Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

রাণীনগরে ওএমএস’র চাল বিক্রয় কেন্দ্র অপ্রতুল

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭
নওগাঁ
No Comment


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ওএমএস’র ৩০ টাকা কেজি চালের ডিলার শুধু উপজেলার সদরে দেওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলার সদরের উপজেলার বাসট্রান্ড, রেলগেট ও সিম্বাতে ওএমএস’র চাল বিক্রি করছে ৩জন ডিলার। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শুক্রবার ছুটির দিন ব্যতিত প্রতিদিন এই চাল বিক্রয় চলছে। তিনজন ডিলার তিন মেট্টিক টন চাল বিক্রি করছেন। চাহিদা বেশি থাকায় দুপুরের মধ্যেই চাল ফুরিয়ে যায়। কিন্তু উপজেলার উপড় দিয়ে সম্প্রতি বয়ে যায় স্মরণ কালের বন্যা। যে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উপজেলার মিরাট ও গোনা ইউনিয়ন। উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বন্যার পানির কবলে পড়েন। অথচ এই সব বন্যা দুর্গত এলাকায় ওএমএসের চাল বিক্রয়ের কোন কেন্দ্র নেই। এই বন্যাদুর্গত মানুষেরা পাচ্ছে না কম দামের এই চাল। বিপাকে পড়েছেন প্রতন্ত এলাকার কেটে খাওয়া মানুষরা। যাদের কাছে এখন চাল মানে অনেক কিছু। সাধারন মানুষরা মনে করেন প্রতিটি ইউনিয়নে ওএমএসের চাল বিক্রয়ের কেন্দ্র খোলা হলে প্রত্যন্ত এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসতো।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সারাদেশে ওএমএস’র চাল বিক্রি বন্ধ থাকায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় বাজারে দফায় দফায় চালের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে। যা এখন খেটে খাওয়া ও নি¤œ আয়ের মানুষের হাতের নাগালের বাহিরে। নতুন করে ওএমএস’র চাল দেওয়া শুরু হওয়ায় রাণীনগরের নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিন্তু চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার মিরাট, গোনা, কাশিমপুর, পারইল, একডালা, বড়গাছা, কালিগ্রাম ইউনিয়নের বন্যাদূর্গত মানুষেরা। তারা এই অল্প দামের ওএমএসের চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রাণীনগর সদর অনেক দূরবর্তি হওয়ায় বন্যাদুর্গত এই অসহায় মানুষরা ৩০ টাকা কেজি চালের সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না। তারা বাধ্য হয়ে খুচরা বাজার থেকে বেশি দামে চাল কিনছেন।

উপজেলার বিভিন্ন হাট ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা চালের বাজারে খাটোদশ চালের প্রতি আকর্ষন বেশি ক্রেতাদের। খাটোদশ চাল প্রতি কেজির দাম ৫০-৫২ টাকা, জিরা ৫৫-৬০ টাকা, কাটারী ভোগ ৬০-৬২ টাকা, নতুন পারিজা ৪৮-৫০ টাকা, উন্ত্রিশ ৫০টাকা। সম্প্রতি চালের প্রতি কেজিতে ২-৩ টাকা দাম কমেছে। কিন্তু খেটে খাওয়া ও নি¤œ আয়ের মানুষদের জন্য এই দাম অনেক যা তাদের সাধ্যের বাহিরে।

চাল কিনতে আসা মিরাট ইউনিয়নের মেড়িয়া গ্রামের মো: হাফিজুল ইসলাম (৫০) জানান বাবা বন্যায় আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই চাল নিতে আসতে আমার অনেক টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু কী করবো বাধ্য হয়েই কষ্ট করে আসলাম। এই চাল যদি আমাদের এলাকায় বিক্রয় হতো তাহলে অনেক গরীব-অসহায় মানুষ ভালো ভাবে খেয়ে বাচতে পারতো।

চাল কিনতে আসা পারইল ইউনিয়নের বিশিয়া গ্রামের দিনমজুর মো: তছলিম উদ্দিন (৪০) জানান, আমাকে প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে রাণীনগর সদরে এই ওএমএসের চাল নিতে আসতে হয়েছে। এখানে এসে এই চাল ক্রয় করা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট কর। আর এই চাল নিতে আসবো না। একটু কষ্ট হলেও বাজার থেকে চাল কিনে খাবো।

রাণীনগর উপজেলার মিরাট, গোনা, কাশিমপুর, পারইল, একডালা, বড়গাছা, কালিগ্রাম ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, আমাদের এই সব ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে রাণীনগর সদরে ওএমএসর চাল নিতে যেতে যে খরচ হবে তা দিয়ে প্রায় ৩ কেজি চাল কেনা যাবে। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবী সরকার যেন প্রত্যন্ত এলাকা চিহ্নিত করে অতিদ্রæত এই সব বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের জন্য এই ওএমএসের চাল বিক্রয়ের কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

রাণীনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো: মোহাজের হোসেনের বলেন, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী আমি উপজেলার সদরে ৩টি ডিলার নিয়োগ দিয়েছি। প্রতিটি ডিলার ১মেট্রিক টন করে ৩মেট্রিক টন চাল বাজারে বিক্রি করছেন। ইতোমধ্যে বাজারে ২-৩ টাকা করে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। আগামীতে চালের দাম আরও কমবে বলে তিনি জানান।