Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাণীনগরে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং জনজীবন বিপর্যস্ত

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭
জনপ্রতিনিধি, নওগাঁ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
No Comment


মো: শহিদুল ইসলাম , নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে বেশ কয়েকদিন ধরে তীব্র রোদ ভ্যাপসা গরম আর অব্যাহত বিদ্যুতের লোডশেডিং এ মানুষের জীবন-যাপন প্রায় ওষ্ঠাগত। লোডশেডিং এর সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে ভৌতিক বিলের যন্ত্রনা। প্রচন্ড লোডশেডিং এর কারণে ব্যাহত হচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজার জমকালো আলোক সজ্জা। মঙ্গলবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দূর্গা পূজা শুরু হয়েছে। লোডশেডিং এর নামে বিদ্যুতের লুকোচুরির কারণে সন্ধার পর থেকে রাত অবদি ভক্তদের মন্ডপে আসা-যাওয়ার অসুবিধার কারণে উপজেলার ৪১ টি মন্ডপের আয়োজকরা শঙ্কায় রয়েছে। রাণীনগর থানাপুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ডপে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, ব্যবসা-বানিজ্য, মিল-কলকারখানার উৎপাদন সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দিন দিন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে উপজেলার সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, রাণীনগর সাব-জোনাল অফিসের অধিনে বর্ষা মৌসুমের কারণে বিদ্যুৎ চালিত নূলকূপ বন্ধ থাকলেও লোডশেডিং এর কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩৯ হাজার ৭ শ’ গ্রহক। রাণীনগর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের আবাসিক গ্রাহক প্রায় ২৮ হাজার, ব্যানিজ্যিক ১ হাজার ৩ শ’, দাতব্য সহ অন্যান্য ৪ শ’ গ্রাহক রয়েছে। রাণীনগর অফিসের আওয়াতাধীন গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা ৯ মেগাওয়াট হলেও চাহিদার বিপরীদে বর্তমানে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৫ মেগাওয়াট। চাহিদা মত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় লোডশেডিং এর আকার প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিন রাত মিলিয়ে অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে প্রচন্ড গরমে রাতে মানুষের ঘুম হারাম হয়ে পড়ছে। বিপাকে পড়ছে শিক্ষার্থীরাও। ভ্যাপসা গরম ও তীব্র তাপদাহে কদর বেড়ে গেছে কোমল পানি জাতীয় খাবারের যেমন, বেলের সরবত, শসা, তরমুজ, ডাব ও আইসক্রীম। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে গ্রামের সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যেই প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমের কারণে নানান রোগে ছোট-বড় বৃদ্ধ সহ সব বয়সীর মানুষ আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভির জোমাচ্ছে। এর মধ্যে আবার নতুন করে যোগ হয়েছে ভৌতিক বিলের যন্ত্রনা। চলতি বছরের গত ৮ মাসে প্রতিটি গ্রাহকের যে পরিমাণ বিল এসেছিল চলতি মাসে তা হয়েছে দ্বিগুণ। যার ফলে উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রাহকের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ‘চলতি মাসে কেন দ্বিগুণ বিল হলো? এমন প্রশ্নের কোন যুক্তগত উত্তর নেই রাণীনগর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে।
উপজেলার কলেজ পাড়ার শারদীয় দূর্গা মন্ডপের আয়োজক শ্রী অরুন বোস জানান, পূজা শুরু হওয়ার পর থেকে অব্যাহত লোডশেডিং এর কারণে আমাদের ধর্মীয় বিষয় গুলো পালন করতে অসুবিধা হচ্ছে। ভক্তদের যাওয়া-আসার সুবিধার্থে নির্বিছিন্ন আলোক সজ্জা স্বচল রাখার স্বার্থে বাধ্য হয়ে নিজ উদ্দ্যোগে জেনারেটরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ এর লুকোচুরি সব সময় থাকলেও ভৌতিক বিলের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছি না।
নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রাণীনগর সাব-জোনাল অফিসের এজিএম মোঃ মোতাছিম বিল্লাহ জানান, গত কয়েক দিন লোডশেডিং এর পরিমাণ বেশি থাকলেও বর্তমানে এর অবস্থার উন্নতি হতে চলেছে। দুই এক দিনের মধ্যেই নিবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। ভৌতিক বিলের ব্যাপারে তিনি ছাপাই গেয়ে বলেন, লোডশেডিং এর কারণে সাময়িক সার্ভিস বন্ধ থাকলেও বিদ্যুৎ পাওয়ার সাথে সাথে গ্রাহকরা পুরোদমে ব্যবহার করার কারণে বিলের পরিমাণ এ মাসে একটু বেশি আসছে, ভৌতিক বিল কখনোই করা হয় না।