Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাণীনগরের মিরাটে খাল খননেও সুফল পাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক

অক্টোবর ৮, ২০১৭
শীর্ষ সংবাদ
No Comment

মো: শহিদুল ইসলাম , রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরের মিরাট ইউনিয়নে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খাল খননে ওই এলাকার কয়েক হাজার কৃষক সুফল পেতে শুরু করেছে। এবছর ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হলেও খাল খননের কারনে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান অক্ষত রয়েছে । বন্যার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেয়েছে বাড়ী-ঘর । এছাড়া খালে মাছ স্বীকার নিয়ে রঙ্গীন স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় মৎস্য জীবিরা।
জানা গেছে, বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ “নওগাঁ জেলায় ভূ-পরিস্থ প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ” প্রকল্পের আওতায় নওগাঁ জেলায় মোট ৯২ কিলোমিটার খাল খননের কাজ হাতে নেয় । এর মধ্যে রাণীনগর উপজেলায় রয়েছে ১৭ কিলোমিটার খাল । এর মধ্যে মিরাট ৩ নং ¯øুইচ গেইট হতে পলাশ বাড়ী অভিমূখে গত ১৫-১৬ অর্থ বছরে সাড়ে চার কিলোমিটার এবং ১৬-১৭ অর্থ বছরে ২ নং ¯øুইচ গেইট হতে বারো মাসিয়া ব্রিজের রাণীনগর সিমানা পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার এই দু’দফায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে ৯ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়। এছাড়া বাঁকী ৮ কিলোমিটার খাল চলতি অর্থ বছরে খনন কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে জানা গেছে। ওই এলাকায় খাল খননের পর থেকেই ইরি/বোরো,আমন ও রবি শস্যসহ প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় এসেছে বলে জানাগেছে ।

এলাকার জালালাবাদ গ্রামের আমজাদ হোসেন(৪৫),কিসমত হরপুর গ্রামের আকবর হোসেন (৮২)সহ অনেক কৃষকরা জানান,খাল খননের আগে এই এলাকায় সারা বছরে ইরি/বোরোর আবাদ ছাড়া অন্য কোন ফসল হতো না এবং প্রতি বছর বন্যায় ঘড়-বাড়ীর চরম ক্ষতি হতো । এবার খাল খননের পর থেকে এই এলাকায় এত বড় ভয়াবহ বন্যার পরেও আমাদের মাঠের আবাদী আমন ধান ও বাড়ী-ঘড় সম্পন্ন অক্ষত রয়েছে। এছাড়া খালে সারা বছর পানি থাকার কারনে এবং রবি শস্যসহ বিভিন্ন ফসল ফলানো যাবে বলে জানান তারা।

মিরাট ধণপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবি আব্দুল জব্বার (৬০) ও জালালাবাদ গ্রামের মৎস্যজীবি একাত আলী (৫৫)সহ বেশ কয়েকজন মৎস্যজীবিরা জানান,প্রতি বছর বন্যার পর পানি নেমে গেলে খালও সুখিয়ে যায়।এতে বন্যা থাকা অবস্থায় যে ক’দিন মাছ ধরা যেত তাতে সারা বছর জীবিকা নির্বাহ করা দূর্বিসহ হয়ে পরত। খাল খননের পর আমরা আশা করছি সারা বছরই খালে পানি থাকবে এবং চাহিদা মতো মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবো এমনটাই রঙ্গীন স্বপ্ন বুকে ধারণ করে আছেন বলে জানান তারা ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম হোসে জানান, শ্রীমত খালী খালের গুন্নার গাছ থেকে জালালাবাদ একামদ্দীনের বাড়ী পর্যন্ত মাত্র আধা কিলোমিটার খাল খনন করলে এই এলাকা সম্পন্ন সু-রক্ষা পাবে । পাশা-পাশি ওই এলাকার বিল মুনসুর ও চৌরের বিল খনন করলে এই এলাকা ফসল ও মাছে ব্যাপক সমৃদ্ধ হবে বলে জানান তিনি।

এব্যাপারে রাণীনগর বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়নের রাণীনগর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী তিতুমির রহমান জানান, স্থানীয় এমপি ইসরাফিল আলমের একান্ত সহযোগিতা ও পরামর্শে প্রকল্পটি বাস্তবে রুপ পেয়েছে। মিরাট এলাকায় জমি গুলোতে বন্যার পানি দীর্ঘ জলাবদ্ধতায় বছরে মাত্র একটি আবাদ ছাড়া আর কোন আবাদ বা ফসল ফলতনা। খাল খননের পর একদিকে যেমন আবাদী ফসলি জমি বৃদ্ধি পেয়েছে,অন্য দিকে খালে সারা বছর পানি থাকার কারনে জমে থাকা পানি দিয়ে কৃষকরা আবাদে সেচ দিয়ে বিভিন্ন ফসল ফলাতে পারবে এবং খাল থেকে মৎস্যজীবিরা সারা বছর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। এই খাল খননের জন্য খালে পানি থাকায় শুস্ক মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আর নিচে নেমে যাবে না। এতে সারা বছরই জণসাধারণ পানি পাবে বলে দাবি করেন তিনি।