Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

লালমনিরহাটে গরুর গাড়ি এখন শুধুই স্মৃতি

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৭
বিশেষ প্রতিবেদন, লালমনিরহাট
No Comment

রাহেবুল ইসলাম টিটুল লালমনিরহাট থেকে : এ কেমন বাংলা আমার। যেখান থেকে বাংলার ঐতিহ্য গুলোই হারিয়ে যাচ্ছে। আমি একজন বাঙ্গালী তাই কখনোই এটা মেনে নিতে পারবোনা। ‘ওঁকি গাড়িয়াল ভাই- কত রব আমি পন্থের পানে চাঁইয়া রে’- গ্রাম বাংলার প্রাণ প্রিয় এই গানটি যেমন এখন আর শোনাই যায় না। তেমনি গ্রাম বাংলার একটি জনপ্রিয় যান গরুর গাড়ি আর চোখে পড়েনা আগের মত। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িয়াল পেশাও। এখন গ্রামগঞ্জে আগের মতো চোখে পড়ে না গরুর গাড়ি। এক সময় লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী ওই বাহনের সরগরম অস্তিত্ব ছিল। সর্বত্র ছিল গরুর গাড়ির কদর। কি বিয়ে, কি অন্য কোন উৎসব গরুর গাড়ি ছাড়া কল্পনাই করা যেত না। কাল ভেদে গ্রামীন মেঁঠো পথে গরুর গাড়ির চোখে না পড়লেও মাঝে মধ্যে দেখা মেলে কিছুটা মহিষের গাড়ির। ঐতিহ্যবাহী ওই গাড়িটি টানছে ধান-চাল কিংবা ভাড়ি মালামাল। লালমনিরহাটের উপজেলাতেও এক সময় গরুর গাড়ী চলতো প্রতিনিয়ত। কিন্তু, এখন প্রত্যন্ত এই জনপদেও হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ী। মাঝে-মধ্যে এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে দু-একটি গরুর গাড়ী চোখে পড়ে। কিন্তু এগুলোর অবস্থাও এখন জরাজীর্ণ। আধুনিক সভ্যতায় এতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি হারিয়ে যেতে বসেছে। এ কারণে শহরের ছেলে-মেয়েরা তো দূরের কথা, বর্তমানে গ্রামের ছেলে মেয়েরাও গরুর গাড়ি যানবাহনটির সাথে পরিচিত নয়। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাশীরাম গ্রামের মতিয়ার রহমান জানান, আগে বিয়ে বাড়ি বা মালামাল পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র ভরসা। বিশেষ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে আমাদের এ অঞ্চলে হাওরের ধান ও খড়-কুটো পরিবহনে গরুর গাড়ির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। গরুর গলায় ঘন্টা লাগিয়ে ছই উঠিয়ে এসব গরুর গাড়ি বিয়ে বাড়িতে নেয়া হত। কার গাড়ি আগে যাবে তা নিয়েও ছিল বিশেষ প্রতিযোগিতা। গ্রামের অবস্থা সম্পন্ন লোকজন ও গৃহস্থরা গরু গাড়ি ব্যবহার করতেন। কখনও কখনও তা আবার ভাড়ায় দিতেন। তারা বলেন, এখন আর গরুর গাড়ি নেই। গরুর গাড়ি এখন শুধুই স্মৃতি। যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে এসে সেই জনপ্রিয় গরুর গাড়ি এখন বিলুপ্ত হওয়ার পথে।
সবশেষে আমি সবাই কে উদ্দেশ্য করে এটাই বলতে চাই আসুন সবাই মিলে আমরা বাঙ্গালীরা বাংলার ঐতিহ্য গুলোকে ধরে রাখি। কারন একমাত্র আমরাই পারি হারানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আন্তে। সবার শুভ কামনা করে আমি রাহেবুল ইসলাম টিটুল আমার লেখা এখানেই শেষ করছি। ২য় প্রতিবেদনে আবার দেখা সংগেই থাকুন