Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ

ডিসেম্বর ২৯, ২০১৫
জন্মদিন, ফিচার, সাহিত্য
No Comment

Joynul_Abedin-2গাজীপুর দর্পণ ডেস্কঃ

দেশের শিল্পকলার নান্দনিকতার পুরধা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০১তম জন্মবার্ষিকী (২৯ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিভাবান এই শিল্পী ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবা তমিজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুলিশের দারোগা। মা জয়নাবুন্নেছা। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে জয়নুল আবেদিন ছিলেন সবার বড়।

তার রঙ-তুলির ছোঁয়ায় বিশ্বের কাছে পরিচিতি পায় বাংলার শিল্প। বাংলার চিত্রশিল্পের জাগরণ হয় তার হাত ধরে। বাঙালির রুচির দুর্ভিক্ষ দূর করে জাগ্রত করেন জাতির শিল্পবোধ।

আন্তর্জাতিকভাবে শিল্পের অঙ্গনে বাংলাদেশকে এক বিশাল উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই মহান শিল্পী। ঢাকায় ইনস্টিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আধুনিক শিল্প আন্দোলনের পথিকৃতে পরিণত হয়েছেন জয়নুল।

১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের (বর্তমান চারুকলা ইনস্টিটিউট) তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ।

১৯৩৩ সালে কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর সেখানে ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় স্টাইলের ওপর পড়াশোনা করেন। ১৯৩৮ সালে তিনি আর্ট স্কুল অনুষদে যোগ দেন। ১৯৩৮ সালে সর্বভারতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনীতে তার অঙ্কিত জলরঙের ছবির জন্য তিনি স্বর্ণপদক পান।

১৯৪৩ সালের মন্বন্তরে জয়নুল আবেদিনের করা স্কেচগুলো ছিল অনবদ্য। এ দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। সস্তা প্যাকিং পেপারে চায়নিজ ইঙ্ক ও তুলির আঁচড়ে ‘দুর্ভিক্ষের রেখাচিত্র’ নামে তার এ ছবিগুলো জয়নুলকে সারা ভারতে পরিচিত করে তোলে।

১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের বিভক্তির পর জয়নুল আবেদিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। জয়নুল আবেদিন ও ঢাকা প্রত্যাগত তার কয়েকজন সহযোগী মিলে আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ১৯৪৯-৬৬ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৮৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই সরকারি কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৫১ সালে তিনি লন্ডনের স্লেড স্কুল অব আর্টে দুই বছরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। লন্ডন থেকে প্রত্যাবর্তনের পর জয়নুলের চিত্রে নতুন একটি বাঙালিয়ানা ধারা দেখতে পাওয়া যায়। ‘দুই মহিলা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩), ‘পাইন্যার মা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩) ও ‘মহিলা’ (জলরং, ১৯৫৩) হলো এ আমলের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্ম।

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের বিজয়কে ভিত্তি করে আঁকা ‘নবান্ন’ এবং ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারানো হাজারো মানুষের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আঁকা ‘মনপুরা’ তার বৈচিত্র্যময় কাজের উদাহরণ।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯৭৫ সালে সোনারগাঁয়ে একটি লোকশিল্প জাদুঘর এবং ময়মনসিংহে জয়নুল সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা করেন। এ দুটি প্রতিষ্ঠানে তার অঙ্কিত কিছু চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে।

ফুসফুসে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন এই মহান শিল্পী।

বর্ষব্যাপী আয়োজনঃ
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আকতারী মমতাজ এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি।

এ ছাড়াও শিল্পাচার্যের জন্মবর্ষ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত বছরব্যাপী শিশু চিত্রাংকন কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিশুশিল্পীদের সনদপত্র বিতরণ এবং শিশুদের অঙ্কিত চিত্রকর্মের ১০(দশ)দিনব্যাপী চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

এমএইচ