Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রিভিউ শুনানি সোমবার: দুই মাস সময় চান মীর কাসেম

জুলাই ২৪, ২০১৬
আইন- আদালত, শীর্ষ সংবাদ
No Comment

Mir Kashem Ali- (4)আইন-আদালত ডেস্ক:
একাত্তরে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর বাহিনীর তৃতীয় শীর্ষনেতা মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদনটি শুনানি হবে আগামীকাল ২৫ জুলাই সোমবার।

মীর কাসেমের মামলাটি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে সোমবারের কার্যিতালিকায় ৬৩ নাম্বারে রাখা হয়েছে। কার্যতালিকায় শুনানি মুলতবি জন্য আসামিপক্ষের সময় আবেদনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। মীর কাসেমের ছেলে ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম জানিয়েছেন, শুনানির প্রস্তুতির জন্য দুই মাসের সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অন্য বিচারপতিরা হলেন, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

এর আগে গত ২১ জুন আসামি পক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মীর কাসেমের রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য ২৫ জুলাই দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। গত ১৯ জুন ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মীর কাসেম আলী।

নিয়মানুযায়ী মীর কাসেমের এ আবেদনটি নিষ্পত্তি হলেই বহু আলোচিত মীর কাসেম আলীর এ মামলায় ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করবে সরকার। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের এ অর্থ যোগানদাতার দণ্ড কার্যকরে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না।

জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের পর মীর কাসেম ছিলেন আলবদর বাহিনীর তৃতীয় প্রধান নেতা। তার যোগানো অর্থেই জামায়াতে ইসলামী শক্ত ভিত্তি পায়।

এ মামলার বিচারে রাষ্ট্রপক্ষ ৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেমকে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তানের খান সেনাদের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হওয়া ‘বাঙালি খান’ হিসাবে, যিনি সে সময় জামায়াতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত ৮ মার্চ মীর কাসেম আলীর আপিল খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ। অন্য বিচারপতিরা হলেন, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুই অভিযোগে মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড এবং আট অভিযোগে সব মিলিয়ে ৭২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।গত ৮ মার্চ আপিলের রায়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মূল হোতার বিরুদ্ধে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদকে খুনের দায়ে এক অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ছয় অভিযোগে ৫৮ বছর কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখা হয়েছে।

গত ৬ জুন মীর কাসেমের ২৪৪ পৃষ্ঠার ফাঁসির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। নিয়মানুযায়ী পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করেন মীর কাসেম আলী।

১৯ জুন ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মীর কাসেম আলী। মোট ৮৬ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ১৪টি যুক্তি দেখিয়ে ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়েছে। ২৫ জুলাই রিভিউ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

রিভিউ খারিজ হলে নিয়ম অনুযায়ী একাত্তরের বদরবাহিনীর এ নেতার কেবল নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। এ বিষয়টির নিষ্পত্তি হলেই সরকার দণ্ড কার্যকর করবে।
২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর আপিলে আসা এটি সপ্তম মামলা, যার ওপর চূড়ান্ত রায় প্রকাশের পর এখন রিভিউ শুনানির অপেক্ষা।তবে রিভিউ যে আপিলের সমকক্ষ হবে না, তা যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়েই স্পষ্ট করা হয়েছে।

মীর কাসেমের রিভিউ খারিজ হলে সে রায়ের কপি যাবে ট্রাইব্যুনালে। আপিল বিভাগের এই রায়ের কপি পেয়ে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডের বিষয়ে বিচারিক আদালত অর্থাৎ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুপরোয়ানা জারি করবে।

রিভিউ আবেদনে রায় বহাল থাকলে রাষ্ট্রপতির কাছে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে পারবে মীর কাসেম আলী প্রাণ ভিক্ষার প্রার্থনার পর রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করা না করার উপর সিদ্ধান্ত হবে। তবে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা নাকচ করলে আসামির দণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকবে না। অর্থাৎ মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরে এখনো এই একটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।