Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাণীনগরে সরকারী আশ্রয়ণ প্রকল্প দখল

মে ২৪, ২০১৭
অনিয়ম, নওগাঁ
No Comment


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বেলঘড়িয়া সরকারী আশ্রয়ণ প্রকল্প হস্তান্তরের পরদিনই ২০টি ঘর রাতারাতি জবরদখল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ শেষে ইউএনও’র মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট চাবি হস্তান্তর করা হয়। পরদিন শুক্রবার রাতেই দখলের ঘটনাটি ঘটেছে। এরিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত আশ্রয়ন প্রকল্পটি দখল মুক্ত করার কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। ইউএনও’র রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউপি’র বেলঘড়িয়া গ্রামের একটি খাস পুকুরের পাড়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের ২০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। এতে ২০টি আশ্রয়হীন পরিবারকে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য এলাকায় প্রচারনার মাধ্যমে প্রকৃত গৃহহীনদের ঘর বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ইউএনও’র বরাবর আবেদন করার জন্য বলা হবে। আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিটি যাচাই বাছাই শেষে প্রকৃত গৃহহীনদের মাঝে ঘরগুলো লিখিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু যাচাই বাছাই ও বরাদ্দ ছাড়াই ইউএনও সোনিয়া বিনতে তাবিবের সহযোগীতায় কালীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু ও স্থাণীয় ইউপি সদস্য এবাদুল হক তাদের লোকজনদের রাতারাতি আশ্রয়ন প্রকল্পের ২০টি ঘরে ২০টি পরিবার উঠিয়ে দিয়ে দখল করে নেয়। যাচাই বাছাই ছাড়া দখলের নামে লক্ষ লক্ষ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

দখলকারী আলম হোসেন, ছাবের আলী, রিমা বেগমসহ অনেকেই জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবাদুল হক ও কালীগ্রাম ইউপি’র চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু’র সহযোগিতায় আমরা ঘরে উঠেছি। আমাদের কাছে ঘরের কোন সরকারী কাগজপত্র নেই। স্থানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার ও চেয়ারম্যান জানেন, আমরা কিছু জানি না। আমাদের অসতে বলেছে আমরা এসেছি, মেম্বার আমাদের ঘরের তালা খুলে দিয়েছে আমরা আসবারপত্র নিয়ে ঘরে উঠেছি।

এবিষয়ে উপজেলার কালীগ্রাম ইউপি’র ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য এবাদুল হক বলেন, আমাকে কালীগ্রাম ইউপি’র চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু তাদেরকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে উঠিয়ে দেওয়ার আদেশ দিলে আমি তাদের সহযোগিতা করি। কাগজপত্রের বিষয়ে আমি কোন কিছু জানি না। সব জানেন কালীগ্রাম ইউপি’র চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এবিষয়ে উপজেলার ৬ নং কালীগ্রাম ইউপি’র চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মুঠোফোনে বলেন, বেলঘড়িয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরের কোন কিছু চুরি না হওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে ৫-৬ জনকে পাহারা দেওয়ার জন্য ঘরে উঠিয়ে দেওয়ার কথা বললে আমি তাদের উঠিয়ে দেই। বাঁকী সব ঘরগুলোতে আবেদনপত্রের আলোকে লোকজন উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্রগুলি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব মুঠোফোনে জানান, বেলঘড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে সেনাবাহিনীরা আমাদেরকে ঘর হস্তান্তর করে দিয়েছে। কাগজপত্র আগে যাচাই বাছাই করে ঘরে উঠতে হবে এমন কোন কথা না। তাদের কাগজপত্র পরে করে দেওয়া হবে।