Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাণীনগরে চোর সিন্ডিকেটকে চাঁদা দিয়ে চলতে হয় গভীর নলকূপ ও রাইস মিল মালিকদের !

মো: শহিদুল ইসলাম, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে চোর সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে চাঁদা দিয়ে চলতে হয় বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপ ও রাইস মিল মালিকসহ ব্যবসায়ীদের । মিটার চুরির পর চোর সিন্ডিকেটের দেয়া মোবাইলের বিকাশ নাম্বারে দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিলেই মিলে যায় চুরি হওয়া বৈদ্যতিক মিটার। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও আজ পর্যন্ত এই সিন্ডিকেটের কোন সদস্যকে গ্রেফতার কিম্বা সনাক্ত করতে পারেনি থানা পুলিশ। ফলে দিন দিন বেরেই চলেছে এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্বক ।

এলাকা ঘুরে বিভিন্ন গভীর নলকূপ মালিক ও রাইস মিল মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ২/৩ বছর ধরে রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যতিক মিটার চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা রাতের আধারে মিটার চুরি করে তাদের সাথে যোগা-যোগ করার জন্য ওই মিটার বোডের পার্শ্বে একটি করে মোবাইলের নাম্বার রেখে যায় । চোরদের দেয়া ওই নাম্বারে যোগা-যোগ করলে গ্রাহকদের নিকট থেকে মিটার ফেরৎ দিতে ১০/১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে। এসব দাবিকৃত টাকা নির্ধারিত বিকাশ নাম্বারে সেন্ট করলেই মিলে যায় চুরি হওয়া মিটার । সম্প্রতি, রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে আনোয়ার হোসেন হেলালের ইটভাটা ও ছ-মিল থেকে দুটি মিটার চুরি হয়ে যায় । একই রাতে ডিলার আব্দুছ সাত্তার সাহা নামের একজন ব্যবসায়ীর রাইস মিল থেকে একটি মিটার চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতেই কালীগ্রাম কসবা পাড়ার আব্দুল কুদ্দুছ আলীর রাইস মিল থেকে একটি,গুয়াতাগ্রামের এনামুল হকের রাইস মিল থেকে একটি একই গ্রামের নওশাদ আলীর গভীর নলকূপ থেকে একটি ,নারায়ন পাড়া গ্রামের বছির আলী মিঠুর রাইস মিল থেকে একটি,জলকৈ গ্রামের শাহাদৎ হোসেন দুলুর গভীর নলকূপের একটি মিটার চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। এর পর মিটার মালিকদের নিকট পর্যায়ক্রমে কারো কাছে ১০ হাজার,কারো কাছে ১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে চোরেরা। পরে সমঝোতার মাধ্যমে কেউ ৫ হাজার আবার কউে ৬ হাজার,কেউবা ৭ হাজার টাকা চোরদের দেয়া বিকাশ নাম্বারে সেন্ট করে মিটার ফেরৎ পান মিটার মালিকরা। অনেক ভুক্তভূগীরা জানান, বিকাশ নাম্বারে টাকা দেয়ার আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টার মধ্যেই স্ব,স্ব এলাকায় মিটার রেখে মোবাইল ফোনে মালিকদের নির্দিষ্ট জায়গার ঠিকানা দিয়ে মিটার নিয়ে আসতে বলেন ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা । একডালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ফটিক জানান,তার গভীর নলকূপের মিটার একই কায়দায় চুরি হলে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে মিটার ফেরৎ নেন তিনি। রাণীনগর উপজেলা বরেন্দ্র প্রকৌশলী তিতুৃমির রহমান জানান, তার প্রকল্পের আওতায় ৭/৮টি গভীর নলকূপের মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে । গ্রাহকরা জানান, এসব মিটার চুরি হলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে পূনরায় মিটার নিতে গেলে প্রায় ২০/২৫ হাজার টাকা খরচ পরে যায় । ফলে বাধ্য হয়েই চোরদের টাকা দিয়ে মিটার নেন তারা। তারা বলছেন, ইরি মৌসুমে গভীর নলকূপ এবং ধান ভাঙ্গানো মৌসুমে রাইসমিলের মিটারগুলো বেশি চুরির ঘটনা ঘটে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায়ই এসব মিটার চুরির ঘটনা ঘটছে। তবে এসব মিটার চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ থাকলেও চোর সিন্ডিকেটের কোন সদস্যকে আজ পর্যন্ত সনাক্ত কিম্বা আটক করতে পারেনি থানাপুলিশ।
এব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমান জানান,চোরেরা যে সকল মোবাইল নাম্বার থেকে গ্রাহকদের সাথে যোগা-যোগ করে ওই সকল নাম্বারের রেজিষ্ট্রেশন ভুয়া হওয়ায় তাদেরকে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এই সিন্ডিকেটের চোরদের সনাক্ত করতে এবং আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।