Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কালীগঞ্জে থানার সামনে রাস্তার পদে পদে দুর্ভোগ বেড়েই চলছে

মার্চ ২৯, ২০১৬
বিশেষ প্রতিবেদন, লালমনিরহাট
No Comment
কালীগঞ্জ থানার সামনে থেকে তোলা ছবি।

কালীগঞ্জ থানার সামনে থেকে তোলা ছবি।

রাহেবুল ইসলাম টিটুল, লালমনিরহাট কালীগঞ্জ:

যতই দিন যাচ্ছে ততই যেনো মানুষরে পদে পদে দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে সড়ক বিভাগের অত্যন্ত ব্যস্ততম লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক।

একদিকে মহাসড়কটি দুই লেন বিশিষ্ট হওয়ায় এর প্রশস্ততাও কম। অন্যদিকে সড়কের বেশিরভাগ অংশই খানা খন্দরে ভরা। কালীগঞ্জ থানা সংলগ্ন সড়কটিতে একটু বৃষ্টি হলেই থানার সামনে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনা। ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে কালীগঞ্জের কে ইউ পি স্কুলের শিক্ষাথীদের ও পরীক্ষার্থীদের। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভূক্তভোগীরা।

এ অবস্থায় মহাসড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন চালকরা।

জেলা সড়ক ও জনপথ অফিস সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য ১০৫ কিলোমিটার। সড়কটির সংস্কার নেই দীর্ঘদিন ধরে। সড়কের কার্পেটিং উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সম্প্রতি পাটগ্রাম থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত ১৭ কিঃ মিঃ রাস্তা সংস্কার হলেও বাকি ৮৮ কিঃ মিঃ সড়ক খানাখন্দরে ভরে রয়েছে। অনেক আগেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মহাসড়কটি।

এদিকে চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস ও কোচে যাতায়াত করছে যাত্রীরা। এ অবস্থায় বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ছোট বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। আর চলতি মাস থেকেই এ মহাসড়কটি দিয়ে পদ্মা সেতুর জন্য ভারত থেকে শুরু হবে পাথর আমদানী। ফলে আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে সড়কটি।

একদিকে সড়কের প্রশস্ততা কম, অন্যদিকে খানাখন্দর তার ওপর বাড়ছে যানবাহনের চাপ। পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি জরুরী রোগী আনা নেয়াতেও পোহাতে হচ্ছে বড় ধরনের দুর্ভোগ। এ অবস্থায় দুর্ভোগ এড়াতে ও মহাসড়কটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।

গাড়ী চালক ফাইজুল ইসলাম জানান, ভাঙ্গা সড়কটি দিয়ে গাড়ি চালাতে নানা রকম সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়াও গাড়ীতে মালামাল নিয়ে সময়মতো গন্তব্যেস্থলে পৌঁছতে পারছিনা। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

এ সড়কে নিয়মিত চলাচল করা যাত্রী মো. রুমেল হোসেন, রিপন মিয়া ও লেবু জানান, আমরা প্রতিদিনই যাতায়াত করে থাকি কিন্তু রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে আমাদের শারিরীক সমস্যা হচ্ছে।

লালমনিরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হামিদুল হক বলেন, আগে বুড়িমারী স্থল বন্দরের পণ্য সমূহ তিস্তা ব্যারেজ হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতো। কিন্তু ব্যারেজটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকায় সেটি দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক দিয়ে এসব ভারী যানবাহন চলাচল করছে।

তিনি আরও বলেন, এ সড়কটি জাতীয় মহাসড়ক মানের না হওয়ায় অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই গাড়ি চলাচলের কারণে বিভিন্ন জায়গায় ভেঙ্গে যাচ্ছে। সড়ক বিভাগ থেকে তা মেরামত করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেটাও টেকসই হচ্ছে না। এ মহাসড়কটি সংস্কার করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংশি­ষ্ট মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

এমএইচএস