Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শ্রীপুরের গাজীপুরশাহীন ক্যাডেট একাডেমিতে ২০ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত

সোলায়মান মোহাম্মদ : গাজীপুরের জেলার শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় গাজীপুরশাহীন ক্যাডেট একাডেমীর মাওনা শাখায় চতুর্থ শ্রেণীর বিশ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষক কর্তৃক নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আব্দুল মালেক, তিনি মাত্র ১৮ দিন হয়েছে এখানে শিক্ষক হিসেবে চাকরী নিয়েছেন। সে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার দারাগ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। শিক্ষক হিসেবে এটিই তার প্রথম চাকরি।
রোববার বিকেল সাড়ে ৩ টায় প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকক্ষে পাঠদানকালে দড়জা বন্ধ করে স্কেল দিয়ে অমানবিকভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পিটানোর এ ঘটনা ঘটে। চতুর্থ শ্রেণীর পদ্মা শাখার মোট ২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ জন ওয়াশরুমে থাকায় বাকী ২০ জনকে জাতীয় সংগীত উচ্চ স্বরে পড়ার অপরাধে পিটিয়ে আহত করে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের শিক্ষক আব্দুল মালেক। এতে দুই শিক্ষার্থীর মাথায় ও শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায়।

গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তরা হলেন শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া গ্রামের আমানুল্লাহর ছেলে অপূর্ব ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ওসমান গনির ছেলে সায়র। আঘাতপ্রাপ্ত প্রত্যেকের বয়স আট থেকে দশ বছরের মধ্যে।

অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, রোববার বিদ্যালয়ের শেষ ঘন্টায় চতুর্থ শ্রেণীর পদ্মা শাখার শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় পড়াতে আব্দুল মালেক নামের ওই অভিযুক্ত শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে যায়। কিছুক্ষণ পরে শিক্ষার্থীদের কান্নাকাটির শব্দ শুনে দড়জা খুলে গিয়ে দেখা যায় ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের স্কেল দিয়ে বেদম প্রহার করছে। এ সময় সবাই আব্দুল মালেককে থামায়। পরে বিদ্যালয় ছুটির পর অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা ঘটনা জানতে পেরে উত্তেজিত হয়ে উঠেন। উত্তেজিত জনতা ওই শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন। পরে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে অভিভাবকরা নমনীয় হোন।
অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন,পাঠদান খুব ভালোভাবেই দিচ্ছিলাম কিন্তু ক্লাস চলাকালে অফিস সহকারী এসে জাতীয় সংগীতের সিট দিয়ে তা মুখস্ত করতে বলেন। এতে শিক্ষার্থীরা হৈচৈ শুরু করে এবং উচ্চশব্দে পড়তে থাকে। কয়েকবার নিষেধ করা সত্তেও তারা হৈচৈ না থামালে আমি এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তাদেরকে সামান্য প্রহার করি।

জানা যায়, গাজীপুরশাহীন ক্যাডেট একাডেমির মাওনার এ শাখায় নতুন ভর্তি সহ প্রায় ১৫ শ বা ততোধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা নিয়মিত পাঠদান নিয়ে থাকে। প্লে থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত এখানে মোট শিক্ষক রয়েছে ১১০ জন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের শিক্ষকতার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় সরকারি বিধি নিষেধ না মেনে শিক্ষার্থীদের উপর এমন অমানবিক নির্যাতন চালায়।
বিদ্যালয়ের পরিচালক আনিছুর রহমান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধর করে অন্যায় কাজ করেছেন। তাই তাৎক্ষণিক তাকে বরখাস্ত করে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি।
শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্কুল পরিদর্শন করে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি সত্যিই খুব দু:খজনক। সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক এখানে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা আকতার স্যার। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমাযুন কবীর  জানান, অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে সাথে সাথেই বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনভিজ্ঞ ও ভুল শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো কর্মচারীর দ্বারা যদি শিক্ষার্থীরা শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতিত হয় তাহলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।