Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শিক্ষক নামের নরপিশাচ!

নভেম্বর ১০, ২০১৩
শিক্ষা, শ্রীপুর
No Comment

শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ
‘স্যার পড়াতে আয়া আমাগোরে বাসর রাতের গল্প কইতো। গল্প কইতো আর একজন একজন কইরা কাছে ডাইক্যা নেয়া স্যারে আদর করতো, মোবাইলে খারাপ ছবি দেহাইতো। স্যার আমগরে জড়াইয়া ধইরা আদর করতো। বুকে-পিঠে আতায়তো। মাথা নিচু করে নিজের শিক্ষকের বিরুদ্ধে সলজ্জ ভাবে কথাগুলো বলছিল চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী (৯)। একই অভিযোগ করেছেন চতুর্থ শ্রেণীর আরো চার ছাত্রী। শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা।
ছাত্রীদের অভিযোগ, শ্রেণী কক্ষে পাঠদানের নামে শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিন অশ্লীল গল্প-গুজব করেছেন। বিদ্যালয়ে কোচিংয়ের নামে ছাত্রীদের সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত আটকে রেখে অনেককে যৌন হয়রানি করেছেন।
১০নভে¤^র রবিবার দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গেলে অভিভাবক, ভুক্তভোগী ছাত্রীসহ গ্রামের নিরীহ মানুষজন বুক-কাঁপানো এসব যৌন হয়রানির অভিযোগ করে।
যৌন হয়রানি ঘটনায় গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গতকাল দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছেন। তদন্ত কমিটি ১১ নভে¤^র সোমবার প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এদিকে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির ঘটনায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নাসির উদ্দিন সুলতান বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, গত প্রায় আড়াই মাস ধরে মেজবাহ উদ্দিন চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত কোচিং করিয়ে আসছিল। রাতে কোচিং করতে নিষেধ করলেও তিনি শুনেননি। রাত আটটার দিকে ছাত্রদের ছুটি দিলেও ছাত্রীদের রাত নয়টা পর্যন্ত কোচিং করাতেন। গত বুধবার কোচিং চলাকালে তিনি তিন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। পরদিন যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রীরা বাড়ি ফিরে তাদের মা-বাবার কাছে ঘটনা প্রকাশ করে। ভুক্তভোগী তিন অভিভাবক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদসহ প্রধান শিক্ষকের কাছে মেজবাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। অভিযোগ করায় ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়লে শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিন পালিয়ে যান।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ ও মাওনা ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম জানান, মেজবাহ উদ্দিনের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ার পর এখন তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর যৌন হয়রানির ঘটনা বেরিয়ে আসছে। গতকাল পর্যন্ত নয় ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নাসির উদ্দিন সুলতান দাবি করেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর অন্তত ১৫-২০জন কোমলমতি ছাত্রীকে তিনি যৌন হয়রানি করেছেন। অনেক অভিভাবক সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে যৌন হয়রানির ঘটনা ¯ে^চ্ছায় চেপে গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, মেজবাহ উদ্দিন বিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষককেও যৌন হয়রানি করেছেন। দিনের পর দিন যৌন হয়রানির শিকার হয়ে অবশেষে তদবির করে ২০১২ সালে অন্য বিদ্যালয়ে ছেড়ে চলে যান নারী শিক্ষকরা।
মেজবাহ উদ্দিন বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানিকালে হাতেনাতে ধরে ফেলেন পাশের দক্ষিন আজুগীরচালা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সিংগারদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র খোরশেদ আলম(১৭)। খোরশেদ আলম জানান, গত প্রায় পনের দিন আগে বিকেল বেলায় কোচিং চলাকালে সে বিদ্যালয়ে যায়। কক্ষের ভেতর ঢুকে সে মেজবাহ উদ্দিনের কোলে একই গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে দেখতে পায়। ছাত্রীটিকে মেজবাহ উদ্দিন হাত দিয়ে পেটে আদর করছিলেন। এ সময় কক্ষের ভেতর আরো প্রায় ২২জন ছাত্রী ছিল। ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে কারো কাছে প্রকাশ করতে নিষেধ করেন মেজবাহ। তার বড় ভাই গাজীপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি হওয়ায় দাপট দেখাত।
চকপাড়া গ্রামের নিরীহ কৃষকের কন্যা পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী (১০) জানায়, মেজবাহ উদ্দিন তাকে নাতি বলে গত আট-দশ দিন আগে জড়িয়ে ধরে। এ সময় মেজবাহ তাকে বলেন, ‘তুই আমার নাতি। তুই আমার ছোটো গিন্নি। আয় তোরে একটু আদর করি।’
একের পর এক ছাত্রীদের যৌন হয়রানির ঘটনায় আশপাশের কয়েক গ্রামে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে। বিদ্যালয়ের অভিভাবকসহ গ্রামের নিরীহ মানুষজন অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক চকপাড়া মেডিক্যাল মোড় এলাকার কর্মকার শ্রী রঞ্জন চন্দ্র সরকার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে বলেন, ‘আমাদের নিষ্পাপ সন্তানদের নিয়া এই নরপিশাচটা লালসা মেটাইবার চাইছে। আমরা এই লম্পট মাস্টারের সর্বোচ্ছ সাজা চাই।’
শ্রীপুর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) আমির হোসেন জানান ‘ছাত্রীদের যৌন হয়রানির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তিনটি দল সম্ভাব্য
স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।’