Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাণীনগরে একই পরিবারে ভাই ও বোন প্রতিবন্ধি

Raninagar_Komol_Pic.1[1]
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে একই পরিবারে কমল কুমার দাস (২৮) ও সিমা দাস (২৪) দুই ভাই বোনই জন্ম থেকে প্রতিবন্ধি। সম্প্রতি কমল কুমার দাস প্রতিবন্ধি ভাতা পেলেও সিমা দাস এখনও পর্যন্ত কোন সুযোগ সুবিধা পায় না।

তাই পিতা হারানো পরিবারে নিজেকে আপদ হিসেবে আখ্যায়িত না করার জন্য সকল ঝড়-ঝঞ্জাকে পেছনে ফেলে কমল মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করে পরিবারে যতটুকু পারে যোগান দিয়ে আসছে। কিন্তু সিমা দাস ভিক্ষা করতে পারে না বলে সত্যিই এই পরিবারে এক বোঝাতে পরিণত হয়েছে। শত কষ্ট হলেও কমল তার ছোট বোনকে কখনো ভিক্ষার পেশায় আসতে দেবে না বলে কমল জানায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা, উপজেলার ত্রিমোহনী হিন্দু পাড়ার মৃত- নগেন দাসের চার সন্তান। তার মধ্যে কমল ৩য় ও সিমা ৪র্থ সন্তান। বাবা পেশায় ছিলেন একজন গ্রাম পুলিশ। বড় ভাই নাপিত। বর্তমানে বড় ভাইয়ের আয়ের উপড় নির্ভরশীল এই সংসার। তার সঙ্গে কমল ভাঙ্গা হুইল চেয়ারে বসে ভিক্ষা করে যেটুকু অর্থের যোগান দেয়। বাবা জীবিত থাকাকালীন এই দুই সন্তানের চিকিৎসার জন্য সংসারের সব কিছু ব্যয় করেছেন। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন ছিল যা এই গরীব পরিবারের পক্ষে যোগান দেওয়া অসম্ভব। তাই কমলের পিতার মৃত্যুর পর তাদের দুই ভাই-বোনের চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে যায়। পেট চালানোর তাগিদে কমল এলাকায় মানুষের কাছে ভিক্ষা করে কিছুটা হলেও সংসারে যোগান দিয়ে আসছে।

কমলের মা শেফালী (৫০) জানান, আমরা গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। আমাদের দ্বারা এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা করা অসম্ভব। স্বামী যখন বেঁচে ছিল তখন প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছি এই দুই সন্তানের চিকিৎসার জন্য। কিন্তু এখন আমাদেরই দিন কাটানো খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সরকার কিংবা কোন সামাজিক প্রতিষ্ঠান থেকে যদি এই দুই সন্তানের জন্য স্থায়ী কোন আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হতো তাহলে আমি মরেও অনেকটা শান্তি পেতাম। কারণ আমার এই দুই সন্তানের তো কোন ভবিষ্যৎ নেই। আমার মৃত্যুর পর এদেরকে কে দেখভাল করবে।

কমল জানায়, প্রতিবন্ধি করেই সৃষ্টিকর্তা আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছে মানুষের কাছে হাত পেতে নেওয়ার জন্য। আমি কখনো আমার ছোট বোনকে পথে নামতে দিবো না এতে আমার যতই কষ্ট হোক না কেন। ভিক্ষা করতে ইচ্ছে হয় না কিন্তু কি করব নিজের দুবেলা খাবার, মা ও ছোট বোনের কথা ভেবে মানুষের কাছে হাত পেতে নিতে হয়। আমাদের ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই। যতদিন বেঁচে আছি হয়তোবা এভাবেই অন্যের অনুদানে বেঁচে থাকতে হবে। আমাদের কথা কেউ ভাবে না এবং আমাদের দিকে কেউ চোখ তুলে চেয়েও দেখে না।