Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ময়মনসিংহে কৃত্রিম প্রজননের টেংরামাছ উৎপাদন

mymensingh-fish-pic

এইচ এম মোমিন তালুকদার , ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে ব্যক্তিমালিকানাধীন ‘রুপালী হ্যাচারি অ্যান্ড ফিশারিজ’ সর্বপ্রথম টেংরা মাছের কৃত্রিম প্রজনন করে সফলতা অর্জন করে। হ্যাচারি মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ২০১৫ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে সর্বপ্রথম তিনি তার হ্যাচারিতে পাঁচ লাখ পোনা উৎপাদন করেন। এরমধ্যে তিন লাখ বিক্রি করেন এবং অবশিষ্ট দুই লাখ নিজের হ্যাচারিতে চাষাবাদ করেন।
চলতি বছরে তিনি মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত টেংরা মাছের কৃত্রিম প্রজননে রেণু ও পোনা উৎপাদন করে ৪০ কেজি রেণু ও ১৮ লাখ পোনা বিক্রি করেন এবং আরও প্রায় চার লাখ পোনা তাঁর হ্যাচারিতে আছে বলে জানান।
ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গত ২৬ অক্টোবর ওই হ্যাচারি পরিদর্শনের সময় সিস্টার্নে অসংখ্য পোনা দেখতে পান। তিনি জানান, হ্যাচারি মালিক জাহাঙ্গীর আলম ২০১০ সালে শিং মাছের পোনা উৎপাদন করে স্বর্ণপদক লাভ করেন।
দেশে যখন দিন দিন দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সে সময় কৃত্রিম উপায়ে বিলুপ্তপ্রায় টেংরা মাছের পোনা উৎপাদনে সফলতা অর্জন করে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা দেশে প্রথমবারের মতো এ সফলতা অর্জন করেন।
বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায় ৫৬টি ছোট মাছের মধ্যে টেংরা অন্যতম প্রজাতি। নানা কারণে প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হয় মাছটি। এরমধ্যে কীটনাশক প্রয়োগ অন্যতম। এ মাছ রক্ষায় বিএফআরআই ২০১৪ সন থেকে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদনের ওপর গবেষণা পরিচালিত করে।
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খন্দকার রশীদুল হাসান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শওকত আহমেদ ও মালিহা হোসেন মৌ এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন। গবেষণা করে তারা একটি মাছ ২০-২২ গ্রাম থেকে ৪০-৪৫ হাজার পোনা উৎপাদিত করতে সক্ষম হন।
এরপর তারা ওই পোনা চাষিদের মাঝে বিতরণ করেন। ১৮ আগস্ট উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ঢাকাস্থ একটি কর্মশালায় উপস্থাপন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংশি­ষ্ট মন্ত্রী ও সচিব। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদের কাছে প্রযুক্তিটি তুলে দেন বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। সেসময় তিনি বলেন, টেংরা মাছের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন বাংলাদেশে একটি নতুন সংযোজন।