Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮

রাজাপুরের হাইলাকাঠির শীতল পাটির কদরই আলাদা

নভেম্বর ১৩, ২০১৬
ঝালকাঠি, বিশেষ প্রতিবেদন
No Comment

%e0%a6%9d%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%b2-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%9b%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a7%a7
মোঃ আমিনুল ইসলাম, ঝালকাঠি সংবাদদাতাঃ ঝালকাঠি জেলার অন্যতম পাটিগ্রাম রাজাপুরের হাইলাকাঠি ও সাংগরে সাড়া বছর চলে পাটি তৈরির ধুম। কখন সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে সন্ধ্যা কারও কোনো খেয়াল নেই। কারণ তারা সবাই মগ্ন পাটি বুনতে। এ যেন পাটি তৈরির প্রতিযোগিতায় পাটিকররা। দিন-রাত সবাই এখন নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে রঙবেরঙের পাটি তৈরি করছেন। এখানকার শীতল পাটির কদর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ছাড়িয়ে এখন সুদূর প্রবাসেও। কিন্তু চাহিদা থাকলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় পাটিকররা অর্থনৈতিক সমস্যায় ধুঁকছেন। তারা চেষ্টা করেও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পাটি সরবরাহ করতে পারছেন না। তারপরও এ পেশা ছাড়তে রাজি নন গ্রাম দুটির প্রায় শত শত মানুষ। হাইলাকাঠি আশার আলো শীতল পাটি উন্নয়ন প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ চন্দ্র পাটিকর বলেন ১০০ বছর হইছে, আর কত দেখমু। এই নেশা ছাড়তে চাইলেও আমারে ছাড়ে না।’ বরিশাল বিভাগের পাটিগ্রাম হিসেবে পরিচিত রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি ও সাংগর গ্রামে ১২ মাসই পাটি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন পাটিকররা। এখানকার হিন্দু স¤প্রদায়ের প্রায় দেড়শ’ পরিবার পাটিকর। যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় তারা শীতল পাটিসহ বিভিন্ন রকমের পাটি তৈরি করে আসছেন। ছেলেমেয়ে, শিশু-বৃদ্ধ সবাই পাটি তৈরিতে পারদর্শী। গ্রাম দুটিতে ঢুকলেই শুধু সবুজ আর সবুজ। মাইলের পর মাইল পাইতরা (পাটি তৈরির গাছ) বন দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। প্রায় একশ’ একর জমিতে পাইতরা চাষ হয় এ গ্রামে। এতেই বোঝা যায় পাটিসমৃদ্ধ এ গ্রাম দুটির গুরুত্ব। দক্ষিণাঞ্চল ছাড়াও এ পাটি এখন দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে চলে যাচ্ছে বিদেশের মাটিতে। শীতল পাটির কদর ক্রমেই বাড়ায় পাটিকরদের পুনর্বাসন এবং পাটি বিক্রির মৌসুমে বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্পটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থকরী ফসল পেয়ারা, সুপারি এবং আমড়ার মতো অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হাইলাকাঠির নির্মল পাটিকর জানান, এখানে বছরজুড়েই আমরা পাইতরা চাষ করে থাকি। তাই ভাদ্র থেকে মাঘ পর্যন্ত ছয় মাস কম-বেশি পাটি তৈরি হলেও পাইতরা গাছ কেটে বেতি (পাটি তৈরির কাঁচামাল) তৈরির প্রক্রিয়া চলে পূর্ণোদ্যমে। বাকি ছয় মাস চলে পাটি তৈরির ধুম। এ সময়কেই পাটি তৈরির মৌসুম বলা চলে। পাটিকর নরোত্তম জানান, শীত মৌসুমে পাটির দাম কম হয়। গরমের মৌসুমে পাটির কদর বেশি হওয়ায় দামও বেশি। হাইলাকাঠির পাইকার ভবতোষ বলেন, এখান থেকে আমরা পাটি পাইকারি কিনে ঝালকাঠির মোকামে বিক্রি করি। ঝালকাঠি থেকে এ পাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার হয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। শীতল পাটি বিভিন্ন নামের হয়। যেমনথ বুকার পাটি, মোটা পাটি, জোড়া পাটি ইত্যাদি। পাটিকর বকুল রানী ও সঞ্চিতা জানান, আমাদের এ মৌসুমে সকাল থেকে কখন দুপুর-সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়, বুঝে উঠতে পারি না। পাটি তৈরি কাজের চাপে নাওয়া-খাওয়া-ঘুম এ মৌসুমে ভুলে যাই। সাংগর গ্রামের শত বছরের রেণু বালা এখনও পাটি বুননে তার আনন্দ অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, ‘চোহে ঠাহর পাই না, হাতের আন্দাজে পাটি বুনি। সাংগর গ্রামের দিলীপ পাটিকর পাটি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, প্রথম বন থেকে পাইতরা কেটে এনে রস ঝরানো হয়। পরে তা বঁটি দিয়ে চিরে হাতে বেতি বানাই। তা ৫-৬ দিন ভাতের মাড় এবং পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। ভেজানো বেতি সেদ্ধ করে রোদে শুকিয়ে পাটি তৈরি করা হয়। দিলীপ জানান, ছোট একটি পাটি আড়াই থেকে ছয় ফুট এবং বড় পাটি পাঁচ থেকে সাত ফুট পর্যন্ত হয়। একটি পাটি ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। হাইলাকাঠি আশার আলো শীতল পাটি উন্নয়ন প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ চন্দ্র পাটিকর জানান, দুটি গ্রামের প্রায় ১ হাজার শ্রমিক পাটি শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এ গ্রামে বছরে ১০ হাজার ৫০০ পাটি তৈরি করা হয়, যা বিক্রি করে পাওয়া যায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, সরকার আমাদের বিশেষ করে গরমের পাটি মৌসুমে বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে পৃষ্ঠপোষকতা দিলে এ শিল্পকে আরও সমৃদ্ধশালী এবং দক্ষিণাঞ্চলের একটি অন্যতম অর্থকরী শিল্পে পরিণত করা সম্ভব। পাশাপাশি পাটিকরদের এনজিও থেকে চড়া সুদে নেওয়া ঋণের জাল থেকে বেরিয়ে আসাও সম্ভব হতো। ঝালকাঠি বিসিকের সহকারী মনিটরিং ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, ঝালকাঠি বিসিক একাদিকবার রাজাপুরের হাইলাকাঠি ও সাংগর গ্রাম পরিদর্শন করেছে। পাটিকার লোকজন আমাদের কাছে আসে না আসলে আমরা অবস্যই সহজ শর্তে ঋণ ও সকল সহযোগিতা করব। আমাদের বিসিক থেকে ক্ষুদ্র শিল্পে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে,এক লক্ষ টাকার বেশি হলে আমরা শুপারিশ করে খুলনা আঞ্চলিক অফিসে পাঠিয়ে দিয়ে বড় ধরনের ঋণ এর ব্যবস্থা করব।