় অংকের টাকা প্রপ্তির আশায় ০৬ মাস পূর্বে সে ভিকটিম রাকিনকে অপহরণ ও মুক্তিপন চাওয়ার উদ্দেশ্যে রাকিনের বাসা থেকে রাকিনের বাবার মোবাইলটি চুরি করে। বিভিন্ন অপরাধ বিষয়ক সিনেমা, নাটক বিশেষত ক্রাইম পেট্রোলে দেখানো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে উৎসাহিত হয়ে সে এমন নৃশংস পরিকল্পনা করে বলে জানায়। সে আরও পরিকল্পনা করে যে, ভিকটিমের বাবার ব্যবহৃত মোবাইলটি হতে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করবে এবং এতে খুব সহজেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়া যাবে। এমনকি মোবাইলের কল ডিটেলস্ থেকে ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে
বিধায় গত ০৬ মাস সে মোবাইল বন্ধ রেখেছিল এবং অন্য কোথাও কোন কল করেনি।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পারভেজ শিকদার তার সহযোগী গ্রেফতারকৃত ফয়সাল আহমেদ এর সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। গ্রেফতারকৃত ফয়সাল ফাউগান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র। সে পরিবারের ৪ ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয়। একই এলাকায় বসবাস করার দরুণ পারভেজের সাথে বিগত ৩/৪ বছর যাবত তার পরিচয় এবং পরস্পর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বয়স কম হলেও সে অনিয়মিতভাবে বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করত এবং ছোট খাট বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ছিল বলে জানায়।

অপহরনের দিন ফয়সাল পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে খেলার ফাঁকে পাখির বাসা দেখানোর কথা বলে বাঁশঝাড়ের আড়ালে যেতে বলে। কারো সন্দেহের উদ্রেক না হয় এজন্য কিছু সময় পর পারভেজ ও ফয়সাল গোপনে বর্ণিত স্থানে যায়। তারা ভিকটিমকে কৌশলে বাঁশঝাড়ের আরও গভীরে নিয়ে যায় এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জঙ্গলের ভিতরে ভিকটিমকে আটকে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু জঙ্গলের ভিতর ভিকটিমকে আটকাতে ব্যর্থ হলে এবং ভিকটিম ছাড়া পেলে তাদের কথা সবাইকে জানিয়ে দিবে এই ভয়ে তারা তৎক্ষনাৎ তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রেফতারকৃত ফয়সাল প্রথমে ভিকটিমকে মাটিতে ফেলে গলা টিপে ধরে এবং পরবর্তীতে পারভেজ তার শরীরের উপর বসে দুইজন একত্রে রাকিনের গলা টিপে ধরে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

অপহরণের পর মুক্তিপন চাওয়ার জন্য মোবাইলে কল করতে গিয়ে ফয়সাল দেখতে পায় মোবাইলে কোন টাকা নেই। তখন তারা একত্রে ফাউগান বাজারে জনৈক রনির ফার্মেসী/বিকাশ/ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকে ২০/- ফ্লেক্সিলোড করে। ফ্লেক্সিলোডের রেজিষ্টারে বর্ণিত (চুরিকৃত রাকিনের বাবার মোবাইল) নম্বর লিখলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিধায় ছোট একটি কাগজে (০.৫ ইঞ্চি দ্ধ ২.৫ ইঞ্চি) মোবাইল নাম্বার ও টাকা লিখে ফ্লেক্সিলোড করার জন্য দোকানে দিয়ে দ্রæত চলে আসে এবং ফয়সাল ভিকটিমের বাবাকে ফোন করে দশ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। র‌্যাব-১ এর তদন্ত দল প্রাথমিকভাবে কোন সূত্র না পেলেও বর্ণিত রনির দোকানের ডাষ্টবিন/ওয়েষ্ট পেপার বক্সে উক্ত ছোট কাগজের টুকরো পাওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম নাটকীয় মোড় নেয়। পরবর্তীতে লাশের পাশে প্রাপ্ত স্টার সিগারেটের প্যাকেট সহায়ক হিসেবে কাজ করে। কাগজের টুকরোর হাতের লেখা, স্টার সিগারেটের প্যাকেট প্রভৃতির সূত্র ধরে নৃশংস এই হত্যাকান্ডের আসামীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বিষয়টি আপনাদের পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য প্রেরণ করা হলো। বিজ্ঞপ্তি