Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মান্দায় বন্যায় বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত বানভাসী মানুষের আর্তনাদে এলাকার সর্বত্র হাহাকার

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : বানের পানিতে বাড়ি ঘর ডুবে যাওয়ায় গত ৫দিন থেকে পলিথিন টাঙিয়ে সপরিবারে বাঁধের রাস্তায় আছি। এখানে পরিবারের ৬জন সদস্যকে নিয়ে কষ্ট করে থাকা খাওয়া। এখানে রান্না ও গরু-ছাগল নিয়ে থাকা হচ্ছে। যা একটু খাবার ছিল এখন তাও প্রায় শেষের দিকে। সরকার থেকে এখানো কোন সাহায্য সহযোগীতা পাইনি। দুংখ করে কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার শামুকখোল গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ আইফা বেগমে।
শুধু আইফা বেগম না। এরকম রাস্তায় বসবাস করছেন একই গ্রামের ওসমান আলী, সেকেন্দার আলী, সুফিয়া বেগম, পশ্চিম নুরুল্লাহবাদ গ্রামের ফিরোজ হোসেন, হাফিজ উদ্দিন সহ কয়েকশ পরিবার। অনেকের বাড়ি ঘর বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় নৌকা ও কলা গাছের ভেলা করে বাড়ি থেকে তাদের মালপত্র রাস্তায় নিয়ে আসছেন।
নওগাঁর মান্দায় আত্রাই নদীর চকরামপুর, শহরবাড়ি (কয়লাবাড়ি) ও দ্বারিয়াপুর সুজনসখী খেয়াঘাটের পানি উন্নিয়ন বোর্ডের মূল বাঁধ (পাকা রাস্তা) ভাঙ্গনের ফলে ঐসব ভাঙ্গা স্থান দিয়ে প্রবল বেগে  প্রবাহিত হয়ে প্রসাদপুর, নুরুল্যাবাদ বিষ্ণুপুর, কালিকাপুর, কুশুম্বা, মান্দা ইউনিয়নের নতুন নতুন গ্রাম ও বির্স্তীণ ফসলের মাঠ তলিয়ে যাচ্ছে।


এছাড়া ফকিন্নী ও শিব নদীর বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। ৫দিন ধরে দ্বারিয়াপুর সুজনসখী খেয়াঘাটের মূল বাঁধ ভাঙ্গা দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমে ছোটবেলালদহ, বড়বেলালদহ, বড়পই, কামারকুড়ি পর্যন্ত বন্যার পানি এসে পৌঁচেছে।এতে প্রসাদপুর বাজারের সব ব্যবসায়ী তাদের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এসব ইউনিয়ন ছাড়াও ভাঁরশো তেঁতুলিয়া, পরানপুর, ভালাইন,গনেশপুর,কশব ও কাশোপাড়া,মৈনম ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের প্রায় ২ লাখ মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন এলাকার নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৫০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বাড়ি-ঘরসহ ফসলের মাঠ নিমজ্জিত হয়ে গেছে। চাদিকে শুধু পানি অঅর পানি। বানভাসী মানুষের আর্তনাদে এলাকার সর্বত্র হাহাকার বিরাজ করছে। আবার বানভাসী মানুষ, গবাদী পশু-পাখীর তীব্র খাদ্য ও পানীয় সংকট দেখা দিয়েছে। ৫দিন পেরিয়ে গেলেও বেশিরভাগ গ্রামে এখন পর্যন্ত কোন সরকারী ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি। ফলে এসব এলাকার অসহায় মানুষজন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। বানভাসী মানুষের তালিকা তৈরি করা হয়নি বলেও একাধিক বর্নাত্য মানুষজন জানান। অনেকে না খেয়ে থাকলেও তাদের দেখার কেউ নেই। সরকারী, এনজিওর কোন সাহায্য সময় মত না পৌঁছায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বাঁধ ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়া এসব বন্যা দূর্গত মানুষ।