Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাণীনগরে শুরুতেই জমে উঠেছে ঈদের বাজার


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: ঈদ মানে আনন্দ আর এই আনন্দের প্রস্তুতি নিতেই প্রতি বছরের মত এবারও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সবাই কেনা-কাটায় আর জমে উঠেছে রাণীনগরের বিভিন্ন এলাকায় ঈদ বাজার। এবার ক্রেতাদেরকে একটু আগে থেকেই ঈদের কেনাকাটা করতে দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হিসাবে অনেক ক্রেতারা জানায় ঈদেও কেনাকাটা তো কম বেশি করতেই হবে তাই প্রথমেই দেখেশুনে কেনার সময় বেশ ভালো পাওয়া যায়। তাই একটু আগে থেকেই সচেতন ক্রেতারা কেনা কাটা শুরু করেছেন।

বর্তমানে রাণীনগরের প্রতিটি মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলোতে দেখা গেছে ঈদের আমেজ। সব দোকানেই ক্রেতার সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে দর্জি পাড়ার কারিগররা। অনেকেই আবার ঈদের কেনাকাটার ভিড় জমার আগেই দর্জির দোকানগুলোতে পছন্দ মতো কাপড় কিনে তৈরি করতে দিচ্ছেন বিভিন্ন পোষাক।

রাতভর সেলাই মেশিনের শব্দে সমাগম হয়ে থাকছে টেইর্লাস পট্টিগুলো। কিছু কিছু টেইলার্সের দোকানে সাইনর্বোড ঝুলছে “ ঈদের শেষ আট দিন কোন অর্ডার নেয়া হবে না”। ছোট থেকে শুরু করে ভিআইপি দোকানের কারিগররা এখন দিনরাত ব্যস্ত। দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। তবে গত বারের চেয়ে এবার প্রতিটি কাপড়ের দোকানগুলোতে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের উপচে পরা ভিড়। এছাড়া শাড়ির দোকানগুলোতেও রয়েছে সমান ভিড়। শাড়ী ও তার সাথে ম্যাচ করে অন্যান্য জিনিসপত্র কেনার জন্য সবাই এখন ব্যস্ত।

এবারে ঈদে বিভিন্ন মেগাসিরিয়ালে নায়িকাদের পরিহিত পোষাকের নামের পোষাকগুলোর চাহিদা তরুনীদের মাঝে। কেউ কেউ বাহুবলী, ধূম, পাখি জামা, কেউ কেউ কিরণমালার জামাসহ অন্যান্য নায়িকাদের পরিহিত জামাই বেশি ক্রয় করছে বলে বিভিন্ন দোকানীরা জানান। সবাই এই ঈদে দেশি-বিদেশি কাপড় কেনায় বেশি ব্যস্ত। এলাকার বিভিন্ন কাপড়ের দোকানে দেখা গেছে দেশি-বিদেশি থ্রি পিচ কেনার জন্য মেয়েদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদ মানে আনন্দ তাই অভিভাবকদের একটু কষ্ট হলেও সন্তানসহ অন্যান্য প্রিয়জনের মুখে হাসি ফুটাতেই শত সমস্যা উপেক্ষা করে কিনে দিচ্ছেন।

অপরদিকে সুযোগ হাতে পেয়ে দর্জিপাড়ার লোকেরা সময় নেই এবং কাজের অনেক ভিড় বলে দ্বিগুন পারিশ্রমিকে অর্ডার নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্যান্ট ও শ্যার্ট পিস থেকে শুরু করে থ্রি-পিচ , শাড়ি এবং তৈরী পোষাকের প্রতিটির মূল্য গত বারের চেয়ে এবার হাতের নাগালে আছে বলে অনেক অভিভাবকরা জানান। প্রতিটি ম্যার্কেট ও কসমেটিক্স বিপনী বিতানগুলোতে প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও বেশি দামের জন্য পছন্দের জিনিস অনেকেই নিতে পারছে না । রাণীনগরের বাজার মার্কেট, উপজেলা মার্কেট ,আবাদপুকুর মার্কেট, কুজাইল মার্কেট ও বেতগাড়ী মার্কেট গুলো ঘুরে দেখা যায় এবারও মার্কেট গুলোতে বিদেশী কাপড়ে সয়লাব।

