Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২২ নভেম্বর ২০১৮

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু!

নভেম্বর ৫, ২০১৫
আন্তর্জাতিক, লাশ
No Comment

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট:malaybg_444963705

মালয়েশিয়া আসার চারদিনের মাথায় নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রেজাউন উর রহমানকে অবশেষে পাওয়া গেছে। তবে জীবিত নয়, মরদেহ।

কুয়ালালামপুর হসপিটালে তার মরদেহ দেখে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ক্যারাম এশিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হারুন আল রশিদ বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন কুয়ালালামপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে রেজাউনের চাচাতো বোন দিলরুবা সাংবাদিকদের বলেন, তার এ ধরনের কোনো অসুখ ছিলো বলে আমরা আগে শুনিনি। তাছাড়া ২২ অক্টোবর রাত থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত রেজাউন কোথায় ছিলো সেটাও অস্পষ্ট।

হারুন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের ভাষ্যমতে লজ গেস্ট হাউজের সিসিটিভির ফুটেজে তারা দেখতে পান, ২২ অক্টোবর রাতে খালি পায়েই বেরিয়ে যান রেজাউন।

এসময় তাকে উদভ্রান্ত দেখাচ্ছিল। এরপর ২৫ অক্টোবর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ৩ নভেম্বর মারা যান।

তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও ছাত্রটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিল। পুলিশ জানিয়েছে, যেহেতু তিনি হাসপাতালে বিনা নামেই নিবন্ধিত ছিলেন, তাই এর আগে খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মৃত রেজাউনকে সব প্রক্রিয়া শেষে গ্রামের বাড়ি নওগাঁয় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দিলরুবা। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলো রেজাউন। তার বাবাও দীর্ঘদিন জাপান প্রবাসী ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন।

রেজাউনের পাসপোর্ট নাম্বার বিই ০২৪২৪৯২। দিলরুবা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৯ অক্টোবর কুয়ালালামপুর এসেছিলেন তিনি। গত ২৩ অক্টোবর পরিবারের সঙ্গে শেষ যোগাযোগ করেন রেজাউন।

দিলরুবা আরও জানান, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে ১৯ অক্টোবর কুয়ালালামপুর পৌঁছান রেজাউন। এয়ারপোর্টে এফটিএমএস কলেজের প্রতিনিধি তাকে রিসিভ করেন এবং পরে কলেজের পাশে জালান হাং কাস্তুরিতে ব্যাকপেকার লজে আপাতত থাকার ব্যবস্থা করে দেন। রেজাউন কলেজটিতে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক কোর্সে ভর্তি হন। এসময় তিনি পরিবারকে এসব তথ্য জানিয়েছিলেন এবং +৬০১৪৩০৯৮৫৭৯ এর একটি ফোন নম্বর ব্যবহার করেছিলেন।

২৩ অক্টোবর ভাইবারে রেজাউন অস্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, এয়ারপোর্টে টিকিট চেকআপের পার্টটাইম চাকরি হয়েছে তার। কীভাবে এতো দ্রুত চাকরি হলো এবং বিস্তারিত জানতে তার দুলাভাই টেক্সট করলেও তার উত্তর ছিলো অস্পষ্ট।

২৫ অক্টোবর রেজাউনের পরিবার বাংলাদেশ থেকে ফোন দিয়ে জানান, ২৩ তারিখের পর থেকে তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। ভাইবার ও ফেসবুকেও নেই।

দিলরুবা জানান, ২৬ অক্টোবর তারা হোটেলটিতে খোঁজ নিয়ে সেখানে রেজাউনের ব্যাগ, পাসপোর্ট ও অন্যান্য জিনিসপত্র পেয়েছেন। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবরের পর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই।

কলেজের স্টুডেন্ট কাউন্সিলর আর্শাদ বাজওয়া জানান, রেজওয়ান সর্ম্পকে তারা কিছুই জানেন না। স্থানীয় থানায় এ সম্পর্কে অভিযোগ জানাতে ফোন দিলেও তারা একজন আরেকজনের নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে পুলিশ তাদের বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করতে বলেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করলে প্রথমে কর্তৃপক্ষ দিলরুবাদের থানায় ডায়েরি করতে বলেন। পরে দূতাবাস একটি লিখিত অভিযোগ জানাতে বলে।

সবশেষে রেজাউনের দুলাভাই তার এক সহকর্মীর সাহায্যে বন্দর সানওয়ে থানায় একটি রিপোর্ট দাখিল করেন।