Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

মান্দায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে আদালতে মামলা

অক্টোবর ৩০, ২০১৭
অনিয়ম, নওগাঁ
No Comment


মোঃ হাবিবুর রহমান , মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর মান্দা উপজেলার ফতেপুর (২য়) বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালতের বিচারক বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। গত রোববার দুপুরে নওগাঁর সহকারী জজ আদালতের (মান্দা) বিচারক উৎপল ঘোষ নিয়োগ পরীক্ষার ওপর কেন নিষেধাজ্ঞার আদেশ মঞ্জুর করা হবে না এই মর্মে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মামলার ৮ জন বিবাদী সহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ফতেপুর (২য়) বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সোলাইমান আলী সরদার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে ফতেপুর (২য়) বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ খালি হয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই ও একই বছরের ২ আগস্ট বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে ১২ জন এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পরীক্ষা এবং ম্যানেজিং কমিটির রেজ্যুলেশন ছাড়াই নিয়ম বর্হিভূতভাবে ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে মামলার বিবাদী ফেরদৌস রহমানকে প্রধান শিক্ষক এবং আব্দুল লতিফকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেজ্যুলেশন তৈরি করে পছন্দের লোকদের দিয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে ফেরদৌস রহমান ও আব্দুল লতিফকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। নিয়োগের ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিক উল হক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে গত ২৭ ও ২৮ আগস্ট এবং ৬ সেপ্টম্বর ম্যানেজিং কমিটির ৭ সদস্য পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ গত সোমবার আবেদন করা সব প্রার্থীদের না ডেকে গোপন নিয়োগ পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করা হয়। মামলার বাদী সোলাইমান আলী সরদার বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির ৭ জন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেজ্যুলেশন গঠন করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পছন্দের লোক দিয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন করেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে কোনো যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই নামে মাত্র নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক দেওয়া। এই অনিয়ম বন্ধে আদালতের দ্বারস্ত হয়েছি।’প্রধান শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করেছেন কিন্তু কার্ড পাননি জাহাঙ্গীর আলম ও গাজী রহমান আলী বলেন, তাঁরা গত রবিবার দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ফতেপুর (২য়) বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আবেদন করা সত্তে¡ও তাঁরা কি কারণে কার্ড পাননি তার সঠিক কোনো উত্তর সংশ্লিষ্টদের কাছে পাননি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফতেপুর বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব আলী গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে ইত্তেফাকের প্রতিবেদক কে বলেন, নিয়োগে তিনি কোনো প্রকার আর্থিক অনিয়মের আশ্রয় নেননি। আর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেজ্যুলেশনের বিষয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা পদত্যাগ করার পর মান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেজ্যুলেশন করার কোনো সত্যতা পাননি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবেদন করেছেন এমন প্রত্যেক প্রার্থীর কাছে নিয়োগ পরীক্ষার কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা কার্ড পাননি বলে অভিযোগ করছেন তাঁরা মিথ্যা বলছেন। মান্দা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আদালত যে নির্দেশনা এখনও তিনি পাননি। তবে আদালতের নির্দেশনা হাতে পেলে সে মোতাবেক কাছ করা হবে। আদালতের নির্দেশনা হাতে না পেলে পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’ডিজি’র প্রতিনিধি নওগাঁ সরকারি কে.ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন বানু’র সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, কোর্টের উদ্ধে আমরা কেউ নই। কোর্ট এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত দিলে আমরা এ নিয়োগ পরীক্ষা নিতে পারব না।