Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাণীনগরে ঝুঁকিপূণ বিদ্যালয় ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম

অক্টোবর ২৮, ২০১৭
শীর্ষ সংবাদ
No Comment

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার শতবর্ষি রাণীনগর (২) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের গাইড ওয়াল ভেঙ্গে গেছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে যেকোন মূহুর্তে ভবনটি ভেঙ্গে পরার আশংকা রয়েছে। যার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

অপরদিকে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিদ্যালয়ের চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ না করায় শ্রেণি কক্ষ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শ্রেণি সংকটের কারণে এক শিফটের পাঠদান চলছে দুই শিফটে। এতে করে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। কর্তৃপক্ষে অবহেলা ও উদাসিনতায় শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারনে বিদ্যালয়ের মানসম্পন্ন শিক্ষা থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, ১৯১০ সালে রাণীনগর (২) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। উপজেলার খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়নের খট্টেশ্বর গ্রামে সাড়ে ৭২ শতক জমির উপর বিদ্যালয়টি অবস্থিত। শতবর্ষের অধিক সময় ধরে বিদ্যালয়টি এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা তৎকালীন সময়ে অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেন। বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি বহুমুখি সমস্যায় জর্জড়িত। শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারণে ১ম শ্রেণির ‘ক’ ও ‘খ’ শাখার ৮০ জনের পাঠদান একই কক্ষে, ২য় শ্রেণির ‘খ’ শাখা ও তয় শ্রেণির ‘খ’ শাখার পাঠদান একটি টিন সেডের পরিত্যাক্ত কক্ষে করাতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশু শ্রেণি, ১ম শ্রেণি ও ২য় শ্রেণির ছুটির পর অন্যান্য শ্রেণির পাঠদান করানো হয়। শিশু শ্রেণির জন্য একটি নিদ্রিষ্ট শ্রেনি কক্ষ থাকা বাধ্যতামূলক।

২০০১ সালে থেকে পুরাতন জরাজীর্ণ ৪টি কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করায় এই বিদ্যালয়ে কক্ষ সংকট আরো প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে পাশের একটি টিন সিডের কক্ষ সংস্কার করে সেখানে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ১টি টিনের কক্ষসহ মোট ৬টি কক্ষে চলে পাঠদান কার্যক্রম যা শিক্ষার্থীর তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এছাড়াও প্রথম শ্রেণির দুই শাখাকে এক কক্ষে পাঠদান করানো হচ্ছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে গত ২০০১ সালে নির্মাণ করা দ্বিতল ভবনের পূর্বদিকের গাইড ওয়ালটি (সহায়ক দেওয়াল) পুকুরের মাঝে ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে। যে কোন সময় ভবন এবং টয়লেটটি পুকুরের মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা। এই বিদ্যালয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ শত ৩১ জন শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করতে আসে। কিন্তু ঐতিহ্যপূর্ণ এই বিদ্যালয়টিতে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়াই স্পর্শ করেনি। বহুবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিত ভাবে জানানোর ফলেও আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি বলে জানান বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ চন্দ্র প্রামাণিক জানান, শতবর্ষী এই বিদ্যালয়টি খুবই অবহেলিত। বিদ্যালয়ের গাইড ওয়ালটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরাও প্রতিনিয়তই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। বিদ্যালয়ে চরম কক্ষ সংকট থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা আধুনিক মান সম্মত শিক্ষাগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অপরদিকে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে শিক্ষকরাও হিমশিম খাচ্ছেন। তাই অতি দ্রæত বিদ্যালয়ের কক্ষ সংকটসহ যাবতীয় সমস্যা নিরসন করা অতিব প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এসএম রহীমূল বাসার বাবলু জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ের গাইড ওয়ালটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে ভবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে। অপরদিকে কক্ষ সংকটতো আছেই। বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোন তহবিল না থাকার কারণে আমরা কোন কিছুই করতে পারছিনা। তাছাড়া ভবন ধসে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসনসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার সমস্যাগুলো সম্পর্কে লিখিত আবেদন দিয়েছি। তারা আশ্বাস প্রদান করেছেন। বিদ্যালয়ের গাইড ওয়াল ও একটি নতুন ভবন নির্মাণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজনুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের গাইড ওয়াল ও শ্রেণি সংকটের বিষয়টি উপর মহলকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। সরকারি বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত কোন কিছুই করা সম্ভব নয়। তবে আশা রাখি অতিদ্রæত এই সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য সরকার জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, বিদ্যালয়ের সমস্যার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আল ফারুক জেমস বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় উপজেলার বরাদ্দ খুবই কম। যার কারণে অনেক কিছু করতে চাইলেও তা করতে পারি না। নতুন ভবনতো আর আমরা নির্মাণ করার ক্ষমতা রাখি না। তবে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রয়োজন মতো বরাদ্দ পেলেই বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজ করবো।