Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

মান্দায় তিল চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা

জুলাই ৪, ২০১৮
কৃষি, নওগাঁ
No Comment

মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান : নওগাঁর মান্দা উপজেলায় এক সময় শস্য ভান্ডারখ্যাত হিসাবে মান্দায় বিস্তৃর্ণ মাঠ জুড়ে তিলের আবাদ করা হতো। তিলের তেলের চাহিদারও কমতি ছিল না । এখন নানা কারণে দিন, দিন তিল চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন এখানকার কৃষকেরা। ফলে এ উপজেলায় আশঙ্কাজনকভাবে কমতে শুরু করেছে তিলের আবাদ। উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ উপজেলায় তিলের আবাদ করা হয়েছিল ৯০ হেক্টর জমিতে । আর চলতি মৌসুমে কমে তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭০ হেক্টরে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১ বিঘা জমিতে তিল চাষ করলে ৪-৫ মণ ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে মণ প্রতি তিলের বাজার দর ১হাজার ৮শ টাকা থেকে ২হাজার টাকা। আর বিঘাপ্রতি তিল উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয় প্রায় ২হাজার ৮শ থেকে ৩ হাজার টাকা । এতে লাভের মুখ দেখতে পায় না কৃষকেরা। তাছাড়া বাজারে এখন আর আগের মতো তিলের তেলের চাহিদাও নেই। তিলের তেলের পরিবর্তে মানুষ সরিষা ও সয়াবিন তেল ব্যবহারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে পাটের নায্য মূল্য পাওয়ায় পাটচাষ ও বিদেশী জাতের সবুজ ঘাসের (জাম্বু-গ্যামা) আবাদ করছেন তারা। তাছাড়া এ অঞ্চলটি দেশের প্রধান দুগ্ধ উৎপাদন এলাকা হওয়ায় এখানে সবুজ ঘাসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ উপজেলার নি¤œ অঞ্চলে বন্যার পরবর্তী মৌসুমে জমিতে একবার খেসারি বুনার পর সবুজ ঘাসের আবাদ করা হয়। এটি একবার বুনে জমিতে বন্যার পানি আসা পর্যন্ত ৪-৫ বার কাটা যায়। কৃষকেরা বন্যার সময় গবাদিপশুকে ধানের খড় এবং অন্য সময় সবুজ ঘাস হিসেবে জাম্বুঘাস খাইয়ে থাকেন। উপজেলার জ্যোতবাজার গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বললে তারা প্রতিবেদক জানান, তিল চাষে কৃষকেরা লাভের মুখ দেখতে পায়না। তাছাড়া এলাকায় সবুজ ঘাসের আবাদের ফলে এখানে তিলের আবাদ কমতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারে মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন,‘অন্যান্য ফসলের তুলনায় তিল চাষ অলাভজনক হওয়ায় আবাদ কম হয়েছে। তবে ডাল,তেল ও মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষক উদ্বুদ্ধকরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’