Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

শ্রীপুরে আশা জাগাচ্ছে ইউরোপের বারবন রেড টার্কি

বশির আহমেদ কাজল, শ্রীপুর : ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশের বারবন রেড টার্কি, গায়ের পালক লাল-সাদা বর্ণের। স্বভাবজাত সাধারণ টার্কির মতো হলেও এরা জাতে অনেক উন্নত। লালন-পালন ও খরচ সাধারন হলেও মাংস উৎপাদন হয় দিগুণ। বাংলাদেশে এই বারবন রেড টার্কি মাত্র ৭ থেকে ৮টি খামারে লালন-পালন হয়ে থাকে। এদের মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভাংনাহাটি গ্রামে ডক্টরস্ টার্কি ফার্মের বারবন রেড টার্কির চাষ হচ্ছে। দেশীয় আবহাওয়ায় যা চাষে সম্ভাবনা জাগাচ্ছে।

ডক্টরস্ টার্কি ফার্মের স্বত্ত¡াধিকারী ডা: এমরানুল হক মন্ডল জানান, ২বছর আগে লন্ডন থেকে বারবন রেড টার্কির একশ ও বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলা থেকে ২’শ ডিম সংগ্রহ করে তা ইনকিউবেটরে সাহায্যে ফুটিয়ে নিই। এর মধ্যে কিছু ডিম নষ্ট হয়ে যায়। বাকী গুলো থেকে পর্যায়ক্রমে সফলতা এসেছে। বর্তমানে ফার্মে প্রাপ্ত বয়স্ক প্রায় ৩’শ মতো বারবন রেড টার্কি রয়েছে। এছাড়াও দুই বছরে প্রায় ৬’শ টির বেশি টার্কি বিক্রি করে বেশ ভাল আয়ও হয়েছে। বর্তমানের এ টার্কির বাজার মূল্য সাধারণ টার্কির চাইতে বেশি। যেখানে এক মাস বয়সী সাধারণ টার্কির বাচ্চা তিনশ টাকা থেকে সাড়ে তিনশ টাকা জোড়া বিক্রি হয় সেখানে এক মাস বয়সী বারবন রেড টার্কি একটি বাচ্চা ১৫’শ থেকে ২হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আর প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ টার্কি সেখানে ৭-৮কেজি ওজনের হয়, সেখানে প্রাপ্ত বয়স্ক বারবন রেড টার্কির ওজন ১৪-১৫ কেজি ছাড়িয়ে যায়। বারবন রেড ও সাধারণ টার্কি খাবারের মধ্যেও কোন পার্থক্য নেই। এরা দিনে ২৫০গ্রাম পর্যন্ত খাবার খেয়ে থাকে। সাধারণ টার্কির মতোই বারবন রেড টার্কি ঘাস লতাপাতা ছাড়াও পোল্ট্রি ফিড খেয়ে থাকে। তিনি জানান, এই ২৫০গ্রাম খাবারের মধ্যে খামার থেকে ১৩০গ্রাম খাবার সরবরাহ করা হয়, বাকী খাবার তারা প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে পেয়ে থাকে। এতে খাবার হিসেবে দৈনিক প্রতি বারবন রেড টার্কির পেছনে ব্যয় হয় সাড়ে তিন থেকে চার টাকা।

bty

তিনি আরো জানান, রেড বারবন টার্কি আয়ুকাল ৬বছর। তবে এরা চার বছর পর্যন্ত স্বাভাবিক ভাবে ডিম দিয়ে থাকে। এরা একাধারে ১০-১২দিন ডিম দেয়ার পর কিছুদিন কিছুদিন ডিম দেয়া বন্ধ রাখে। তবে রেড বারবন টার্কি মাংস খুব সুস্বাদু।

এব্যাপারে গাজীপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা দীপক রঞ্জন রায় জানান, বাংলাদেশে বারবন রেড টার্কির খুবই সম্ভাবনা রয়েছে। এদের গঠন দৃষ্টি নন্দন ও মাংস উৎপাদনে অন্যান্য টার্কির চেয়ে দিগুণ।দেশীয় আবহাওয়ায় এ টার্কির চাষ করলে অনেক লাভবান হওয়া সম্ভব।