Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাণীনগরে ভারি বৃষ্টিপাত আর কালবৈশাখীর ছবলে বোরো ধানের ক্ষতি

এপ্রিল ২৯, ২০১৮
নওগাঁ, প্রকৃতি
No Comment


মো: শহিদুল ইসলাম, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে শনিবার সন্ধ্যায় ও রবিবার সকালে দফায় দফায় অব্যহত ভারি বৃষ্টিপাত আর কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে উঠতি পাকা বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে জিরা জাতের ধান লম্বা হওয়ার কারণে বৃষ্টি আর বাতাসে ধানের গাছ গুলো মাটি আর পানিতে একাকার হয়ে গেছে। পাকা ধানের নিম্মাঞ্চলের জমিতে বৃষ্টি আর ঢলের পানিতে প্রায় হাঁটু জলে পরিনিত হয়েছে। জমি থেকে বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে নামার কারণে ফলন বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। অনেক জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। চলতি মৌসুমে কৃষকরা ইরি-বোরো ধানের ভাল ফলনের বুকভরা আশা করলেও গত শনিবার-রবিবার বৈশাখী ঝড় আর বৃষ্টির কারণে ধানের ক্ষতি হওয়ায় আশানুরুপ ফলন নিয়ে চাষিরা শংকায় পড়েছে। গত দুই দিনের ভারি বৃষ্টিপাতে রক্তদহ বিল এলাকা ও উপজেলার মেইন রাস্তার দুই পাশের নিচু শ্রেণীর প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান ঢুবে গেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদেরকে দ্রæত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৪ শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবছর বেশি জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। রাণীনগর উপজেলায় কয়েক দিন আগে পুরোদমে শুরু হয় বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। উপজেলার কৃষকরা জিরাশাইল, খাটো-১০, স্বর্ণা-৫ জাতের ধান চাষ করেছে। নতুন ধান কাটার শুরুতেই বিঘা প্রতি ২০/২২ মন হারে ধান উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু গত শনিবার সন্ধ্যা ও রবিবার সকালে দফায় দফায় অব্যহত কালবৈশাখী ঝড় ও মসুলধারে বৃষ্টির কারণে উঠতি পাকা ধান জমিতে শুয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। গত দুই দিনের ভারি বৃষ্টিপাতে রক্তদহ বিল এলাকা ও উপজেলার মেইন রাস্তার দুই পাশের নিচু শ্রেণীর প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান ঢুবে গেছে। জমি থেকে বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে নামার কারণে ফলন বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্মাঞ্চলের জমিতে বৃষ্টি আর ঢলের পানিতে প্রায় হাঁটু জলে পরিনিত হওয়ায় ধান কাটা শ্রমিকদের কাজ করে নিতে বিঘা প্রতি গুনতে হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার টাকা। আবার কিছু এলাকায় অতিরিক্ত মজুরী দিয়েও ধান কাটা শ্রমিক না পাওয়ায় চরম র্দূভোগে পড়েছে কৃষকরা। বর্তমানে বাজারে নতুন ধানের আমদানি ও ভাল দরে কেনা-বেচা হওয়ায় কৃষকরা খুশি। জিরা জাতের সুরু ধান মান ভেদে ৮ শ’ ৫০ টাকা পর্যন্ত হাটে-বাজারে বেচা-কেনা হচ্ছে।
উপজেলার সিম্বা গ্রামের কৃষক মো: টিপু প্রাং জানান, আমি এবছর ৩০ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি। ইতিমধ্যেই ধান কাটা শুরু করেছি ফলন ভালই হচ্ছে। গত শনিবার-রবিবারের কালবৈশাখী ঝড় আর বৃষ্টিপাতে আমার প্রায় ২৮ বিঘা জমির জিরা জাতের ধান মাটিতে পড়ে গেছে। জমিগুলোতে ঢলের পানি জুমে যাওয়ায় বিঘা প্রতি অতিরিক্ত মজুরী গুনতে হচ্ছে। ভাল ফলন পাবো কি না এই নিয়ে শংকায় আছি।
উপজেলা কৃষি আফিসার কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, আমি নিজে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ঘুরে দেখেছি শনিবারের বৃষ্টি আর ঝড়ে রক্তদহ বিল এলাকা ও উপজেলার মেইন রাস্তার দুই পাশের নিচু শ্রেণীর প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান ঢুবে গেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদেরকে ঢুবে যাওয়া জমির ধান দ্রæত কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উপজেলা ৮টি ইউনিয়নে পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ভাল ফলন হচ্ছে।