Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রবিশস্য চাষে ব্যস্ত আত্রাইয়ের কৃষক

atrai-photo-robi
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে সেই কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে এবার রেকর্ড পরিমান জমিতে রবিশস্য চাষ। ইতোমধ্যেই মাঠের অধিকাংশ রবিচাষ উপযোগী জমিতে বিভিন্ন প্রকার রবিশস্য চাষ করা হয়েছে। এখনও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠগুলোতে রবিশস্য চাষে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। এলাকার মাঠ ও খালবিল থেকে বন্যার পানি আগাম নেমে যাওয়ায় কৃষকরা পুরোদমে রবিশস্য চাষে ঝুঁকে পড়েছে।
নওগাঁ জেলার খাদ্যশস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত আত্রাই উপজেলার মাঠগুলো এখন কৃষকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবিশস্য মৌসুমে এবারে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে রবিশস্য চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আলু ২ হাজার হেক্টর, সরিষা ২ হাজার হেক্টর, ভূট্টা ৪ হাজার হেক্টর, মসলা জতীয় ২০০ হেক্টর ও শাকসব্জি ২৭০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবারে মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মত মাঠ থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় অনেক মাঠে আগাম রবিশস্য চাষ শুরু করা হয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল ও কোন বিপর্যয় না হলে এবারে ধানের মত রবিশস্যেরও বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষকরা আশা করছে। গত বছরও রবিশস্যের ভাল ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার কৃষকরা অধিকহারে রবিশস্য চাষে ঝুঁকে পড়েছে।
উপজেলার শুটকিগাছা গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলী ও জাহাঙ্গীর বলেন, আমাদের এলাকায় সর্বাধিক পরিমান জমিতে আলু ও ভূট্টা চাষ করা হয়। সে অনুযায়ী এবারেও আমরা ব্যাপকহারে আলুচাষ করেছি। আলু উঠিয়ে আবার ওই জমিতেই ভূট্টাচাষ করা হবে। এতে করে অধিক লাভবান হওয়া যায়। উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আজাদ প্রাং বলেন, আমি ১০ বিঘা জমিতে ভূটা ও গম চাষ করেছি। কৃষি অফিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পরিচর্যাও করছি। যদি বীজ ব্যবসায়ীরা প্রতারণা না করে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে আমি বাম্পার ফলনের আশা করছি।
এব্যাপারে উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, কৃষকরা যেন রবিশষ্য চাষে কোন প্রকার সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সর্বাক্ষণিক নজর রাখছি। যেখানেই সমস্যা সেখানেই আমাদের উপস্থিতি এবং সমস্যা সমাধানে দ্রæত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অধিক ফলনের জন্য পরিমিত সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় এবং সার্বিক পরিচয্যায় কৃষকদের সচেষ্ট হতে আমরা সব সময় পরামর্শ দিয়ে আসছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন বলেন, আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ প্রতিনিয়িত কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন। এছাড়াও অল্প খরচে বেশি উৎপাদনের জন্য কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছেন। এবারে প্রণোদনা সহায়তার আওতায়ে অনেক কৃষককে আমরা বিনা মূল্যে সার ও বীজ দিয়েছি। তাই আশা করা যায় এবার এলাকায় রবিশস্যের বাম্পার ফলন হবে।