Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮

রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের বেহাল দশা, দুর্ঘটনা ও যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে

জুলাই ৩০, ২০১৭
জনদুর্ভোগ, রংপুর
No Comment


বখতিয়ার রহমান, পীরগঞ্জ (রংপুর) : রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক এখন অনেকটাই ঝুকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে । এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মহাসড়কের দু’পাশর্^ নিচু ও বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হওয়ার কারনে । ফলে বিশেষ করে ভারী যানবাহনকে ঝুকিপুর্ণ অবস্থায় চলাচল করতে হচ্ছে । প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ।
একাধিক সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৪ সনের এপ্রিলে পীরগঞ্জের ধাপের হাট থেকে রংপুর জেলা সদরের মর্ডান পর্যন্ত মহাসড়কটির সংস্কার কাজ করা হয়েছিল । সে সমযে নি¤œ মানের কাজের কারনে ৬ মাস যেতে না যেতেই মহাসড়কটির বিভিন্ স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয় । আর তখন থেকেই রংপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ দফায় দফায় সড়কের ক্ষতস্থান গুলো সংস্কারের মাধ্যমে রাস্তাটি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে । অথচ এতে আশানুরপ ফল হচ্ছে না । মহাসড়কের উপরি ভাগের ক্ষত অব্যাহত রয়েছে । সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কটির গাইবান্ধার ধাপেরহাট, পীরগঞ্জের মাদারহাট, খেদমতপুর, উজিরপুর, আংরার ব্রীজ, জামতলা কলা হাট, ফায়ার সার্ভিস, লালদীঘি, রাউতপাড়া, বড়দরগা, মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ী, আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তরে রশিদপুর, শাপলা কোল্ড ষ্টোরের কাছে, জায়গীরহাট, বলদী পুকুর, পায়রাবন্দ সহ রংপুর মডার্ন মোড় পর্যন্ত ৫ শতাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত আর শতাধিক স্থানে উঁচু হয়ে গেছে। এ ছাড়াও সড়কটির পূর্ব অংশের অসংখ্য স্থানের বিটুমিন গলে সড়কের পাশে জমা হয়েছে। যে কারণে দ্রতগামী যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ছে। গর্তের কারণে সারিবদ্ধভাবে ধীর গতিতে যানবাহনগুলো চলছে। আর এ ক্ষতের কারনে যানবাহন গুলিকে লাফিয়ে চলতে হচ্ছে । যা চালকের জন্য যেমনটা ঝুকি পুর্ণ অন্যদিকে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দবোধ বিলুপ্ত হয়েছে ।
এতো গেল মহাসড়কের উপরি ভাগের কথা । অপর দিকে মুল মহাসড়কের দু’পাশের্^ও বিভিন্ স্থান নিচু হয়ে গেছে । ভড়ে গেছে খানা খন্দে । এর ফলে বাড়ী যান বাহন গুলি পরস্পরকে ওভারটেক কিংবা সাইড দেয়ার সময় অসাবধান বশতঃ এক পার্শের পুরো চাকা মহাসড়কের মুল পাকা থেকে পার্শের নিচু স্থানে নেমে যাচ্ছে আর এতে অধ্যধিক লোড সম্পœ্ যান বাহন উল্টে যাচ্ছে । সম্প্রতি পীরগঞ্জে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক উল্টে ১৬ জন নিহতের ঘটনা এর অন্য তম কারন ছিল বলে বিভিন্ন সুত্র নিশ্চিক করেছে । উল্লেখিত স্থানটি মুল রাস্তা থেকে অপেক্ষাকৃত নীচু ছিল ।
বড়দরগাহ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ হাফিজুর রহমান জানান, যে কারনেই হোক এখন মহাসড়কে যানবাহনের মুখো মুখী সংঘর্ষ হ্রাস পেলেও উল্টে যাওয়ার ঘটনা বেশী ঘটছে ।
বাস ও ট্রাক চালক হামিদরু, জামান, রাসেল , জয়নাল, সালেক সহ ক’জনের সাথে কথা হলে তারা প্রায় অভিন্ন মতামত ব্যাক্ত করে বলেন সড়ক দুর্ঘটনার জন্য আমাদের চালকদের কেই শুধু দায়ী করা হয় । রাস্তার এ অবস্থার কারনেও যে দুর্ঘটনা হচ্ছে সেটি কেউ বলেনা ।
এখনই সড়কটির যে অবস্থা হয়েছে, তাতে আগামী ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যাবে বলে সর্বমহল মনে করছেন ।