Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাণীনগরের শ্রীমতখালী ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

মার্চ ১, ২০১৬
অনিয়ম, নওগাঁ
No Comment

Raninagar_Bridge_Pic.2[1]
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের হামিদপুরের প্রত্যন্ত এলাকার শ্রীমতখালী খালের উপর নির্মিত একটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। এতে নওগাঁ-বান্দাইখাড়া সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সূত্রে জানা, গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) ও স্থানীয় সরকারের সহায়তা প্রকল্পের (এলজিএসপি) যৌথ অর্থায়নে এই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালের নভেম্বর স্থানীয় সাংসদ ইসরাফিল আলম ব্রিজটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এর পরই ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। জাকিয়া ও সিদ্ধার্ত কুমার বিল্ডার্স ব্রিজটি নির্মাণের কাজ পায়। গত বছরের জুলাইয়ে ব্রিজটির দুটি স্প্যান ও উপরের বেসমেন্ট (পাটাতন) নির্মাণের কাজ শেষ হয়।

কিন্তু চলাচল শুরুর আগেই ব্রিজের বেসমেন্টে ফাটল দেখা দেয়। এই অবস্থায় এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বেসমেন্টটিকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে বেসমেন্ট পুনঃসংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিরাট ইউনিয়ন পরিষদের পাশে শ্রীমতখালী খালের উপর নির্মিত ব্রিজের বেসমেন্টটিকে শক্তিশালী করতে ফাটল দেখা দেওয়া অংশে ইট-সিমেন্ট লাগিয়ে দায়সারানো কাজ করা হয়েছে। বেসমেন্টের নিচে ইট-সিমেন্ট লাগানো অংশে খুঁটি দেওয়া রয়েছে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় এবং ব্রিজের দুই অংশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয় লোকজনকে ব্রিজের সঙ্গে বাঁশের চাটাই লাগিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য খালে ইট-বালি বিছিয়ে বিকল্প রাস্তা করা হয়েছে।

মিরাট গ্রামের বাসিন্দা মাহতাব হোসেন, শাহীন ও মহীর উদ্দিন সহ আরও অনেকে বলেন, রাণীনগর উপজেলার মিরাট, আত্রাইয়ের হাটকালুপাড়া ও কালকাপুর, মান্দার কশব ও বিষ্ণুপুর এবং নওগাঁ সদরের শিকারপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতাযাত করে এই পথ দিয়ে । ব্রিজটি নির্মাণ শেষে চলাচলের উপযোগী হলে এলাকার কৃষি নির্ভর মানুষদের ভাগ্যের দ্বার খুলে যাবে। কৃষি পণ্য পরিবহন ও এলাকাবাসীর যাতায়াতে ব্যাপক সুবিধা হবে। ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর এলাকার মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের এত দীর্ঘ সময়ের কারণে এলাকার লোকজনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া ব্রিজের কাজ অত্যন্ত নিন্মমানের হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জাকিয়া বিল্ডার্সের মালিক ময়নুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, সময়মতো বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে কাজ করতে দেরি হচ্ছে। তবে আগামী জুন-জুলাইয়ের আগে কাজ শেষ হবে বলে আমার বিশ্বাস। ব্রিজের কাজ কোনোভাবেই নিন্মমানের হয়নি। ফাটল দেখার যে কথা বলা হচ্ছে সেটা ঠিক নয়। আমাকে যেভাবে বলা হয়েছিল সেভাবেই কাজ করেছি। তবে উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশে বেসমেন্টটা আরও শক্তিশালী কাজ করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আবু মো: শফিউল আজম বলেন, কাজটি এডিবি ও এলজিএসপির দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে হওয়ায় ধাপে ধাপে বরাদ্দ আসছে। এজন্য কাজটি শেষ করতে সময় লাগছে। ব্রিজের মূল কাজ মোটামুটি শেষ এখন সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেই ব্রিজটি চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী হবে।