Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারী অর্থায়নে ব্যাটমিন্টন খেলা

জুলাই ৩, ২০১৭
অনিয়ম, নওগাঁ
No Comment


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সরকারী অর্থায়নে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে শুধু শীত মওসুম ছাড়াও গ্রীষ্ম, বর্ষাকাল উপেক্ষা করে সারা বছর ধরে ব্যাডমিন্টন খেলা চলে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এতে বিদ্যুৎ বিল বাবদ সরকারের কোষাগার থেকে মাসে মাসে গচ্ছা যাচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকা। দেখার কেউ নেই। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। খেলোয়াড়রা প্রভাবশালী হওয়ায় সংঘর্ষের মতো ঘটনা ও ঘটার আশংকা করছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগ করে তারা ও নানা সংশয়ে রয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কিছু ডাক্তারের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে শিশু ওর্য়াডের প্রায় ৫মিটার পূর্ব দিকে ২০১৫ সালে প্রথমে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য কোর্ট তৈরি করা হয়। সেখানে ডাক্তার ভাস্কর চন্দ্র মন্ডল, ফজলে রাব্বি, ডাক্তার নজরুল ইসলাম, ডাক্তার ফাত্হে আকরাম, কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম, বিপুল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সুইপার বাদল ভক্তের ছেলে সুইপার হিরো নিয়মিত সেখানে ব্যাডমিন্টন খেলে আসছিলেন।
এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে মাঝে মধ্যে সেখানে ওয়ার্ড বয় আবদুল মজিদ, আবদুল হালিম ব্যাডমিন্টন খেলে থাকেন। এসময় সেখানে স্থানীয় প্রসাদপুর বাজারের অরুণ কুমার মন্ডল ও তার বড় ভাই দীপক কুমার মন্ডল মুকুল, নবাব, দেলুয়াবাড়ি থেকে আগত অপসোনিন কোম্পানীর মেডিক্যাল রিপ্রেনজেনটেটিভ রকি, ছোটবেলালদহ গ্রামের শফিকুল ইসলাম শফি, সৈকত,শাকিল সহ আরো অনেকে সেখানে নিয়মিত খেলে আসছেন। এক সময় ডাক্তার ফাতেহ আকরাম,নজরুল ইসলামসহ অনেক ডাক্তার সেখান থেকে বদলী হয়ে যান। পরে নওগাঁর সাবেক সিভিল সার্জন একেএম মোজাহার হোসেন (বুলবুল) এর সময়ে ২০১৬ সালের দিকে সেখানে ঐসব খেলোয়াড়ের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় টাকা চাঁদা তুলে সেখানে জমি দখল করে স্থায়ীভাবে একটি কোর্ট নির্মাণ করেন। বর্তমানে সেখানে নিয়মিতভাবে সন্ধ্যার পর থেকে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত ১৪০০ ওয়ার্টের বাল্ব জ্বালিয়ে চলে ব্যাডমিন্টন খেলা। এতে খেলোয়াড়দের উচ্চ স্বরে চিৎকার চেচাঁমেচিতে ভর্তিকৃত শিশুদেরও নানা ব্যাঘাত ঘটে থাকে বলে অনেক অভিভাবক অভিযোগ করলেও যেন দেখার কেউ নেই। তাছাড়া এসব খেলোযয়াড়দের সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান। মান্দা থানার মধ্যে পাকা কোর্ট থাকার পরও রাতে তার ডিউটি ফেলে সরকারী পুলিশ ভ্যান নিয়ে সরকারী টাকার তেল খচর করে সেখানে নিয়মিতভাবে ব্যাডমিন্টন খেলে আসছেন। ফলে যাও বন্ধ করার উদ্যোগ নিচ্ছিল সচেতন এলাকাবাসি। ওসির কারণে তাও বন্ধ করা যাচ্ছে না ব্যাডমিন্টন খেলা। কারণ ওসি বলে কথা! কে তার সাথে অযথা লাগতে যাবে?
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বিমলেন্দু কুমার খোকন সহ স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পণা কর্মকর্তা ডাক্তার মনোরঞ্জন মন্ডলকে অভিযোগ দিলে তিনি খেলা বন্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। তবে অভিযোগের পর দু’দিন খেলা বন্ধ থাকার পর গত শনিবার সন্ধায় আবারো ওসি’র সহায়তায় সেখানে খেলা শুরু করা হয়। ওসি নিজে ৬ কিলোমিটার দূর থেকে সরকারী পুলিশ ভ্যান নিয়ে সরকারী টাকার তেল খচর করে সেখানে রাত ৯টার পরে এসে খেলতে দেখা যায়। অভিযোগ করার কারনে ঐ খেলোয়াড়দের কেউ কেউ তার দোকানের ৪টি তালায় আঁঠা দিয়ে লেপ্টে দেয় বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মনোরঞ্জন মন্ডলকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, আমার আগে থেকে সেখানে হাসপাতালের জায়গা দখল করে ঐসব খেলোয়াড়রা নিজেরা টাকা তুলে পাকা কোর্ট তৈরি করেছেন। তখন কেউ বাধাঁ দেয়নি কেন? তাছাড়া সরকারী ভাবে বিদ্যুতের বিল দেয়া লাগে। অভিযোগকারী বা বাইরের কাউকে তো আর বিদ্যুতের বিল দিতে হচ্ছে না। এসব টাকা তো জনগণেরর ট্যাক্স-ভ্যাটের টাকা প্রশ্ন করলে তিনি জোর দিয়ে বলেন মাসে ৫০০/৭০০টাকা খরচ হলে এমনকি হয়। হাসপাতালের আরো অনেক টাকা তো বিভিন্নভাবে খরচ হয়ে থাকে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। সেখানে খেলা হয়। তাই তিনি মাঝে-মধ্যে একটু খেলে থাকেন। ছোট্র একটি বিষয় মন্ত্রী পর্যন্ত চলে গেছে বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার রওশন আরা খানম জানান, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বর্তমান অবস্থা: এ বিষয়ে জেলা সিভিল সাজন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মনোরঞ্জন মন্ডলকে নির্দেশ দিলে খেলা বন্ধে রোববার বেলা ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে অভিযুক্ত ওসিসহ তিনি আলোচনায় বসেন। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে ডাক্তার মনোরজ্ঞন মন্ডল বলেন, ওসি সাহেব তাকে জানিয়েছেন, বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহা: ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক পর্যন্ত চলে গেছে। তবে মন্ত্রী মহোদয় নাকি ওসিকে বলেছেন, তিনি আসা পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যেতে। তিনি আলোচনায় বসে ঠিক করবেন কি করা যাবে বলেও আরো জানান।