Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাণীনগরে বন্যাকে উপেক্ষা করে চলছে আউশধান কাটা-মাড়াইয়ের ধূম

অগাষ্ট ২২, ২০১৭
কৃষি, নওগাঁ
No Comment

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে চলমান বন্যাকে উপেক্ষা করে চলছে আউশধান কাটা-মাড়াইয়ের মহা ধূম। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। দেশে যখন উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নওগাঁর আত্রাই (ছোট যমুনা) নদীতে বন্যার পানি দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে রাণীনগরের নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে ঠিক তখনই উন্নত মানের চাল উৎপাদনে বিখ্যাত জেলার রাণীনগর উপজেলার আউশধান চাষে বিখ্যাত একাডালা ইউনিয়নে চলছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের মহা ধূম। ।

সম্প্রতি উপজেলার ২বেরী বাঁধের ৩টি মূলবাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবাহিত হয়ে উপজেলার রাণীনগর সদর, কাশিমপুর, গোনা, মিরাট, বড়গাছা ইউনিয়নের প্রায় ৫৮টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। এই বন্যার কারনে উপজেলার প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শতাধিক পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা, এবছর উপজেলার একডালা ইউনিয়ন ও এর আশেপাশের মোট ৩হাজার ২শত ২০হেক্টর উচু জমিতে আউশধানের চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ১শত হেক্টর আউশধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আর ১হাজার ৫শত হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। উপজেলায় হঠাৎ করে উজানের পানি নেমে আসার কারণে বন্যা দেখা দেওয়ায় কৃষকরা একটু আগেই আউশধান কাটা শুরু করেছেন। ধানের দাম ভালো থাকায় শুরু করেছেন মাড়াই কাজ। প্রতি বিঘা জমিতে আউশ ধানের ফলন হয়েছে প্রায় ১৫মণ। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কৃষকের বাড়ির উঠানে চলছে আউশধান মাড়াইয়ের কাজ। অপরদিকে উপজেলায় বন্যার কারণে গো-খাদ্যের চরম সংকট হওয়ায় আউশধানের এই খড়গুলো খাদ্য হিসাবে যোগান দিচ্ছে।

শিয়ালা গ্রামের কৃষক মো: এবাদুল হক জানান, তিনি এ বছর দুই একর জমিতে আউশধানের আবাদ করেছেন। ফলন খুব ভালো পেয়ে তিনি খুশি। উপজেলায় বন্যা আসার কারণে তিনি একটু আগেই ধান কাটা শুরু করেছেন। ধানের দাম ভালো থাকায় লাভের পরিমাণ দ্বিগুন হবে বলে তিনি আশাবাদি।

ডাকাহার গ্রামের কৃষক শেখ মো: হাফিজার রহমান জানান, যদিও বা বন্যার পানি এখনো আমাদের মাঠে প্রবেশ করেনি। তবুও আমি বন্যার ভয়ে একটু আগেই ৭বিঘা জমির আউশধান কাটা শুরু করেছি। ফলন বেশি ও খরচ কম হওয়ায় এলাকার কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, উপজেলায় বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ফসলের অনেক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি দ্রুত নেমে না যাওয়ার কারনে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন ফসলের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। তবে উপজেলার একাডালা ইউনিয়ন ও তার আশেপাশের উচু জমিতে আউশধানের চাষ করা হয়েছে। এবার আউশধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বন্যার কারণে কৃষকদের অগ্রিম ধান কাটার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। যদি মাঠের পানি সাতদিনের মধ্যে নেমে যায় তাহলে জমিতে আবার স্বল্পকালিন বিভিন্ন প্রজাতির ধান লাগানোর সুযোগ পাবেন কৃষকরা। তবে কৃষকদের প্রতিনিয়তই বন্যা পরবর্তি করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।