Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ২৪ মার্চ ২০১৯

রোহিঙ্গারাও রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে, ধানের শীষের কর্মী সমর্থকরা পারেনা —- ইকবাল সিদ্দিকী

ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮
শীর্ষ সংবাদ
No Comment

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : “আমাদের কর্মীরা কেউ নিরাপদে নেই, সরকারের পুলিশবাহিনী তাদের পিছু নিয়েছে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ভাগ্য বিড়ম্বিত রোহিঙ্গারাও রাতে তাদের নিজ পরিবারের সাথে নিজের বিছানায় ঘুমাতে পারে, অথচ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা পুলিশি হয়রানি এবং পরিকল্পিতভাবে সৃষ্ট গ্রেফতার আতঙ্কে তাদের পরিবারের সাথে নিজের বিছানায় রাতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারছে না।”
গাজীপুর-৩ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনিত ধানের শীষ প্রার্থী ইকবাল সিদ্দিকী গতকাল গাজীপুর জেলা আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাজীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের এই প্রার্থীর পক্ষের উল্লেখযোগ্য তিনজন নেতাকর্মীকে পুলিশ নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন। অবাদ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পুলিশি হয়রানী বন্ধে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন ধানের শীষের প্রার্থী ইকবাল সিদ্দিকী।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৩ ডিসেম্বর আমার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম যুগ্ন-আহয়ক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির সরকার এবং আরো একজন যুগ্ন-আহŸায়ক শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মোতালেবকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে আটক করে প্রথমে থানায় নিয়ে আসে পরে গায়েবী মামলায় আসামী করে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়। ১৪ডিসেম্বর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহŸায়ক জাতীয়বাদী ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পীরজাদা এস এম রহুল আমিনকে স্থানীয় টেংরা বাজারে ঐক্যফ্রন্টের পথসভা শেষ করে বাড়ি ফিরার সময় আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সাথে সাথেই আমরা থানায় হাজির হয়ে আটকের বিষয়টি জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানায়, তাকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। পরের দিন তাকে কাপাসিয়া থানার এক সাজানো নাশকতার মামলায় জেল হাজতে পাঠানো হয়। অথচ মামলায় বর্ণিত সময়ে তিনি মসজিদের ইমামতি করছিলেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় যার বয়স প্রায় আশির কোটায় এমন একজন মানুষকেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পিছপা হয়নি। তাহলে আমার নির্বাচনী এলাকার অন্যান্য নেতাকর্মীদের কী অবস্থা হতে পারে? প্রতি রাতেই পুলিশ আমার কর্মীদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে।
সোমবার আদালত চত্বরে ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত গাজীপুর-৩ আসনের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী ইকবাল সিদ্দিকী যখন এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলছিলেন ঠিক তখন গ্রেফতারকৃত তাঁর নেতাকর্মীদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের দু’দিনের রিমান্ড মুঞ্জুর করে আদালত।

গাজীপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরীর জন্য পুলিশকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদালতের পূর্বের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া কাউকে যেন কোনো প্রকার গায়েবী মামলায় পুলিশি হয়রানীর শিকার হতে না হয় সেজন্যেও পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।