Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮

রংপুরে ঈদ কেনাকাটা জমে উঠেছে ফুটপাতে

shohel_photo_Rangpur[1]
হারুন উর রশিদ সোহেল, রংপুর: আর মাত্র দুই অথবা তিন পর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। আর এই ঈদকে ঘিরে ফুটপাতে কেনাকাটায় ব্যস্ত রংপুরের মানুষজন।রংপুর মহানগরীর ফুটপাতগুলোতেও গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। অপেক্ষাকৃত কম দাম হওয়ায় সকল শ্রেণীর ক্রেতার ঝুঁকছেন ফুটপাতে। এভাবে প্রতিদিন রংপুরাঞ্চলে ঈদ উপলক্ষ্যে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি বেচাকেনা হচ্ছে। শুক্র, শনি ও রবিবার পর্যন্ত রংপুর মহানগরীর পায়রা চত্বর, কাচারি বাজার, জাহাজ কোম্পানি, সিটি বাজারের সামন, সদর হাসপাতাল, সুরভী উদ্যান, স্টেশন আলমনগর, হনুমানতলা ইসলামপুর, সালেক মার্কেট, লালবাগ,মর্ডাণ মোড়সহ বিভিন্ন ফুটপাতে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে তিল ধারনেরও ঠাঁই নেই।বৃষ্টিতে ভিজে নানা বয়সী ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষের ভিড়ে ঠাঁসা এসব ফুটপাত।
এসব ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে- শাড়ি থেকে শুরু করে পায়াজামা-পাঞ্জাবি, জিন্স, প্যান্ট, ফতুয়া, গেঞ্জি, থ্রিপিস, তৈরি পোশাক, শিশুদের পোশাক, টুপি, মানিব্যাগ, বেল্ট, জুতো, স্যান্ডেল, আতর, সুরমা, প্রসাধনীসামগ্রী, সেমাই, তেল, লবন থেকে ঈদের প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ। আছে বাহারি ডিজাইন ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডেরও জিনিসপত্রের।সরেজমিনে ফুটপাতের এসব মার্কেটে দেখা গেছে, অপেক্ষাকৃত দাম কম হওয়ায় এখানকার ক্রেতার তালিকায় যোগ হয়েছে বিত্তবানরাও। তবে অধিকাংশই দিনমজুর, শ্রমিক, রিকশা চালক এবং নিম্ন, মধ্য ও নির্ধারিত আয়ের মানুষ। রংপুর নগরীর লালকুঠি এলাকার গৃহবধূ সাদিয়া সুলতানা জানান, স্বামী কলেজে চাকরি করেন। জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় বছর পাঁচেক থেকে ফুটপাতেই ঈদের কেনাকাটা করি। একটু দেখেশুনে নিলে দাম কম পাওয়ার পাশাপাশি ভালো জিনিসও পাওয়া যায়।আবিদা সুলতানা মিতু জানালেন, সব জিনিস এখানে সাশ্রয়ী দামে কেনা যায়, তাই আসা। বিশেষ করে বিছানার চাদর দোকানে একটি কেনার টাকা দিয়ে এখানে ৩টি কেনা যায়।
আরেক ক্রেতা আশরাফুল আলম জানালেন, পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে একটা কাজও করি। বাবার হাতের অবস্থাও তেমন ভালো না। যে টাকা আমাকে দিয়েছে সেটি দিয়ে যদি বড় দোকানে গিয়ে পোশাক কিনি, তবে একটি হবে। আর এখানে একসাথে একই টাকা দিয়ে পায়জামা-পাঞ্জাবি ও জিন্সের প্যান্টশার্ট কিনলাম। ফুটপাতের বেচাকেনা নিয়ে দোকানিরা খুবই সন্তুষ্ট। বড় বড় বিপনী বিতানগুলোতে দোকানভাড়া বেশি হয়। কর্মচারী বেশি লাগে। হাইফাই ডেকোরেশন করতে হয়। পক্ষান্তরে ফুটপাতে এসবের বালাই নেই।
নগরীর সিটি বাজারের সামনের ফুটপাত ব্যবসায়ী আলম রায়হান মিজান জানান, গতবছরের চেয়ে এবার দাম বেশি হলেও ব্যবসা ভালো হচ্ছে। ফুটপাতে এখন আর শুধু গরিব মানুষ আসে না।
আরেক বিক্রেতা চাঁদ মিয়া জানালেন, ফুটপাতে জিনিসের দাম কম হওয়ার পেছনে মূলকারণ, আমরা কম লাভ করি, সেল বেশি করি। আমাদের তো স্টক করে রাখার কোন জায়গা নেই। ফলে ঈদ আসলে আমরা ভালোই লাভ করি।
রংপুর মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন জানান, ঈদে আমরা দোকান মালিকরা ফুটপাত ব্যবসায়ীদের ছাড় দিচ্ছি। এতে করে তারা লাভবান হচ্ছে এবং কম আয়ের লোকজনও ঈদের কেনাকাটা ভালোভাবে করতে পারছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল¬াহ আল ফারুক জানান, মানুষজন যাতে ঈদ উৎসবে ভালোভাবে কেনাকাটা করে ঘরে ফিরতে পারে সে জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত রংপুর নগরী এবং নগরীর বাইরে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি, ঘটবেও না।