Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শ্রীপুরে ক্লিনিক থেকে মূমুর্ষ রোগী বের করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পলায়ন

অগাষ্ট ৩, ২০১৭
অনিয়ম, শ্রীপুর
No Comment

শ্রীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে এক সন্তানসম্ভবা রোগীকে অপচিকিৎসা করে মূমুর্ষ অবস্থায় তার স্বজনসহ জোরপূবর্ক ক্লিনিক থেকে বের করে দিয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে কর্তৃপক্ষের পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার দিবাগত রাতে শ্রীপুর পৌর এলাকার মাওনা চৌরাস্তার “নিউ পদ্মা এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামক বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

সন্তানসম্ভবা ওই রোগীর নাম রুমা আক্তার (২২)। সে মাওনা মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের স্ত্রী।

গৃহবধুর স্বামী আব্দুস ছাত্তার জানান, সোমবার তার স্ত্রীকে প্রসব বেদনা হলে মাওনা চৌরাস্তা শাপলা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করেন। তার স্ত্রীর পেটের সন্তান মৃত হওয়ায় পরদিন মঙ্গলবার শাপলা মেডিকেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে প্রেরণের পরামর্শ দেন। শাপলা মেডিকেল সেন্টার থেকে বের হওয়ার পরই পাশের নিউ পদ্মা এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল রঙ্গীলা বাজার এলাকার পল্লী চিকিৎসক নাসির হোসেন নিরাপদ চিকিৎসার কথা বলে ১৬ হাজার টাকার চুক্তিতে তার স্ত্রীকে তাদের সেখানে নিয়ে যায়। সেখানে বুধবার বিকেলে গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা: সেলিনা আক্তার লিপি তার স্ত্রীকে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে সাধারণ ভাবেই মৃত বাচ্চা টেনে হিঁচড়ে বের করার চেষ্টা করেন। এ সময় সে মূমূর্ষ হয়ে পরে।তার স্ত্রীর চিৎকারে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। এটি তার প্রথম মা হওয়ার ঘটনা ছিল।

পরে তার স্ত্রীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে অবস্থা মূমূর্ষ হয়য়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে জোরপূর্বক স্বজনদের সহ রোগীকে ক্লিনিক থেকে বের করে দিয়ে ভেতরে লিজা ও সাবিনা নামের দুই রোগীকে ভেতরে রেখেই কর্তৃপক্ষ মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। এ সময় রোগীকে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ক্লিনিক থেকে নামিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গভীর রাতে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান জানান, খবর শুনে রাতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ম্যানেজমেন্টের কাউকে পাওয়া যায়নি। মূল গেটে তালা লাগানো ছিল। বিকল্প সিড়ি দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে দুইজন ভর্তি থাকা রোগী, কর্তব্যরত একজন চিকিৎসক ও কয়েকজন স্টাফ পাওয়া গেলেও মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

নিউ পদ্মা এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তব্যরত ডা. নাভিদ তানজিম জানান, রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সেন্টার থেকে বরে হতে সাহায্য করা হয়েছে

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন,অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে রোগীর অবস্থা জটিল থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।তবে রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানানো হয়েছে তাদের চিকিৎসার খরচ আমরা বহন করব।