Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

শ্রীপুরের অন্ত:স্বত্তা শিশুর সব দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসন

অক্টোবর ২, ২০১৭
গাজীপুর, শীর্ষ সংবাদ, শ্রীপুর
No Comment

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্ত:স্বত্তা হওয়া ১২বছরের এক শিশুর আইনী সহায়তা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভরণ পোষনের দায়িত্ব নিলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসন।

সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের নির্দেশে শ্রীপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার শিশুর বাড়িতে গিয়ে তাকে পুষ্টিকর খাবার ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে ওই আশ্বাসের কথা বলেন।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আকতার জানান, এতদিন এক ট্রেনিংয়ের কাজে দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে ফেরার পর রোববার ওই শিশুর ধর্ষণের কথা জানতে পারি। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সোমবার নিজে তাদের বাসায় যাই এবং তাকে নিয়ে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার আল্টাসনোগ্রাম, রক্ত,প্র¯্রাব পরীক্ষাসহ যাবতীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনে দেয়া হয়েছে। আগামি বৃহস্পতিবার তাকে মাতৃত্বকালীন টিকা দেয়া হবে। ওই শিশু স্থানীয় এক মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবা রিকশা চালক ও মা পোশাক শ্রমিক। সম্প্রতি ওই শিশুটি মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে একই এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে এক সন্তানের জনক আমান উল্লাহ (২৬)। ধর্ষনের পর সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ঘটনাটি ফাঁস করলে তাকে ও তার মা-বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় ওই শিশু তার মাকে আগে ধর্ষনের কথা জানায়নি। সম্প্রতি তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে শিশুটি ধর্ষণের কথা তার মাকে জানায়। পরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গর্ভবতী হওয়ার লক্ষন ধরা পড়ে। বর্তমানে সে পাচ মাসের গর্ভবতী। আগামি ১৫জানুয়ারী তার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ বলেছেন ডাক্তাররা। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় শিশুটির মা মামলা দায়ের করার খবর পেয়ে ধর্ষক পালিয়ে যায়। মেয়েটি নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার ।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন করিব জানান, তার এখন নিবিড় পরিচর্যা দরকার। এ জন্য শ্রীপুর ইউএনও এবং স্থানীয় তেলিহাটি ইউপি চেয়ারম্যান ও এক ইউপি সদস্যকে এ ব্যাপারে নজর রাখতে ও খোঁজ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হযেছে। যতদিন প্রয়োজন প্রসব পূর্ববর্তী ও পরবর্তীতে মা ও সন্তানের চিকিৎসা, শিক্ষাসহ ভরণপোষনের দায়িত্ব ততদিন পালন করবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার এস আই মো. এখলাছ উদ্দিন জানান, আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আশা করছি দুই/এক দিনের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হব।