Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮

রাণীনগরে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে পুকুর চুরি

nagaon-3
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ভান্ডার গ্রামের দামারপাড়ায় প্রায় ১শত ১টি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতি সংযোগের জন্য ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ানরা নিজেদের দায়িত্বে পাওয়া গ্রামে কতিপয় ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে এক সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন যার মাধ্যমে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে দফায় দফায় আদায় করে অর্থ।

বর্তমানে ওই গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে পুকুর চুরি করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের মন্তব্য। যেখানে বর্তমান সরকার দেশের প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিনা মূল্যে ও বিনা খরচে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার অঙ্গিকারাবদ্ধ অথচ এক শ্রেণির অসাধু দালাল শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গ্রামের এই সব অসহায় মানুষদের কে বিভিন্ন বাহানায় জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা আর প্রতারিত হচ্ছে গ্রামের সাধারণ মানুষ। অপরদিকে রাণীনগর বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন ওই গ্রামে গ্রাহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ এখনো প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। তাই অফিসিয়ালী টাকা নেওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না।

সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা, উপজেলার পারইল ইউপির ভান্ডার গ্রামের দামারপাড়ায় প্রায় ১শত ১টি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে স্থানীয় প্রভাবশালী আবুল কালাম ও তার সহযোগি সাবেক ইউপি সদস্য মো: গোলাম মোস্তফা প্রায় ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ১বছর অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত ওই গ্রামে কতিপয় ব্যক্তিরা বিদ্যুৎ পৌছে দিতে না পারায় গ্রামবাসীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আবার অনেকেই অভিযোগ করে বলেন গোলাম মোস্তফা ও আবুল কালাম গ্রামবাসীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের নাম করে অর্থ তুলে গোলাম মোস্তফার নির্বাচনে ব্যয় করেছেন। সে কারণে টাকাগুলো বিদ্যুৎ অফিসে না পৌছায় আজ অবধি এই গ্রাম অন্ধকারে রয়েছে।

ভান্ডার গ্রামের দামারপাড়ার মৃত- আফছার উদ্দিন কাজীর ছেলে রহিম কাজী ( ৪০) জানান, আমাদেরকে দুই মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ এনে দেওয়ার নাম করে কতিপয় ব্যক্তিরা কয়েক দফায় প্রায় ১১ হাজার টাকা নিয়েছে অথচ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নতুন করে বিদ্যুৎ পৌছে গেলেও আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ আসার নামে কোন খবর নেই। আমরা বিদ্যুৎ অফিসে যেতে চাইলে এই সব ব্যক্তিরা আমাদের কে ঘোড়া বুঝ দিয়ে রাখতো। বলতো আপনাদের কোথাও যেতে হবে না যেখানে যা করার দরকার আমরা করছি।

একই গ্রামের মৃত- রমজান আলীর ছেলে ইসরাফিল আলম (৪৫) জানান, গোলাম মোস্তফা ও আবুল কালাম গ্রামে দফায় দফায় বৈঠক করে আমাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে। আদৌ এই গ্রামবাসীরা বিদ্যুৎ পাবে কিনা তা নিয়ে আমরা ভুক্তভুগিরা সংশয়ের মধ্যে রয়েছি। ভেবেছিলাম টাকা যখন দিলাম হয়তো অতি দ্রæত বিদ্যুৎ পাবো। আমার বাবা বিদ্যুতের আলো দেখে যেতে পারবে কিন্তু বাবার আর বিদ্যুতের আলো দেখার ভাগ্যে হলো না।

একই গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে ইউনুছ আলী (৩০) ও মৃত- তাছের আলীর ছেলে আবু হাশেম (৪৫) জানান, আমরা গ্রামের অশিক্ষিত মানুষ বলে ওই ব্যক্তিরা আমাদের ধোকা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা ওই সব লোভী ও দালাল ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি চাই। আমরা আমাদের দেওয়া টাকা ফেরত চাই।

এবিষয়ে আবুল কালাম জানান, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য প্রায় এক বছর পূর্বে টাকা তুলে আমাদের গ্রামের এক ব্যক্তিকে অর্ধেক টাকা দিয়েছিলাম। আর বাঁকি টাকাগুলো পরবর্তি সময়ে বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে আসাসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজে খরচ করা হয়েছে।

রাণীনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম মুতাসিম বিল্লাহ জানান, ওই গ্রামে সবেমাত্র ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকারের চুক্তি মোতাবেক লাইন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছে। সংযোগের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। বিদ্যুৎ বিষয়ে সরাসরি অফিসে যোগাযোগ করার জন্য মাইক দিয়ে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে সচেতনতা মুলক প্রচার-প্রচারনা চালিয়েছি। তবুও কোন দালাল শ্রেণির লোক যদি এরকম প্রতারণা করে থাকে তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নওগাঁ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের জিএম এনামুল হক প্রামাণিক জানান, যেখানে বর্তমান সরকার বিনা খরচে ভুর্তকি দিয়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার জন্য অঙ্গিকারাবদ্ধ সেখানে কোন ব্যক্তি বিদ্যুৎ সংযোগের নাম বলে একটি টাকাও নেওয়ার কোন অধিকার রাখে না। যদি কোন অসাধু দালাল শ্রেণির ব্যক্তিরা বিদ্যুৎ বিষয়ের নাম ভেঙ্গে কোন প্রকারের অর্থ নিয়ে থাকে তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তর মুলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।