ভারত, পাকিস্তানি, চীন, জাপান, কোরিয়ার প্যান্ট ও শ্যার্ট পিস এবং ভারতীয় থ্রি-পিচে বাজার ভরে গেছে। দোকানিরা বলছে এগুলো বৈধ ভাবে আমদানী করা হয়েছে। ভারতীয় থ্রি-পিচ গুলোর বেশির ভাগেরই নাম ভারতীয় ছবির নায়ক ও নায়িকাদের নামানুসারে করা হয়েছে। কুপনের মাধ্যমে সেরা বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে বিভিন্ন আর্কষনীয় পণ্য সহ বিভিন্ন অফার।

আর্কষনীয় অফারে অনেকেই ছুটছেন সেই সব বিপনী বিতানগুলোতে। বিভিন্ন মার্কেটে ঈদ বাজার করতে আসা মামুন, রিতু, সুমি, রানা, হোসেন, শিউলী, নাজনীন সহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার একটু আগেই ঈদের কেনাকাটা শুরু করেছি। কারণ শেষ সময়ের দিকে তেমন একটা ভালো জিনিস পাওয়া যায় না। তাই আগেই পরিবারের পছন্দ মতো কেনাকাটা করে রাখার জন্য মার্কেটে এসেছি। এবার থ্রি-পিচসহ ছেলেদের প্যান্ট ও শ্যার্টের দাম খুবই চড়া। তাই কাপড় কিনে বানাতে দিয়েছেন । তবে মজুরি একটু বেশী।

রাণীনগর বাজারের এশিয়া টেইলার্সের মালিক বিপ্লব জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছরে ধানের দাম না থাকায় কৃষি প্রধান এই এলাকায় কৃষকরা নায্য মূল্যে ধান বিক্রয় করতে না পারায় অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে কেনা-কাটা করতে পারছে না বলে চাপটা অনেকটাই কম। তবুও এবার শেষ সময়ের আগেই কাজের চাপ অন্য সময়ের তুলনায় একটু বেশি। লোকজনেরা শেষ সময়ে এসে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাই কারখানায় কর্মরত কারিগরদের সারা রাতভর কাজ করতে হয় বলে তাদের মজুরিও একটু বেশি দিতে হয় বলে মজুরিটা কিছুটা বেশি নিতে হচ্ছে।

উপজেলার রাণীনগর বাজারের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী রায়হান আলী জানান, এবছর শুরুর দিকে অন্যান্য বছরের তুলনায় ক্রেতাদের ভিড় একটু হলেও লক্ষণীয়। আশা রাখি এবার ঈদের পুরো মৌসুমে ক্রেতাদের ভিড়ে ঈদ বাজারের কেনা-কাটা জমে উঠবে। এতে করে ব্যবসায়ীরা অন্য বছরের তুলনায় এবার লাভের মুখ একটু হলেও বেশি দেখবেন বলে আমি আশাবাদী।

আবাদপুকুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী এনামুল হক জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এ বছরও জমে উঠেছে ঈদের বাজার। তবে এবার একটু থেকেই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই আশা করা যায় এবার ঈদের ব্যবসা খুব ভালো হবে।

উপজেলা বাসস্ট্যান্ডের এআর ফ্যাশনের মালিক পিন্টু জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবছর ক্রেতারা একটু পূর্ব থেকেই ঈদের কেনাকাটা করতে শুরু করেছেন। সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন-বোনাস পাওয়ার পরই পুরোদমে শুরু হবে ঈদের কেনাকাটা।