Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮

রানীনগরে নীতিমালা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

জুন ২২, ২০১৫
অপরাধ, দূনীতি, নওগাঁ, পরিবেশ
No Comment

Raninagar_Pic-22-06-15_(2)[1]
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে ছোট যমুনা নদী থেকে নীতিমালা উপেক্ষা করে ড্রেজিং পদ্ধত্তিতে শ্যালো মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে ইজারাদার ও তাদের আস্তাভাজন প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা। তাদের খেয়াল খুশি মতো বালু উত্তোলন করায় নদীর তীরবর্তী স্থাণীয় কৃষকদের কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ছে। বাধা দিতে গেলে ওই প্রভাবশালীরা তাদের মারপিটের হুমকীসহ থানাপুলিশের ভয়-ভীতি দেখে বালু  উত্তোলনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে ওই এলাকার কৃষকরা স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।
জানা গেছে, রানীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউপি’র পাশ দিয়ে প্রবাহিত নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর বালুমহালে ২২টি শর্ত সাপেক্ষে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের  জন্য আশরাফ-ই-শিমন নামের এক ব্যক্তি ৪ লক্ষ ৫১ হাজার ৫০ টাকায় নওগাঁ জেলা প্রশাসকের রাজশ্ব শাখা থেকে গত ২৩ এপ্রিল ২০১৫ইং তারিখে ইজারা নেয়। তখন থেকেই ইজারাদার শিমন সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাশিমপুর ইউপি’র নগর বালুর ঠিকি নামক স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা শুরু করলে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী নয়ন, জালাল সরদার, ছামছুর সহ নদীর তীরবর্তী কৃষকরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইজারাদারের সাথে গোপন আতাঁত করে নয়ন, জালাল সরদার, ছামছুর পুনরায় বালু উত্তোলন ও তাদের ব্যবসা শুরু করে। এলাকাবাসি প্রতিবাদ করলে ওই ব্যবসায়ীদের হুমকী-ধামকিতে তারা এখন বড় অসহায়। কৃষকরা তাদের সম্পত্তি রক্ষার জন্য দ্বিতীয় দফা সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। বিষয়টি নিয়ে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল­াহ আল-মাসউদ চৌধুরীর নের্তৃত্বে ইজারাদার ও গ্রামবাসির মধ্যে দু’দফা বৈঠক হলেও সঠিক সিদ্ধান্তে না পৌঁছার কারণে নগর গ্রামের কৃষকদের সাথে ইজারাদার গ্রæপের উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মহুর্তে বালু উত্তোলনকারি ও তাদের দোসরদের সাথে গ্রামবাসির সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে বলে ধারণা করছে এলাকাবাসি। বর্তমান অবস্থায় বালু মহাল হতে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন কার্যক্রম চলতে থাকলে উত্তর পার্শ্বে থাকা যমুনা নদীর উপর নির্মিত ব্রীজ, পশ্চিম পাশে বিশ্ব রোড এবং পূর্ব পাশে থাকা সড়ক বিভাগের নওগাঁ-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কটি ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হতে পারে বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন।
স্থানীয় কৃষক করিম মেম্ভার, উজ্জল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, ফজলুল হক নজরুল ইসলামের দাবি উপজেলার কাশিমপুর মৌজার নকশায় কোন নদী ও বালু মহল নাই। যেখানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলছে সেটি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি, আমাদের জমির সীমানা নির্ধারণ করে দিয়ে যেখানে নদী আছে সেখানে বালু তুললে আমাদের কোন আপত্তি নাই। স্থানীয় প্রশাসন এর সুষ্ঠ সমাধান না করায় জটিলতা দিন-দিন বাড়ছে।
ইজারাদার আশরাফ ই-শিমনের প্রতিনিধি ঝন্টু জানান, আমরা সরকারি নীতিমালা মোতাবেক ড্রেজার মিশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছি। বরং গ্রাম বাসিরাই নানা দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে আমাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে।
কাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বাবু জানান, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের শুরুতেই গ্রামবাসি তাদের বাধা দেয়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি, যে ভাবে তারা বালু উত্তোলন করছে তাতে করে ওই এলাকার কৃষি জমি রাস্তা-ঘাট ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এমনকি নদী পথে নৌ চলাচলের পথটিও বন্ধ করে রেখেছে।
রানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী জানান, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে যেহেতু সরকার বালু উত্তোলনের লিজ দিয়েছে সেহেতু ইজারাদার নীতিমালা অনুযায়ী বালু উত্তোলন করবে। এর বাহিরে কিছু করতে গেলে  যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।