Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮

রাণীনগরে অবাধে কাটছে কৃষি জমির মাটি

নভেম্বর ১৭, ২০১৬
অনিয়ম, কৃষি, নওগাঁ, পরিবেশ
No Comment

raninagar-soil-cutting-pic-1
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার প্রায় ১০ টি ইট ভাটার মালিকরা ফসলি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করছে। কৃষি জমি থেকে মাটি খননের ফলে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে মাঠে মাঠে জমির উর্বর শক্তি আর জীববৈচিত্র।

বর্ষাকালে উম্মুক্ত ধানী জমিগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গেলেও সেখানে আমন ও উচু জমিতে ইরি-বোরো ধান হয় বছর জুড়ে। নিম্মাঞ্চলের জলরাশিতে পাওয়া যেতো দেশি প্রজাতির নানা রকমের সুস্বাদু মাছ। কিন্তু ইট ভাটার মালিকদের ফসলী জমি থেকে স্কেবেটার মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কারণে পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে নদী-নালা খাল-বিল বাদে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার হেক্টর ফসলী জমি রয়েছে। শ্রেণী ভেদে প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোন না কোন ধরণের ফসল চাষ করে কৃষকরা। এক শ্রেণীর কৃষকরা ভাটা মালিকদের লোভে পড়ে কোন কিছু খরচ ছাড়াই প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) মাটি ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় বিক্রয় করায় পাঁচ ফুট গর্ত করে প্রতি বিঘায় প্রায় ৩০ হাজার টাকার মাটি বিক্রয় করছে এক শ্রেণীর জমির মালিকরা। ফলে ওই জমিতে না হচ্ছে ধান না হচ্ছে মাছের চাষ। জমি গুলো দেখে মনে হচ্ছে এযেন উম্মুক্ত জলাশয়। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নির্বিচারে আবাদী কৃষি জমি থেকে মাটি খনন করায় দিনদিন কমে যাচ্ছে ফসলী জমি অন্য দিকে উর্বর শক্তি কমে গিয়ে ফসল উৎপাদনে হ্রাস পাচ্ছে।

প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা অবদি প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক্টর মাটি কেটে ভাটায় পৌছে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত। বিশেষ করে উপজেলার দূর্গাপুর, কাশিমপুর, চকাদিন, নগর বালুর ঠিকি, রামরায়পুর, মন্ডলেরপুল, খট্টেশ্বর হাদিপাড়া এলাকায় কৃষি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে ইট ভাটার মালিকরা ইট তৈরি কাজে ব্যবহার করছে। এর মাত্রা আগামীতে বাড়তে থাকলে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনের পরিমাণ মারাত্মক ভাবে কমে যেতে পারে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগের আশংকা ।

উপজেলার মোর আটো ব্রিক্সস, রিফাত, বিবিসিও বিক্সস সহ প্রতিদিন মাটি কেটে ইট ভাটার মালিকরা ভাটার সামনে মাটি পাহাড়ের মত উচু করে মজুত করে রাখছে। বর্তমানে ধান চাষ করে কৃষকরা তেমন লাভবান না হওয়ায় অধিক লাভের জন্য তারা মাটি কেটে বিক্রয় করতে করতে এক সময় কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তন হয়ে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষে দিকে আগ্রহ বাড়িয়ে দিচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা।

এব্যাপারে কুজাইল গ্রামের ট্রাক্টর ও মাটি ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান জানান, আমি প্রতি বছর ইট ভাটায় চুক্তি ভিত্তিক মাটি দিয়ে থাকি প্রতি গাড়ি ৭ শ’ টাকা দরে ভাটার মালিকদের কাছে মাটি বিক্রয় করি। আমি বিভিন্ন জায়গায় কৃষকের কাছ থেকে ৭ ফিট গর্ত করে এক বিঘা জমিতে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে মাটি কেটে ইট ভাটায় সরবারহ করি। এত আমার এই মৌসুমে মাটির ব্যবসা ভাল হবে বলে আশা করছি। ইতিমধ্যেই জমি থেকে মাটি কেটে ইট ভাটায় দেওয়া শুরু করেছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, কৃষি জমি থেকে স্কেবেটার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে গর্ত করার ফলে ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। মাটির উর্বর শক্তি কমে যাওয়ার ফলে এই জমিতে আর তেমন ফলন হয় না। এক পর্যায়ে এই জমিগুলোতে ফসল কম হওয়ার কারণে চাষিদেরও আগ্রহ কমে যায় তাই যত তারাতাড়ি সম্ভব এই ধরণের কর্মকান্ড বন্ধ করতে না পারলে আগামীতে সার্বিক উৎপাদনে মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।