Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২২ নভেম্বর ২০১৮

শুক্রবার ফাঁসি হচ্ছেনা মীর কাসেমের

সেপ্টেম্বর ২, ২০১৬
গাজীপুর, জাতীয়, ফাঁসি, বিচার, শীর্ষ সংবাদ
No Comment

file[1]

আবু বকর সিদ্দিক আকন্দ: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে শুক্রবার ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে না। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কখন ফাঁসি হবে এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে চাননি।

এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে জেল রোডে গাজীপুর জেলা পুলিশকে মহড়া দিতে দেখা গেছে। পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ীতে বাড়তি জনবল ও একটি জল কামান নিয়ে তারা জেল রোডে এ মহড়া দেয়। এসময় জেলরোডের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় ও সাধারণের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। জেলরোডে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের আনাগোণা রয়েছে।

গাজীপুর মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করবেন না। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বিষয়টি তিনি নিজে কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিত করেছেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক খবরটি নিশ্চিত করে জানান, দুপুর ২টার দিকে মীর কাসেম আলীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি মাহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা। প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘না’ বলে দিয়েছেন।

এখন কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের দেয়া রায় বাস্তবায়নে প্রস্তুত কি না এ ব্যাপারে জেল সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধতন কতৃপক্ষের। কর্তৃপক্ষ থেকে যখন যেভাবে নির্দেশ আসবে সেভাবেই পালিত হবে।

এর আগে ৩১ আগস্ট বুধবার মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন মীর কাসেম আলীর সাথে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মীর কাসেম আলীর দাবী গত ২২ দিন আগে সাদা পোশাকধারী লোকজন তাদের ছেলে ব্যারিস্টার আহম্মেদ বিন কাসেমকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেছে।

আয়েশা খাতুন জানান, তিনি শুধু ছেলেই নন মীর কাসেম আলীর মামলার আইনজীবি। পাবিারিক যে কোনো সিদ্ধান্তে পরামর্শের জন্য পরিবারের লোক হিসেবে ছেলেকে প্রয়োজন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে মার্সি পিটিশনের সিদ্ধান্তের আগে সরকারের কাছে তাদের ছেলেকে ফেরত চেয়েছিলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর সাথে ৩১ আগস্ট বুধবার পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ সদস্যের স্বজনেরা কথা বলার জন্য দুপুর আড়াইটার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন। দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা কারগার থেকে বের হন।

স্বজনদের মধ্যে ছিলেন মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন, কন্যা সুমাইয়া রাবেয়া, তাহেরা তাসনিম, পুত্রবধূ সাহেদা তাহমিদা, তাহমিনা আক্তার, ভাতিজা হাসান জামান খান ও পরিবারের তিন শিশু।

৩১ আগস্ট বুধবার সকালে তাকে রিভিউ আবেদন খারিজের রায় পড়ে শোনানো হয়। রায় শোনার পর কিছুটা চিন্তিত ও চেহারায় উদ্বিগ্নতার ছাপ এবং বিমর্ষ দেখা গেছে।

মীর কাসেম আলী প্রাণ ভিক্ষার জন্য যে সময় চেয়েছিলেন সে ব্যাপারে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কারা মহাপরিদর্শক

এর আগে মঙ্গলবার সকালে তিনি কারাগারে তার কাছে থাকা রেডিওর মাধ্যমে রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায় শুনেছিলেন।

মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মীর কাসেম আলীর রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায়ের কপি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এসে পৌঁছে দেয়া হয়। রাত অনেক বেশি হওয়ায় রাতে মীর কাসেম আলীকে তা পড়ে শোনানো হয়নি। বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে রায় পড়ে শোনানো হয়।

৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেম আলী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির কনডেম সেলে বন্দী রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর ২০১২ সাল থেকে তিনি এ কারাগারে রয়েছেন। ২০১৪ সালের আগে তিনি এ কারাগারে হাজতবাসকালে ডিভিশনপ্র্রাপ্ত বন্দীর মর্যাদায় ছিলেন। পরে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তির পর তাকে ফাঁসির কনডেম সেলে পাঠানো হয়।